
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী নাহিদ রসুলের বিরুদ্ধে অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ এনে তার বদলির দাবিতে সিইসি বরাবর আবেদেন জানিয়েছেন স্থানীয় ২১ সাংবাদিক। দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের গাইবান্ধার সাংবাদিকরা শনিবার সিইসির মেইলে এ অভিযোগ পাঠান।
সাংবাদিকদের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উন্নয়ন সাংবাদিকতা করা হয়ে আসছে। সরকার ও প্রশাসনের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জাতির সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী নাহিদ রসুল জেলায় যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন। সংবাদসংক্রান্ত বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন করলে তিনি সাংবাদিকদের ফোন ধরেন না।
তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তার নিয়োজিত এপিএসের (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) কাছে চিরকুটের মাধ্যমে সাক্ষাতের বিষয় উল্লেখ করতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়া যায় না। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে কোনো গণমাধ্যম কর্মীকে আমন্ত্রণ বা অবগত করা হয় না। এমনকি তথ্য সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় কোনো সাংবাদিক প্রবেশ করলে তাকে অপমান করে বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কারণে তার কার্যালয়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারির সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণও নেতিবাচক বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ তৈরিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা। পাশাপাশি ফোন না ধরা ও সাক্ষাত না করায় প্রশাসনকে নির্বাচনী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কেউ তাকে জানাতে পারছেন না।
আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রাশেদা সুলতানার মতবিনিময় সভায় রির্টানিং কর্মকর্তার এসব বিষয় তুলে ধরেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাই আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তাকে বদলি করা গাইবান্ধার মানুষের কাছে সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারি সাংবাদিকদের মধ্যে বিপ্লব ইসলাম বলেন, গত ২৭ ডিসেম্বর ইসি রাশেদা সুলতানার আশ্বাসের পরও রির্টানিং কর্মকর্তা ফোন ধরছেন না।




