ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

যেসব স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল ৭ নভেম্বরের রাজপথ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’এমন নানা স্লোগানে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর উত্তাল হয়ে উঠেছিল ঢাকা সেনানিবাস ও রাজধানীর রাজপথ। ব্যারাক ছেড়ে রাজপথে নেমে আসেন সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকেরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন সাধারণ মানুষ। স্লোগানে স্লোগানে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহ ও সংহতির বার্তা।

একপর্যায়ে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটির ঘটনাপ্রবাহে স্লোগানগুলো হয়ে উঠেছিল সৈনিকদের ক্ষোভ, আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রকাশ।

৬ নভেম্বর রাত থেকে ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে ঢাকা সেনানিবাসে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে বিদ্রোহের সূচনা হয়। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ এবং ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়াউর রহমানের মুক্তি চাই’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সেনানিবাস। দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহের খবর। সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে এসে সৈনিকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

সেদিন রাজপথে শোনা যায়, ‘সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ’, ‘জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’ এবং ‘সিপাহি-সিপাহি ভাই ভাই’এমন নানা স্লোগান। বিদ্রোহী সৈনিকেরা স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান জিয়াউর রহমানের বাসভবনের দিকে। সেখানে গিয়ে তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করেন তারা।

এ সময় সৈনিক ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’ স্লোগান। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উচ্চারিত হয় ‘সৈনিক সৈনিক ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই’ স্লোগানটিও। এসব স্লোগানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাবাহিনীর ভেতরের টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র ফুটে ওঠে।

জিয়াউর রহমান মুক্ত হওয়ার পর ৮ নভেম্বর থেকে সেনানিবাসে সৈনিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে শুরু করেন। বিভিন্ন সমাবেশে তিনি সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। ওই দিন বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের চতুর্থ বেঙ্গলের লাইনের কাছে সৈনিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

সে সময় সেনানিবাসের অধিকাংশ সৈনিক ছিলেন সশস্ত্র। জিয়াউর রহমান তাদের অস্ত্র জমা দিয়ে নিজ নিজ ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সৈনিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে স্লোগানগুলো ছিল বিদ্রোহের ভাষা, সংহতির প্রকাশ এবং তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’ থেকে ‘জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’প্রতিটি স্লোগানই ধারণ করেছিল সেই সময়ের অস্থিরতা, আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষমতার পালাবদলের বার্তা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিত। দিনটি ঘিরে উচ্চারিত স্লোগানগুলো আজও সেই সময়ের রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করিয়ে দেয়।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস / বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
নয়াপল্টনে ঘোড়ার গাড়ি ও হাতির উপস্থিতি উৎসুক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন শোভাযাত্রায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রা পূর্ব সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টার একটু আগে সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। সমাবেশ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলো থেকে মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসছেন নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে রয়েছে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তুলেছেন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা। শোভাযাত্রায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। কর্মসূচি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন দলের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা। পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে ঢাকা ছাড়াও আজ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা করবে বিএনপি। ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে একই কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। আরটিভি/এসকে
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস  / শোভাযাত্রার জন্য নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শোভাযাত্রার জন্য নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে  রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা
গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা বাড়াল সরকার
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন ও অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা বাড়াল সরকার
আরও পড়ুন
‘আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল; সমস্ত অবদান জিয়াউর রহমানের’
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্যের মৃত্যু
শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালু করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
টেকনাফে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি, সেনা সদস্য আহত