ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

মা ইলিশ সংরক্ষণে ১১১ এমপিকে নির্দেশনা 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
জালে আটকা ইলিশ। পুরোনো ছবি

মা ইলিশ সংরক্ষণে ১১১ এমপিকে নির্দেশনা (ডিও লেটার) দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট এমপিদের কাছে এ ডিও লেটার প্রেরণ করা হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ৩৮টি জেলার এসব সংসদ সদস্যকে ডিও লেটার প্রদান করেন মন্ত্রী।

ডিও লেটারে মা ইলিশ সংরক্ষণে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, জাতীয় মৎস্যসম্পদ ও ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পুষ্টিনিরাপত্তা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, অভিযান চলাকালে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় আইনত নিষিদ্ধ। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যতে এ সম্পদের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সফলতা কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল নয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিও লেটারে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সামাজিকভাবে সুপরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।

এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের অভিযান বাস্তবায়নে সহযোগিতা, জেলেদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
উজবেকিস্তানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে আলোচনায় বাংলাদেশ
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৫২তম সম্মেলনের সাইডলাইনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন উভয় পক্ষ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এখানে জানানো হয়, বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন উভয় পক্ষ। বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাব্য উপায় হিসেবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করেন দুই মন্ত্রী। এ ছাড়া আকাশপথে যোগাযোগ, পর্যটন এবং দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও তাঁরা মতবিনিময় করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ অনুসন্ধানে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন উভয় পক্ষ। বৈঠকে বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একে অপরকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে দুই দেশের আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ১৭ থেকে ১৮ অক্টোবর বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শনিবার অধিবেশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় তিনি বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আরটিভি/টিআর
উজবেকিস্তানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে আলোচনায় বাংলাদেশ
‘কোনো সরকার বা বিশেষ ব্যক্তির জন্য নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে তথ্য কমিশন’
তথ্য কমিশন কোনো সরকার বা বিশেষ ব্যক্তির জন্য নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান তথ্য কমিশনার ড. নাহরিন ইসলাম খান। 
‘কোনো সরকার বা বিশেষ ব্যক্তির জন্য নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে তথ্য কমিশন’
‘পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব’
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে সড়কের পাশে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব’
দেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে : চিফ হুইপ 
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেতাগি উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন।   তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।  তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য বা অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।  চিফ হুইপ বলেন, বেতাগী উপজেলার সব মন্দিরে এক মেট্রিক টন করে চাল ও পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। যেসব মন্দিরে যাতায়াতের রাস্তা নেই, সেখানে রাস্তা নির্মাণ এবং যেসব মন্দিরে নিজস্ব ঘর নেই, সেগুলোতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ৮৯ শতাংশ সম্পদ দখল করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নেই এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বেতাগীকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। এ লক্ষ্যে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক, এমনকি বিএনপির নেতাকর্মী হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে কোনো কর্মকর্তা অর্থ আদায় বা অনিয়ম করলে তা আমাকে জানাবেন। প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। সভায় অনুপস্থিত থাকায় পৌরসভার প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি। বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, উপজেলার পানির সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন অনুযায়ী টিউবওয়েল সরবরাহ করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ সম্প্রসারণ ও বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার কথা জানান। এসএসসি পরীক্ষায় কম পাস করা স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান পর্যালোচনা, সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।  মাদ্রাসা পরিদর্শনের পর দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন তিনি। শিক্ষার মানোন্নয়নে ভালো কাজ করা সেরা তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন চিফ হুইপ। কৃষকদের জন্য সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকির নির্দেশ দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সার ডিলারদের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রকৃত উপকারভোগীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বিগত সরকারের আমলে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে বিপুল অর্থ লুটপাটের কারণে বিদ্যুৎ খাতে সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এসব সংকট সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সভায় সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় ৩৭ জনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া আগামী এক বছর উপজেলায় ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নিজস্ব অর্থায়নে তিনজনকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন চিফ হুইপ। সভায় উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
দেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে : চিফ হুইপ 
আমিনবাজারে ময়লার ভাগাড় থেকে দৃষ্টিনন্দন বাগান, প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা
একসময় ছিল বর্জ্যের বিশাল পাহাড়, দুর্গন্ধ আর মারাত্মক পরিবেশদূষণ সহ্য করা কঠিন ছিল। দুই দশকের সেই চেনা রূপ বদলে সেখানে শোভা পাচ্ছে হাজারো সবুজ গাছপালা ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ।ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ময়লার ভাগাড়ের স্থান সংস্কার করে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান প্রকল্প ‘রূপান্তর’।  প্রধানমন্ত্রী রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে সড়কের পাশে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো এলাকাকে মানুষের কল্যাণে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকার আমিনবাজারে গত দুই মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এর বড় প্রমাণ। তিনি বলেন, পরিবেশের সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয়জনগণকে দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা থাকলে পরিবেশদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই মাস আগে আমিনবাজার এলাকার যে অবস্থা ছিল, বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।এতে এলাকাটি যেমন দৃষ্টিনন্দন হয়েছে, তেমনি আশপাশের মানুষের জন্য অপেক্ষাকৃত সুন্দর পরিবেশে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ তিনি এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা বেগমসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তারেক রহমান বলেন, সরকারের উদ্যোগে একটি এলাকাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখন সেই সৌন্দর্য ও পরিবেশের উন্নয়ন ধরে রাখার দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিতে হবে। সবাই সহযোগিতা করলে এলাকাটিকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা জেলা প্রশাসককে আমিনবাজারের আশপাশে ঢাকা জেলার আওতাধীন এলাকায় সবুজায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে বলেন। তিনি বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল ও কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট কিছু জায়গার পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে যেসব স্থানে এখনো ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে, সেসব জায়গা উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিতভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আমিনবাজার ও এর আশপাশের এলাকার সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ কমিয়ে স্থানীয় মানুষের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের প্রতিও আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন নির্মল পরিবেশে বুকভরে শ্বাস নিতে পারে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক আমিনবাজারে পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য জেলার জেলা প্রশাসকরাও নিজ নিজ এলাকার অনুরূপ স্থানগুলোকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির আওতায় ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
আমিনবাজারে ময়লার ভাগাড় থেকে দৃষ্টিনন্দন বাগান, প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা
আরও পড়ুন
মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে কোস্ট গার্ড
বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনার ব্যবসার লাইসেন্স নিয়ে নতুন নির্দেশনা
বিউটি বোর্ডিং: সংরক্ষণের অভাবে হারাচ্ছে ঐতিহ্য
পচা ডিমের জন্য বেকারিতে ছিল ‘বিশেষ ব্যবস্থা’, জরিমানা লাখ টাকা