ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে পৌঁছাবে: শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:৪৩ পিএম

বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি পরবর্তী তিন বছরে নতুন গতি পাবে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে পৌঁছাবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে সাক্ষাৎকার দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ‘স্বল্পোন্নত দেশের’ তকমা থেকে বের হয়ে আসবে বাংলাদেশ।

গত প্রায় এক দশক ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে এই হার ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে পৌঁছে।

শেখ হাসিনা বলেন, চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে এবং এই হার বাড়তেই থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন সব কর্মসূচি গ্রহণ করেছি যে আবার নির্বাচিত হলে ২০২১ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।’

কয়েকটি নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা। বর্তমানে এই একশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ১১টি অঞ্চল পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে এবং আরও ৭৯টি অঞ্চল তৈরির কাজ চলছে।

নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ বলছে, এই নির্বাচন শেখ হাসিনার জন্য কঠিন পরীক্ষা। আগের নির্বাচনে তার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখলেও ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপির নেতৃত্বে থাকা খালেদা জিয়া জেলে অবস্থান করলেও এবার তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। কিন্তু বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, ৩০০ আসনের মধ্যে বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হবে আওয়ামী লীগ।

আগামী বছর দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ। দীর্ঘকালীন অর্থনৈতিক বিস্তারে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৭ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে যার ৫৮ শতাংশই আসছে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে। এ কারণেই জ্বালানির চাহিদা পূরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ছাড়াও পারমাণবিক শক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের দিকে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।

২০০৯ সালের শুরুতেই ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শেখ হাসিনা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ‍উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২১টি। এছাড়া, তিনি ক্ষমতায় আসার আগে দেশের ৪৭ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছালেও তার দুই মেয়াদের শাসনামলের শেষ দিকে এসে এখন দেশের প্রায় ৯৩ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই দেশের শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে শেখ হাসিনার।

বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করছে রাশিয়া ও ভারত। শেখ হাসিনা বলেন, দুটি রি-অ্যাকটরের মাধ্যমে এখান থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ২০২৪ সালে এর উৎপাদন শুরু হবে।

দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখনও উপযুক্ত স্থান খুঁজছি। এক্ষেত্রে দেশের সবচেয়ে দরিদ্রাঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি দক্ষিণাঞ্চলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

জমি অধিগ্রহণ হয়ে গেলে নির্বাচনের পর দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রস্তাবনা আহ্বান করবে বাংলাদেশ। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ বলছে, এরই মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহায়তার আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার এবং যৌথ উদ্যোগের আওতায় আরও এক হাজার ২৬০ কোটি ডলার সহায়তার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ২৫ শতাংশ মালিকানার অংশীদার হয়েছে চীন। চীনের সামরিক অস্ত্রেরও অন্যতম বড় ক্রেতা বাংলাদেশ।

তবে ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে ‘সুসম্পর্কে’র ওপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ‘গ্রহণযোগ্য ও স্বস্তিকর’ প্রস্তাবকেই বিবেচনা করবে বাংলাদেশ, সেটা যে দেশেরই হোক না কেন।

গত বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সংখ্যালঘু প্রায় ৮ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয়দানের বিষয়টির নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি নাগরিক উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছিলেন। তাদের আশ্রয় দিয়েছিল ভারত। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রতি বাংলাদেশ সহমর্মিতা দেখিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়েছে।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি খুবই ভাগ্যবান যে মানুষ আমার ওপর আস্থা রেখেছে। আমি আমাদের জনগণকে বলেছিলাম প্রয়োজন হলে আমরা খাবার ভাগ করে খাবো। তারা এটা মেনে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের কাজ করেছি। আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি, খাবার সরবরাহ করছি, স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি এবং শিশু ও নারীদের যত্ন নিচ্ছি।

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সম্মতিতে পৌঁছায়। কিন্তু প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচিত রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। শেখ হাসিনা জানান, কিছু রোহিঙ্গাকে পাশের একটি দ্বীপে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে ওই দ্বীপটি রোহিঙ্গাদের জন্য কারাদ্বীপ হয়ে উঠবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। যদিও তিনি এই উদ্বেগ প্রত্যাখান করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই দ্বীপটি খুবই সুন্দর। গৃহপালিত পশুপালনের জন্য স্থানীয় জনগণ এই দ্বীপ ব্যবহার করে থাকে। রোহিঙ্গারা বরং এই দ্বীপে আরও ভালোভাবে বাঁচতে পারবে। তাদের সন্তানেরা শিক্ষা পাবে, স্বাস্থ্যসেবা পাবে। আমরা এরই মধ্যে একটি ওয়্যারহাউজ তৈরি করেছি, যেন সেখান থেকে তাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে পারি। বর্তমানে আমরা এক লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবাসনের ব্যবস্থা করছি। তবে সেখানে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকেও নিয়ে যেতে পারবো।

কোনও রোহিঙ্গাকেই জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না বলে আবারও নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি সুরাহা করার জন্য অন্যান্য দেশ ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার কিভাবে তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে পারে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন এ বিষয়ে সমাধানের পথ বের করতে হবে।

আরও পড়ুন :

ডি/ জেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাহাথির মোহাম্মদ, দ্য মুসলিম ম্যান অব দ্য ইয়ার
দ্য মুসলিম ম্যান অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। জর্ডান-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্য রয়্যাল অল আল-বাইত ইনস্টিটিউট ফর ইসলামি থট’র শাখা দ্য রয়্যাল ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিমের তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন তিনি। ‘দ্য মুসলিম ৫০০’ নামের এই ওয়েবসাইটে  প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ৯৩ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়স্ক সরকার প্রধান হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়া মাহাথিরের অর্জনগুলো তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, এই সম্পূর্ণ অসাধারণ মানুষের আছে ৭০ বছরের একটি গতিশীল রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। পাশাপাশি তিনি ১৭টি বই প্রকাশ করেছেন। এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি স্মৃতিচারণমূলক। বাকি বইগুলো মালয়েশিয়ার শাসনপদ্ধতি এবং অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান সংক্রান্ত। প্রতিবেদনটিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহাথিরের প্রথম মেয়াদটাকেই বেশি হাইলাইট করা হয়েছে, যা ২২ বছর ধরে স্থায়ী ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা খাতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। এটির শেষে বলা হয়, ৯৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের আছে দুটি হার্ট অ্যাটাক এবং একটি বাইপাস সার্জারির ইতিহাসও, যেগুলো মোটেও তাকে দমাতে পারেনি। দ্য রয়্যাল ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সৈন্যের গালে চড় মারা ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমিকে মুসলিম ৫০০ উইম্যান অব দ্য ইয়ার তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি সেনারা বাড়ি থেকে তামিমির ভাইকে ধরে নিতে এলে সে তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে এক সেনাকে চড় মারে তামিমি। এজন্য তাকে তখন গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের মার্চে বিচার শেষে তামিমিকে আট মাসের কারাদণ্ড দেন ইসরায়েলি আদালত। জুলাই মাসে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। আরো পড়ুন :  রাশিয়ায় ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত চার, নিখোঁজ ৬৮ কে/ এমকে
মাহাথির মোহাম্মদ, দ্য মুসলিম ম্যান অব দ্য ইয়ার
গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ইতিহাসে এই নির্বাচন মাইলফলক হয়ে থাকবে: রাষ্ট্রপতি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বললেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় আজ এ কথা বলেন তিনি। খবর বাসস। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে আমি আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি দেশবাসীসহ বিজয়ী সকল প্রার্থীকে। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে, যাদের সক্রিয় সহযোগিতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি বলেন, এ নির্বাচন সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়ন-অগ্রগতির পক্ষে জনগণের মতামতের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি তথা সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীচক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সে স্বপ্ন স্তব্ধ করে দেয়। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের চাকা উল্টোপথে চলতে শুরু করে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেন। বাংলাদেশ এগুতে থাকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে। ২০০১ সালে এ ধারা থেমে গেলেও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আবারো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাঁর প্রজ্ঞা ও সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পার আলোকে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সার্বিক অর্জনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব গোটা জাতি এ দু’টি উৎসব অত্যন্ত উদযাপন করবে, ইনশাল্লাহ। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। শেখ হাসিনার বিচক্ষণ ও গতিশীল নেতৃত্বে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসিক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হোক- এ আমার একান্ত কামনা। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। আরো পড়ুন :  প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি   এমকে
গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ইতিহাসে এই নির্বাচন মাইলফলক হয়ে থাকবে: রাষ্ট্রপতি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক করলো যুক্তরাজ্য
বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন পর এদেশে অবস্থানরত নাগরিকদেরকে সতর্ক করলো যুক্তরাজ্য সরকার। সোমবার ব্রিটিশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বার্তায় তাদেরকে এই সতর্কতামূলক পরামর্শ দেয়া হয়। এতে বলা হয়, রোববার বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে এবং নির্বাচনের দিন সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। রাজনৈতিক সমাবেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটতে পারে। আপনাদেরকে বড় ধরনের জমায়েত এবং রাজনৈতিক সমাবেশ এড়িয়ে চলার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় এই বার্তায়। আরও বলা হয়, সাধারণত বাংলাদেশে গমনেচ্ছুদেরকে এক মাসের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া হয় কিন্তু গত ২৪ ডিসেম্বর পাওয়া কিছু প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেশকিছু ভ্রমণকারীকে এর চেয়েও কম সময়ের ভিসা দেয়া হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থাকলে আপনাদেরকে জরিমানা গুণতে হবে। এমনকি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে আপনাদের ভিসা। এদিকে দ্য ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস(এফসিও) ভ্রমণকারীদেরকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম (বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) এলাকায় ভ্রমণ না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এর আওতায় নেই চট্টগ্রাম শহর বা বিভাগটির অন্যান্য জায়গা। ব্রিটিশ সরকারের এই বার্তায় বলা হয়, সম্ভবত বাংলাদেশে একাধিক হামলা চালানোর চেষ্টা করছে সন্ত্রাসীরা। এসব হামলার হুমকিতে আছে দেশটির সব অঞ্চলই। তবে এর আগে বেশ কয়েকটি হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে সফল হয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। তারা এখন আরও সতর্ক। ভ্রমণের আগে ভ্রমণকারীদেরকে সমন্বিত ভ্রমণ এবং মেডিকেল ইনস্যুরেন্স সংগ্রহ করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে এই সতর্ক বার্তায়। প্রসঙ্গত, প্রতি বছর এক লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিক বাংলাদেশে ভ্রমণ করে। বেশিরভাগ ভ্রমণকারী ঝামেলা ছাড়াই ভ্রমণ করেন। কে/পি
বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক করলো যুক্তরাজ্য
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
আরও পড়ুন
ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের দোষে সাতটি আসন পেয়েছে: শেখ হাসিনা
বিজয়ের মাসে আরেক বিজয়: শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর
আজ বিকেলে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন