ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার কথাও বলেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এই রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মটা হতেই পারে আমার একটি ধর্ম, আপনার একটি ধর্ম। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।’

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে আমরা একে অপরকে দেখে রাখব। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। এটি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে আগের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনো জিজ্ঞেসও করিনি।’

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছিল, মানুষ যখন তার রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল, তখনো কিন্তু আন্দোলনকারী একজন পাশের জনকে জিজ্ঞেস করেনি, ভাই আপনি কি মুসলমান, নাকি আপনি হিন্দু, নাকি আপনি বৌদ্ধ, নাকি আপনি খ্রিস্টান? কেউ তো জিজ্ঞেস করেনি। সবাই সেদিন সোচ্চার ছিলাম মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বেশি দিন আগের কথা নয়। এই তো মাত্র আড়াই বছরও হয়নি বোধ হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। চোখটা বন্ধ করলেই আমাদের চোখের সামনে সবগুলো দৃশ্য ভেসে ওঠে। সেই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ?’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। এই যে যারা শহীদ হয়েছেন, আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি। সেখানে তো হিন্দু মানুষও আছে, মুসলমান মানুষও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিস্টানও আছে। সকলেই তো সেদিন জান কোরবানি দিয়েছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’

দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশটির যদি পরিবর্তন ঘটে, এ দেশের মানুষের যদি পরিবর্তন ঘটে, তাহলে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, আমিও উপকৃত হব।’

তিনি বলেন, ‘যখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন যেমন দেখে না কোন ধর্মের মানুষ, যখন মানুষ ভালো থাকে, তখনো মানুষ দেখে না। শুধু দেখে আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। একজন আরেকজনকে আমরা চিনি, জানি এই দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি হিসেবে।’

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা।’

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। 
জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
শিক্ষায় প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিকতা নিশ্চিতের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্বকে এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যেন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির অগ্রগতি সততা, নৈতিকতা এবং মানবিক মর্যাদার মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে।
শিক্ষায় প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিকতা নিশ্চিতের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, ‘একটি শিশুও বিদ্যালয়ের বাহিরে থাকবে না।’
বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
পতিত সরকারের আমলে আলেমদের অকথ্য নির্যাতন করা হতো: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,  ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন ও কারাগারে দুঃসহ বন্দিজীবনে রাখা হতো।
পতিত সরকারের আমলে আলেমদের অকথ্য নির্যাতন করা হতো: রাষ্ট্রপতি
১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করবে জাপান
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের প্রায় এক বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ গত ১৭ অক্টোবর উভয় দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন চুক্তি ‘ইএসডিপি-এমওসি’ (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চূড়ান্তভাবে সই হয়েছে।  রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বাংলাদেশের পক্ষে এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা জাপানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এসব তথ্য জানানো হয়। চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে চুক্তিটির সামগ্রিক মেয়াদ হবে ১০ বছর। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চ বেতন ও জাপানে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী বিদেশি কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা বা তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ কারণে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যতামূলক বিধানও চুক্তিতে রাখা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মাধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। আরটিভি/এমএ  
১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করবে জাপান
আরও পড়ুন
পূজার ছুটিতে মেট্রোরেলের সূচিতে পরিবর্তন
বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: দীনেশ ত্রিবেদী
সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন
প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড যেন ম্লান না হয়, সেজন্য পদত্যাগ করছি: ইশরাক