
আমি শেখ হাসিনার প্রার্থী, ভারতের প্রার্থী এমন দাবি করে মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অলোক কুমার দাসকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে শোকজের জবাব দিয়েছেন মেহেরপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর আব্দুল মান্নান।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসি গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল করেন তিনি। একই দিনে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দেন ডা. অলোক কুমার দাস।
প্রার্থী ও ডা. অলোক কুমার দাসের কথোপকথনের কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তা দেশব্যাপী আলোলড় সৃষ্টি করে। শোকজের জবাব দিয়ে প্রফেসর আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ডা. অলোক আমার খুব স্নেহের। সে চেম্বারে রোগীদের কাছে নৌকার ভোট চাইছেন। এমন অভিযোগ পেয়ে তাকে কল দেয়। তার সঙ্গে আমার দীর্ঘ দিনের পরিচয় ও জানাশোনা রয়েছে। সম্পর্কের অধিকারের জায়গা থেকেই তাকে আমি প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে বলি। এটাকে হুমকি হিসেবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নিজেকে শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রার্থী দাবি করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি অবশ্যই শেখ হাসিনার প্রার্থী। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের যে চ্যালেঞ্জ তিনি (শেখ হাসিনা) গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়ন করতেই আমি প্রার্থী হয়েছি। তবে ভারতের প্রার্থী ‘না’ বলেছিলাম কিন্তু কল রেকর্ডের অডিও থেকে ‘না’ শব্দটি বাদ দিয়ে খন্ডিত অংশ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মাধ্যমে প্রচার করেছেন ডা. অলোক কুমার দাস। আমি এবং আমার পরিবারের সুনাম নষ্ট করতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফরহাদ হোসেন এসব অপপ্রচার করেছেন বলেও দাবি করেন প্রফেসর আব্দুল মান্নান।
শোকজের জবাবের বিষয়ে ডা. অলোক কুমার দাস বলেন, নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির নির্দেশনা পেয়ে আজ সকালের দিকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দাখিল করেছি।
প্রসঙ্গত, মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলোক কুমার দাসের সঙ্গে মেহেরপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর আব্দুল মান্নানের মোবাইলে কথোপকথনের দুই মিনিটের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অডিওতে প্রফেসর আব্দুল মান্নান ডা. অলোক কুমার দাসকে বলতে শোনা যায়, আমি প্রফেসর মান্নান বলছি। তুমিতো ডা. অলোক কুমার দাস। বাইরে থেকে মেহেরপুরে এসে ভালোই আছো। খুব আরাম আয়েশে জীবন যাবন করছো। বাড়ি ঘর সবই তৈরি করেছো। টাকা পয়সা অনেক কামায় করেছো। আমি কিন্তু যেমন ভালো লোক তেমন খারাপও। তোমাকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রমোশন দেয়নি। সরকার তোমার প্রমোশন দিয়েছে। মন্ত্রীকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে যদি আর একটা কথা শুনি, আমি এমপি হয় আর না হয়, তোমার মেহেরপুরে বাসা আমি উঠিয়ে দেবো। আর যদি তুমি সাবধান হয়ে যাও তাহলে আমার স্নেহভাজন তোমার ওপর থাকবে। এটুকু আমি তোমাকে বললাম তুমি পারলে তোমার মন্ত্রীকে বলো। আমি শেখ হাসিনার প্রার্থী, আমি ভারতের প্রার্থী এটি তোমাকে মনে রাখতে হবে। আমি এখানে হারার জন্য আসেনি। সাবধান হয়ে যাও তুমি। আমি তোমার কোন কথা শুনবোনা। আমি যে রিপোর্ট পেয়েছি, আমি খুব অসন্তুষ্ট তোমার প্রতি, তুমি সাবধান হয়ে যাও।
অডিও রেকর্ডের সূত্রের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেহেরপুরের দায়রা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি মো. কবির হোসেন শোকজ করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান ও ডা. অলোক কুমার দাসকে এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।




