
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভুল সংশোধন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ভোগান্তিতে পড়ছেন নাগরিকেরা। নাম, জন্মতারিখ ও বাবা-মায়ের পরিচয়ে ভুল থাকায় চিকিৎসা, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কাজে সমস্যায় পড়ছেন তারা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের একজন ৭৬ বছর বয়সী উজ্জ্বল রানী সাহা। ২০১৭ সালে আবেদন করেও সংশোধন না হওয়ায় সম্প্রতি লাঠিতে ভর দিয়ে নির্বাচন ভবনে যান তিনি। এনআইডিতে নিজের জন্মতারিখ, নিজের ও স্বামীর নামের বানানে ভুল থাকায় পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে পারেননি তিনি। ফলে ভারতে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো সম্ভব হয়নি।
শহিদুল ইসলামের এনআইডিতে নিজের নামের জায়গায় লেখা হয়েছে মাকসুদুর রহমান। বাবা-মায়ের নামও ভুল। ২০২৪ সালে আবেদন করেও সমাধান না পেয়ে চলতি বছরের জুনে ইসি সচিবের কাছে আপিল করেছেন তিনি। মনির হোসেনের অভিযোগ, তার এনআইডিতে ফুফাতো ভাইয়ের নাম, পরিচয় ও বয়স যুক্ত হয়েছে। আর শাকিল হোসেনের আবেদন দুবার বাতিল হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে সংশোধনের জন্য ঘুরছেন তিনি।
এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (পরিচালনা) সাইফুল ইসলাম জানান, অপেক্ষমাণ আবেদনের মধ্যে মহাপরিচালকের এক্তিয়ারভুক্ত ৬৯ হাজার ২৫২টি রয়েছে। অধিকাংশ আবেদন নাম ও বয়স সংশোধনসংক্রান্ত।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জালিয়াতি করে অসৎ সুবিধা নেওয়ার আশঙ্কা থাকায় নাম ও বয়স সংশোধনে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
এনআইডি মহাপরিচালক এইচ এম আনোয়ার পাশা জানান, প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা অনেক কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।
আরটিভি/এমএইচজে


