
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আমজনতার দল।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) আমজনতার দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ ১৬ই ডিসেম্বর, আমজনতার দলের পক্ষ থেকে জাতির সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। একই সঙ্গে আমরা দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করতে চাই—১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—এই তিন ঐতিহাসিক অধ্যায় অস্বীকারকারী শক্তির জন্য বাংলাদেশি রাজনীতিতে কোনো নৈতিক, সাংবিধানিক কিংবা ঐতিহাসিক অধিকার থাকতে পারে না।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে উপমহাদেশ বিভক্ত হলেও পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য তখনই প্রকট হয়ে ওঠে। সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম সুসংগঠিত প্রতিবাদ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, যেখানে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় তরুণেরা রক্ত দিয়েছেন। আর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। এই ধারাবাহিক ইতিহাস অস্বীকার করা মানে শহীদের রক্ত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সংবিধানের মূল ভিত্তিকে অস্বীকার করা।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করা, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্য ও কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকা এবং যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা—এসবই প্রমাণ করে যে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৭১ সালে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর মাধ্যমে যে নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছিল, তার আদর্শিক প্রেরণা আজও কিছু রাজনৈতিক শক্তির বক্তব্য ও কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্টভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সংবিধানের এই ভিত্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির রাজনৈতিক বৈধতা থাকতে পারে না। যারা ৪৭–৫২–৭১ অস্বীকার করে, তারা কার্যত সংবিধান অস্বীকার করে। ফলে তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াই স্বাভাবিক।
আমজনতার দল মনে করে, রাজনীতি হবে জনগণের কল্যাণে, ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে। যারা ইতিহাস বিকৃতি করে, শহীদের আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করে এবং বিভাজনের রাজনীতি করে, তারা গণতন্ত্রের শত্রু। আমরা বিশ্বাস করি—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে ইতিহাস অস্বীকারের লাইসেন্স নয়; গণতন্ত্র মানে যুদ্ধাপরাধের পৃষ্ঠপোষকতা নয়।
মহান বিজয় দিবসে দাঁড়িয়ে আমরা আহ্বান জানাই—রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চা জোরদার করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিসরে ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার ও রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো আপস নয়—এই নীতিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আমজনতার দল আরও স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, আমাদের বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ নয়; বরং এটি ইতিহাস, সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক আদর্শ রক্ষার ঘোষণা। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে দ্ব্যর্থহীন অবস্থান অপরিহার্য। যারা এই প্রশ্নে আপস করে, তারা জাতির ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।
পরিশেষে, মহান বিজয় দিবসে আমরা অঙ্গীকার করছি—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ, সাংবিধানিক লড়াই অব্যাহত থাকবে। ৪৭–৫২–৭১ আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি; এই ভিত্তি অস্বীকারকারীদের জন্য বাংলাদেশি রাজনীতিতে কোনো অধিকার নেই—এই অবস্থানেই আমরা অবিচল।
আরটিভি/এফএ



