
হবিগঞ্জের মাধবপুরে নারী নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশ করায় আরটিভির ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি মুজাহিদ মসিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) দিয়ে ডাকাতির মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন চৌমুহনী ইউপির গোপীনাথপুর গ্রামের আক্তার মিয়া।
‘টাকা-পয়সা দিয়েও স্বীকৃতি নেই, উল্টো শ্বশুরবাড়িতে হামলার শিকার গৃহবধূ’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরটিভি অনলাইনে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই প্রতিনিধিকে ফোন দিয়ে হুমকি দেন আক্তার মিয়া।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে পানিয়াহাতা গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে সজিব মিয়ার সঙ্গে কাজী অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সোলাইমা আক্তার। বিয়ের পর তিনি স্বামীকে টাকা-পয়সা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য দাঁড় করাতে সহায়তা করেন। এমনকি বিদেশে যাওয়ার জন্যও বিপুল অর্থ প্রদান করেন। কিন্তু সম্প্রতি স্বামী সজিব তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না, বরং নানা ধরনের হুমকি ও হামলার মুখে ফেলছেন।
স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বহরা ইউনিয়নের পানিয়াহাতা গ্রামে স্বামী সজিব মিয়ার বাড়িতে যান গৃহবধূ সোলাইমা আক্তার। এ সময় শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
ঘটনাটি জানার পর আরটিভির ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি মুজাহিদ মসি সংবাদ সংগ্রহ করেন এবং বিকেলে সেটি আরটিভিতে প্রকাশিত হয়। এরপরেই তাকে ফোনে হুমকি দেন আক্তার মিয়া।
মুজাহিদ বলেন, নির্যাতিত নারীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে আক্তার মিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের পর আক্তার মিয়া আমাকে ফোন করে হুমকি দেন। তিনি বলেন, আমি কেন ওই বাড়িতে গিয়ে ভিডিও করলার, ওই নারীর বক্তব্য কেন রেকর্ড করলাম। তিনি আমাকে ইউএনওকে দিয়ে ফোন এবং ডাকাতির মামলা দেবেন বলে হুমকি দেন। বিষয়টি মৌখিকভাবে থানায় জানিয়েছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার মিয়াকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে তাকে আর পাওয়া যায়নি।
মাধবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, আমাদের কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি, আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহিদ বিন কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আক্তার মিয়া নামে কাউকে আমি চিনি না।
আরটিভি/আরএ/এস




