ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নো ওয়েজ বোর্ড নো মিডিয়া’ নীতি কার্যকরসহ ৩৯ দাবি সাংবাদিকদের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

‘নো ওয়েজ বোর্ড নো মিডিয়া’ নীতি কার্যকর, সাংবাদিক সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিলসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ৩৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।

শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনটির মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এই ৩৯ দফা উপস্থাপন করেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের সিনিয়র সহসভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, সহসভাপতি খায়রুল বাশার, একেএম মহসিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বাছির জামাল, এরফানুল হক নাহিদ, মোরসালিন নোমানী, রফিক মুহাম্মদ, রাশেদুল হক, দিদারুল আলম, সাঈদ খান, আবু বকর, অপর্ণা রায়, মোদাব্বের হোসেন, খন্দকার আলমগীর, ডিএম অমর, আল আমিন প্রমুখ।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দাবিসমূহ হলো-

১. ‌‘নো ওয়েজ বোর্ড নো মিডিয়া’ নীতি কার্যকর করতে হবে।

২. অবিলম্বে স্বাধীন ও কার্যকর তথ্য কমিশন গঠন করতে হবে।

৩. প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, রেডিও, সংবাদ সংস্থা, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও কার্যত তা হচ্ছে না। অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমে নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকর হয়নি। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে। তাই বর্তমান সরকারকে দ্রুত নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. সাংবাদিক সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। একইভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকেও যেকোনো মূল্যে সুরক্ষা দিতে হবে। আইনি কাঠামো দ্বারা সুরক্ষা না দিলে সাংবাদিক সমাজ প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা নিগৃহীত হতে থাকবে এবং বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়ত তা-ই হচ্ছে।

৫. সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সপ্তাহে ২ দিন ছুটি ভোগ করে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ২ দিন ছুটির ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সাংবাদিকদের কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন সাপ্তাহিক ছুটিও পান না। এতে তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে।

৬. সাংবাদিক হত্যা, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ সব সাংবাদিক হত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

৭. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিল করতে হবে।

৮. আইন অনুযায়ী সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য পৃথক শ্রম আদালত স্থাপন করতে হবে।সাংবাদিকতা করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানাভাবে হয়রানি ও হামলা-মামলার শিকার হন। আর এসব মামলা ঘাড়ে নিয়ে কোর্টের বারান্দায় ঘুরতে হয়। থানা বা কোর্ট নয়, সংবাদসংক্রান্ত সব মামলা শ্রম আদালতে করতে হবে।

৯. সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, রেডিও, টেলিভিশন, অনলাইন, মাল্টিমিডিয়ার জন্য একটি 'সমন্বিত জাতীয় সংবাদমাধ্যম নীতিমালা' প্রণয়ন করতে হবে। এই সমন্বিত নীতিমালার আওতায় প্রতিটি ভিন্ন গণমাধ্যমের জন্য ভিন্ন নীতিমালা থাকবে। অনেক নীতিমালা প্রণয়ন না করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে সেটি প্রয়োগ করা ও মেনে চলা সহজ হবে।

১০. সংবাদপত্র, অনলাইন, টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদ সংস্থা ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য অভিন্ন ওয়েজ বোর্ড করতে হবে। বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য ওয়েজ বোর্ড থাকলেও টেলিভিশন ও অনলাইনের জন্য কোনো ওয়েজ বোর্ড নেই। তাই টেলিভিশন সাংবাদিকদের চাকরি শেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। এটা অত্যন্ত অমানবিক।

১১. রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সব স্তরে এবং আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে সাংবাদিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যত দিন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সাংবাদিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হবে তত দিন পর্যন্ত স্বাধীন সাংবাদিকতাও সম্ভব হবে না। বর্তমানে ব্যাপক হারে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব সম্পাদনে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা নিগৃহীত হতে হচ্ছে কারণে-অকারণে। তা ছাড়া মামলা-গ্রেপ্তারে পিষ্ট হচ্ছে।

১২. কথায় কথায় সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি বন্ধ এবং ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল করতে হবে।

১৩. চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া অথবা অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের দেনা-পাওনা ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

১৪. কোনো গণমাধ্যম নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র ছাড়া এবং বিনা বেতনে কোনো সাংবাদিককে অস্থায়ী, স্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারবে না।

১৫. মফস্বলের সাংবাদিকদের সম্মানজনক বেতন দিতে হবে। জেলা পর্যায়ে কিছু পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল বেতন দিলেও অধিকাংশ মিডিয়া হাউস উপজেলা প্রতিনিধিদের এক টাকাও বেতন দেয় না। উপরন্তু তাদের বিজ্ঞাপনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। সংবাদকে উপেক্ষা করে বিজ্ঞাপনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিতে না পারলে চাকরিচ্যুত করা হয়। এটা বন্ধ করতে হবে।

১৬. তিন বছর সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে পদোন্নতি দিতে হবে।

১৭. সরকার ও গণমাধ্যম কর্তৃক দ্রুত সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
১৮. বছরের শুরুতে আগের বছরের গড় মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংবাদিকদের বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছর পর পর মুদ্রাস্ফীতি সামঞ্জস্য করে বিবেচনা করতে হবে।

১৯. পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টে ক্যামেরা, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেল, গাড়ি, মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। শারীরিক ক্ষতির জন্য দুর্ঘটনা বীমা থাকতে হবে। চিকিৎসার ব্যবস্থা মালিকপক্ষকেই নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট কাভারের জন্য প্রতিষ্ঠানকে অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। সংবাদকর্মীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং দুর্ঘটনা ভাতার ব্যবস্থা থাকতে হবে। স্থায়ী সংবাদকর্মীদের জন্য দুর্ঘটনা বীমা ও চিকিৎসা বীমার ব্যবস্থা, জীবন বীমা, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির ব্যবস্থা করতে হবে। সংবাদকর্মীদের আইনি সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠানে আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে। নারী সংবাদকর্মীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বিশেষ করে তাঁদের জন্য আলাদা রেস্টরুম রাখতে হবে।

২০. সাংবাদিকদের তৈরি প্রতিবেদনের কারণে যেসব ফৌজদারি মামলা আছে তা প্রত্যাহার ও বাতিল করতে হবে।

২১. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে।

২২. কোনো গণমাধ্যমকে গোয়েন্দা সংস্থা কোনো ধরনের নির্দেশনা দিতে পারবে না।

২৩. প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা কোনো সংবাদমাধ্যম/গণমাধ্যম পরিচালিত হতে পারবে না।

২৪. সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের রিপোর্ট প্রতি তিন মাস অন্তর সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দিতে হবে। এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না মনিটরিং করতে হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে সত্যিকার অর্থে ওয়েজ বোর্ড কার্যকর করেছে কি না সেটা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

২৫. সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক হতে হবে। সাংবাদিকদের শুরুতে বেতন ন্যূনতম ৩৫ হাজার টাকা হতে হবে এবং প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট দিতে হবে।

২৬. রেডিও, টেলিভিশনের লাইসেন্স প্রদানে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিটিআরসিকে পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে হবে। দলীয় বিবেচনায় নয়, যোগ্যতায় হতে হবে লাইসেন্সপ্রাপ্তির মূল ভিত্তি।

২৭. কোনো সাংবাদিক যত দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার মতো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন তাঁর বিরুদ্ধে যদি আর্থিক দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো প্রমাণিত অভিযোগ না থাকে ,তা হলে তাঁকে অবসর দেওয়া যাবে না।

২৮. সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন পরশোধ করতে হবে।

২৯. দেশে সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনও সেকেলে রয়েছে গেছে। কেউ যদি যথাযথভাবে সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে। আবেদনপ্রক্রিয়াও অনলাইনভিত্তিক করতে হবে। নিবন্ধন পেতে হয়রানি, ঘুষ দাবিসহ সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সংবাদমাধ্যমের অবমূল্যায়ন ও হয়রানি বন্ধ করে যেকোনো এক জায়গায় সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিশেষ সেল রাখা যেতে পারে। ভেরিফিকেশন থেকে শুরু করে নিবন্ধনসহ সব কিছু বিশেষ সেলের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা করবেন।

৩০. চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর বর্তমানে প্রিন্ট পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ও বিজ্ঞাপন হার নির্ধারণ করে থাকে। এখানে অনেক শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে। যেসব পত্রিকা দৈনিক ৫০০ কপিও ছাপা হয় না, সেসব পত্রিকা লাখ লাখ কপি ছাপানোর ভুয়া তথ্য দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে বেশি বিজ্ঞাপন রেট নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে রেট আপ-ডাউন বন্ধ করতে হবে।

৩১. সংবাদমাধ্যমের বিজ্ঞাপন রেট বাড়াতে হবে। ৯০০ টাকা রেট দিয়ে এখনকার সংবাদমাধ্যমকে টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। এখনকার মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় রেট আরও অন্তত ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। একই কথা রেডিও, টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমের জন্যও প্রযোজ্য। সব মিডিয়ার জন্যও বাস্তবসম্মত বিজ্ঞাপন নীতিমালা করতে হবে।

৩২. রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখতে হবে, ঠিক তেমনই করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিমালিকানাধীন টিভি-রেডিও ও সংবাদপত্রকে মালিকের ব্যক্তিগত ও ব্যাবসায়িক স্বার্থের প্রভাব থেকে মুক্ত করার একটা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৩৩. কথায় কথায় সংবাদমাধ্যম ডিক্লারেশন বাতিল বন্ধ করতে হবে। সরকার কোনো সংবাদমাধ্যম বন্ধ করলে সরকারকে অন্তত ৬ মাস ওই মিডিয়ার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বহন করতে হবে।
৩৪. নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের নির্বাচনী তথ্য জানার অধিকারকে সংকুচিত করবে। বিশেষ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংবাদ সংগ্রহে গণমাধ্যমকর্মীদের অবাধ চলাচল, পর্যবেক্ষণ ও তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। আমরা অবিলম্বে এই নীতিমালা সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি।

৩৫. নিউজপ্রিন্টের আমদানি শুল্ক ২ শতাংশ (বর্তমানে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ), ভ্যাট ১৫ শতাংশের স্থলে ৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ৫ শতাংশ ও অগ্রিম কর (এটি) ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ন্যূনতম ১ শতাংশ এবং সংবাদপত্রশিল্পকে সেবামূলক শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে করপোরেট ট্যাক্স সর্বনিম্ন নির্ধারণ অথবা অবলোপন করতে হবে।

৩৬. সামগ্রিক মিডিয়াকে শিল্প ঘোষণা করে এই শিল্পের বিকাশে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া বিগত দিনে আমরা দেখেছি, সরকারের পছন্দমতো সংবাদ না করলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হুমকি দিয়ে বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হয়েছে। সংবাদের কারণে কোনো গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বন্ধ করাকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৩৭. সাংবাদিকতাকে বাধাহীন করতে হবে। সাংবাদিকদের জন্য 'ভয়হীন' পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মব জাস্টিজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩৮. রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নির্বাচনী ইশতেহারে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

৩৯ দফা দাবি উপস্থাপন করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন,আমরা এমন একটি পরিবর্তিত সংবাদমাধ্যম চাই, যেখানে একজন সাংবাদিক কোনো পক্ষের চাপ ছাড়াই ঘটনার গভীরে গিয়ে সত্য তুলে ধরতে পারবেন। যেখানে অনুসন্ধানই হবে সত্যের সমাহার আর দায়িত্ববোধ হবে সাংবাদিকতার মূলশক্তি। একই দাবিতে গতকাল সারাদেশে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

আরটিভি/এফএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের শোক
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স (ওইএ)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সংগঠনের সভাপতি হাসান শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেল এক শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। তার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, একদিনের সাধারণ ছুটি নেতারা বলেন, একজন দৃঢ়চেতা, সাহসী ও আপোষহীন নেত্রী হিসেবে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের নেতারা আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমগ্র জাতির ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারালো। উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া আজ ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। আরটিভি/আইএম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের শোক
অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে হাসান শরীফ ও মিজান সোহেল
দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর অনলাইন ও ডিজিটাল বিভাগের প্রধানদের সংগঠন অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স (OEA)–এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।  শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরের ওয়াটারফল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার–এ অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শেষে ২০২৬ সালের জন্য নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। এতে দৈনিক যুগান্তরের হাসান শরীফকে সভাপতি এবং দৈনিক ভোরের কাগজের মিজানুর রহমান সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটির সহসভাপতি হয়েছেন বার্তাযোগের লুৎফর রহমান হিমেল, জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কে এম জিয়াউল হক এবং আরটিভির এম এ এইচ এম কবির আহম্মেদ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবিসির কামরুল ইসলাম রুবেল ও দৈনিক কালের কণ্ঠের আনিসুর রহমান বুলবুল। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এশিয়া পোস্টের পলাশ মাহমুদ এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাবের এস এ রহমান গালিব। অর্থ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন স্টার নিউজের মঈন বকুল এবং অফিস সম্পাদক হয়েছেন দীপ্ত টিভির মাসউদ বিন আব্দুর রাজ্জাক। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শিয়াবুর রহমান শিহাব, আমার দেশের রওশন জামিল ও বার্তা২৪.কম-এর মানসুরা চামেলী। এর আগে এজিএমে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি হাসান শরীফ। সভায় ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অর্থ সম্পাদক মঈন বকুল এবং বার্ষিক কার্যক্রম প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেল। আলোচনা শেষে উভয় প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য ও ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স দেশের অনলাইন গণমাধ্যমের বিকাশ, নীতিমালা প্রণয়ন এবং ডিজিটাল সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই-এর মীর আত্তাকী মাসরুরুজ্জামান, দৈনিক দেশ রূপান্তরের মঞ্জুরুল হক, দ্য ডেইলি স্টারের আজাদ বেগ, দৈনিক যুগান্তরের আতাউর রহমান ও রবিন অমিত, দৈনিক ইত্তেফাকের রিজুয়ানা রিন্তী, বৈশাখী টেলিভিশনের এইচ এম নাহিয়ান, নয়া দিগন্তের মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ও মৌসুমী সুলতানা, সময় টেলিভিশনের সায়েদুল মাহমুদ, চ্যানেল ২৪-এর মাজহার খন্দকার, গাজী টেলিভিশনের মাহমুদ সোহেল, ডেইলি সানের মওদুদ সুজন, এখন টিভির আনিসুর সুমন, দৈনিক মানবকণ্ঠের ফরহাদ হোসেন ও তানভীর খন্দকার, জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এস এম আমানুর রহমান, আরটিভির আবু আজাদ, দৈনিক বাংলাদেশের খবরের হাসনাত কাদীর, আলোকিত বাংলাদেশের হাসান আল বান্না, জিটিভির মাহমুদ সোহেল, সময়ের আলোর সাইদ রহমান, এবং যুবরাজ ফয়সাল। প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এডিটর ও ইনচার্জদের নিয়ে গঠিত পেশাজীবী সংগঠন অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সংগঠনটি দেশের অনলাইন সাংবাদিকতাকে আরও সংগঠিত ও কার্যকর করতে কাজ করছে। আরটিভি/এএএ 
অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে হাসান শরীফ ও মিজান সোহেল
২১ বছরে পদার্পণ করল আরটিভি
‘আজ এবং আগামী’র স্লোগান নিয়ে ২০০৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর দেশের পঞ্চম বেসরকারি টেলিভিশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি। দেখতে দেখতে ২০ বছর পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ করল গণমানুষের এই চ্যানেলটি। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আরটিভি দর্শক-শ্রোতাদের ভালোলাগাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবাদ ও অনুষ্ঠানকে সাজিয়েছে। বিপরীতে পেয়েছে দর্শকদের ভালোবাসা। সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যয়ে, দর্শকদের নানা প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টায় প্রতিমুহূর্তে এগিয়ে চলেছে চ্যানেলটি। নতুন নতুন অনুষ্ঠান, নাটক, টকশো, রিয়েলিটি শো, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান ও ভিন্নধারার সংবাদ দিয়ে কয়েক বছরে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে আরটিভি। টেলিভিশনের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও আরটিভি দেশীয় চ্যানেল হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছে।  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এমন আনন্দের দিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্তরের শিল্পী, সংস্কৃতিজন, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও খ্যাতিমানরা। আরটিভির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান অনেকে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সব কলাকুশলী, দর্শক ও বিজ্ঞাপনদাতাসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে আরটিভি কর্তৃপক্ষ। আরটিভির এই দীর্ঘ পথচলায় সঙ্গী হওয়ায় দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়েছে।  এদিকে জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এই বিশেষ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় বাংলা ছায়াছবি, সঙ্গীত পরিবেশন, নাটক এবং আরও অনেক কিছু।  প্রসঙ্গত, ‘গোলটেবিল’, ‘কেমন বাংলাদেশ চাই, ‘আজ পত্রিকায়’-এর মতো জনপ্রিয় টকশো ছাড়াও ‘স্টার অ্যাওয়ার্ড’, ‘আলোকিত নারী পদক’, ‘আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক’-এর মতো অনুষ্ঠান আরটিভিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। চ্যানেলটিতে নতুন অনুষ্ঠানমালায় যুক্ত হয়েছে ‘ড্যানিশ আরটিভি ইয়াং স্টার’, ‘ফোক স্টেশন’। ইসলামিক ট্যালেন্ট হান্ট খুঁজে নেওয়ার প্ল্যাটফর্মও করেছে চ্যানেলটি। এর মধ্যে আরটিভি আলোকিত কোরআন অন্যতম। এ ছাড়া জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘গর্বিত বাবা’ অনুষ্ঠানটিও।  আরও পড়ুন আরটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন  এ ছাড়াও অটিজমবিষয়ক অনুষ্ঠান—হাত বাড়িয়ে দিলাম, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল বিষয়ক অনুষ্ঠান লুকমিসহ আরও নানান অনুষ্ঠান দিয়ে বছরজুড়েই আলোচনায় পরিপূর্ণ ছিল আরটিভি। ঈদসহ ভিন্ন ধর্মের ও বিভিন্ন বিশেষ দিনকে ঘিরে প্রচার করা হয় জনপ্রিয় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ নাটক ও অনুষ্ঠানমালা।  অনলাইন ও ডিজিটাল প্লাটফর্মেও আলোড়ন তৈরি করেছে আরটিভি। কোটি কোটি পাঠকের খবরের চাহিদা মেটাচ্ছে আরটিভি অনলাইন নিউজ। প্রতিদিন এই পোর্টালে দেশ-বিদেশের দেড় শতাধিক নিউজ আপ হচ্ছে। আরটিভি ফেসবুক পেইজ এরই মধ্যে ২ কোটি  ৪০ লাখ ফলোয়ারের মাইল ফলক অতিক্রম করেছে। আরটিভির ফেসবুক পেজ, আরটিভি ইউটিউব চ্যানেল, আরটিভি ড্রামা ইউটিউব, আরটিভি মিউজিক ইউটিউব এবং আরটিভি অনলাইন বর্তমানে দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। নিত্যনতুন প্রত্যয়ে ঝলমলে আগামীর জন্য আজকের হয়ে যুগ যুগ জেগে থাকবে আরটিভি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দর্শক-শুভানুধ্যায়ীদের আবারও অভিনন্দন। আরটিভি/এএএ 
২১ বছরে পদার্পণ করল আরটিভি
গণমাধ্যমে আগুন প্রসঙ্গ / ভুলের জন্য ডেইলি স্টার সম্পাদকের দুঃখ প্রকাশ
গণমাধ্যমে অগ্নিযংযোগ নিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের যে মন্তব্য করেছিলেন তা ভুল হয়েছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। একইসাথে তার বক্তব্যের সংশোধনীও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) মাহফুজ আনামের বরাত দিয়ে ডেইলি স্টারে উল্লেখ করা হয়, পত্রিকাটির সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বীকার করেছেন যে গত ২১ ডিসেম্বর সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে বাংলাদেশে ‘প্রথম ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন যে, দেশে এর আগেও গণমাধ্যমের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যদিও ওই ঘটনাগুলো জীবন ও সম্পদের জন্য এতটা মারাত্মক হুমকি তৈরি করেনি। নিজের এই ভুলের জন্য মাহফুজ আনাম আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই সংশোধনীটি তাদের অনলাইন প্রতিবেদনের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে। এর আগে, গত ২১ ডিসেম্বর মাহফুজ আনাম বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো গণমাধ্যমের কার্যালয়ে আগে কখনো আগুন দেওয়া হয়নি এবং প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারেই প্রথমবারের মতো এমন হামলার ঘটনা ঘটল। সে সময় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন এমনটা ঘটল এবং গণমাধ্যম কী অপরাধ করেছে যে তাদের এমন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হলো। গত ২১ ডিসেম্বর মাহফুজ আনাম বলেছিলেন, বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো গণমাধ্যমের কার্যালয়ে আগে কখনো আগুন দেয়া হয়নি এবং প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারেই প্রথমবারের মতো এমন হামলার ঘটনা ঘটল। আরও পড়ুন সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন এমনটা ঘটল এবং গণমাধ্যম কী অপরাধ করেছে যে তাদের এমন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হলো। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী শাসনামলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল দৈনিক নয়া দিগন্তে। সেদিন বেলা ২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি নটর ডেম কলেজের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় মতিঝিলের শাপলা চত্বর এবং আরামবাগ উভয় দিক থেকে পুলিশ মিছিলটি ঘিরে ফেলে। এ সময় উভয় দিক থেকে পুলিশ মিছিলটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন ওই এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের অ্যাকশনে এক পর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। নেতাকর্মীরা আশপাশের রাস্তা ও গলি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। নটরডেম কলেজের উল্টো দিকে ইডেন কমপ্লেক্সের ভেতরে পাঁচতলা একটি ভবনে তখন অফিস ছিল নয়া দিগন্তের। ঘটনার ঠিক ওই সময়টাতে নয়া দিগন্তের মূল ফটক বন্ধ ছিল। ওই এলাকায় পুলিশের অ্যাকশন শেষ হলে হঠাৎ করেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত নয়া দিগন্ত কার্যালয় লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কার্যালয়ের সামনে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে তারা গাড়িতে এবং নয়া দিগন্তের প্রেসে অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলা শুরু করে। এতে আশপাশে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কার্যালয়ের ভেতরে এসময় যারা পত্রিকার নানা কাজে যুক্ত ছিলেন তারা আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন, কেউ কেউ ছাদে উঠে যান। অগ্নিসংযোগের পরপরই বাইরে থাকা পত্রিকার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। আগুন প্রেসে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে রাখা ১৫-১৬টি কাগজের রোলসহ বিপুল মুদ্রিত কাগজ পুড়ে যায়। আরটিভি/এমএ
ভুলের জন্য ডেইলি স্টার সম্পাদকের দুঃখ প্রকাশ
সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক
প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বরেণ্য নাগরিক, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক নেতারা। এ হামলার প্রতিবাদে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আগামী জানুয়ারি মাসে সারাদেশে সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মব ভায়োলেন্সের কবলে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভায় সংগঠনটির সভাপতি এ কে আজাদ এ ঘোষণা দেন। সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। প্রতিবাদ সভা শেষে হোটেলের সামনের সড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সারাদেশের সকল সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসমাবেশ করা হবে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সভায় বক্তারা বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা কোনো একক সংবাদমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়; এটি সরাসরি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্রের বিকাশে সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীসহ সব পেশাজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এখন সময়ের দাবি। প্রতিবাদ সভায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর সহ-সম্পাদক জুবায়ের। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মানবাধিকারকর্মী রেহনুমা আহমেদ এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের মব ভায়োলেন্স বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দেশের গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। প্রতিবাদ সভায় দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। আরটিভি/একে
সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক
আরও পড়ুন
সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক
পুতিনের লাইভ ভাষণে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব সাংবাদিকের, অতঃপর...
নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবীরকে হেনস্তা
‘ছাদে আটকা পড়ছি, মাফ কইরা দিয়েন, ভবনে আগুন দিছে, দেখা নাও হতে পারে’