ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

টোকিওতে বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী  

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রসারের লক্ষ্যে আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

চার দিনের আসন্ন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জাপান থেকে বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

অন্যদিকে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হালনাগাদ মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) বাস্তবায়নে সমন্বয়ও বাড়বে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার সঙ্গে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ ও নীতির মিল রয়েছে।

এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পারে অথবা নতুন কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা জানাতে পারে।

সূত্রটি আরও বলে, চ্যালেঞ্জিং সময়েও জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে এবং এ বাজার থেকে সরে যায়নি।

কয়েকটি কোম্পানি সফরকালে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, সফরের সময় কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে।

সফরের সময় এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিম এবং চিফ অব প্রটোকল এ এফ এম জাহিদ উল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জাপান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশটি।

গত এপ্রিলে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি-সংক্রান্ত সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ কোনো একক দেশের পক্ষে একা তা সমাধান করা সম্ভব নয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অনলাইনে ওই বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এবার এ সফরের মাধ্যমে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া ও সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও সিয়াম আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ বাড়বে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে জাপানের সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরেও দুই নেতা বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত অবসানে যৌথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন সিয়াম।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

সিয়াম বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যোগাযোগ, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে।

এছাড়া দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। এই কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চলছে।

এ সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন সচিব।

বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার জন্য আসন্ন সফরকে সময়োপযোগী সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাপানের চিবা প্রিফেকচারের কাৎসুরা শহরে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লো সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছেন, দেশের ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা পাবেন ১০ ধরনের সুবিধা। কৃষিকে লাভজনক করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী
আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছুই নয়। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই ঝাপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে; সেভাবেই ২৪ এর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে।
আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন / বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে 
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলি ও ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নতি হয়েছে ও সহিংসতা কমেছে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে 
চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৭টা ৪০ মিনিটে একটি সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—যারা এই স্লোগানে বিশ্বাস করে না, যারা এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে।  তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায়, কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে এই হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে—যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে, যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে, জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হওয়ার। আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাব, আজকে থেকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। যাতে করে বাংলাদেশের অর্থনীতি, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের যে পরিবর্তন, সেটি পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। তিনি বলেন, সোমবার একটি অনুষ্ঠান ছিল ঢাকায়। অনুষ্ঠানটি ছিল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল, শত শত ছাত্রকে, শত শত সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে দিয়ে গিয়েছিল। সেই সকল শহীদের স্মরণে আমরা সোমবার ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। ২৪-এ যে শহীদ পরিবার আছে, জুলাই যোদ্ধা যারা আছে, তাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। যে সকল জুলাই যোদ্ধা আহত হয়েছেন, তাদেরকে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। তারেক রহমান বলেন, আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে সেদিন দাওয়াত দিয়েছিলাম, যারা মুখে বলে ২৪-কে তারা ধারণ করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? এমনকি জুলাই শহীদদেরকে সম্মান জানানোর জন্য, তাদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করার জন্য, তাদেরকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সকল দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ ৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, ২৪-এর জুলাই আন্দোলনকেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, তাদের কর্মে আরেকটি প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন চায় একটি স্থিতিশীলতা, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বাংলাদেশের জনগণ চায় শান্তিতে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সোজা কথায় যদি বলি, বাংলাদেশের জনগণ একদিকে যেমন চায় গণতান্ত্রিক চর্চা করতে, একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ চায় কর্মসংস্থানসহ শান্তিতে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক অধিকার যেমন বাংলাদেশের মানুষ চায়, রাজনৈতিক অধিকারও একই সঙ্গে মানুষ চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেভাবে ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জনগণকে তাহলে বিএনপির প্রতি সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। যাতে সেই সকল ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল, যারা ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই জনগণকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, যখনই তারা সুযোগ পেয়েছে, তখনই দেশকে তারা ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে এই যে রাজশাহীতে যে পদ্মা নদী আছে, আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের এই পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে বাংলাদেশের দুটি বড় নদী আমাদের, একটি হচ্ছে তিস্তার ওখানে, উত্তরে; আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারাজ তৈরি করব, যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি। তিনি আরও বলেন, এই পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয়, আমরা চেষ্টা করব। ততদূর যেতে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আরটিভি/এমএম
দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন
৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী
জাপানে ওলিস’র সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন জেনিথ ইসলামি লাইফের সিইও
আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী