মহামারি আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২০২২ সালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাখাত। বছরের শুরুতে ওমিক্রনের বিস্তারে বন্ধ করতে হয় সব প্রতিষ্ঠান। করোনা ও সিলেটে বন্যার কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। সবকিছু মিলিয়ে এ বছর শিক্ষাখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় ২০২২ সালের উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা নিয়ে আজকের আয়োজন।
তথ্যমতে, ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে ২০২২ সালের শুরুতেই বন্ধ করতে হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যা বন্ধ থাকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাশ শুরু হয় আরও দেরিতে ২০ মার্চ।
এ দিকে মাধ্যমিকের যেসব শিক্ষার্থী করোনার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে, তারাই কেবল ক্লাসে যেতে পেরেছে। তবে সে সময় ১২ বছরের বেশি বয়সী অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দ্বিতীয় ডোজ পায়নি। ফলে ব্যহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম।
শিক্ষায় ক্ষতি কাটাতে যখন অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার কথা, তখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে আগস্ট থেকে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়িয়ে দুদিন করতে হয়। জুনের মাঝামাঝি সিলেট অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণে এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে নেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর।
এইচএসসি শুরু হয় ৬ নভেম্বর থেকে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর আগেই শিক্ষাজীবন থেকে এক বছর ঝরে যায় শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোয় পাঁচ শিক্ষকের দোষ খুঁজে পায় তদন্ত কমিটি। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়। তবে, সব ছাপিয়ে যায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের উচ্চতর গণিত ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র বাতিল করা হয়। কেন্দ্রসচিবসহ তিন শিক্ষক গ্রেপ্তার হন।
শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে বড় পরিবর্তন এনে প্রণয়ন করা হয় প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমের রূপ রেখা। এতে ধারাবাহিক মূল্যায়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে না কোনো পরীক্ষা। দশম শ্রেণির আগে থাকবে না পাবলিক পরীক্ষা।
ডলার সংকটে নতুন বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আমদানি খরচ বাড়ায় কাগজের মিলে কাঁচামাল সংকট। সঙ্গে যোগ হয় নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার অভিযোগ।




