নির্বাচনি প্রচারণা শেষ, বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরলেন তারেক রহমান 

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৩০ এএম


নির্বাচনী প্রচারণা শেষ, বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরলেন তারেক রহমান 
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘরে ফেরার আগে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তারেক রহমান। 

এর আগে, এদিনে ঢাকার আটটি স্থানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান বক্তব্য দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে- বিভাগীয় শহর থেকে প্রত্যন্ত জনপদে। ১৯ দিনে তিনি মোট ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি সভায় ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তুলে ধরেছেন বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

১৯ দিনের প্রচারে প্রথম সিলেট থেকে শুরু করেন তিনি। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট পৌঁছে প্রথমেই হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে মাজার- রাস্তার দু’ধারে ছিল হাজার হাজার মানুষের ভিড়। বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিজ্ঞাপন

পরদিন সকালে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক’। তারপর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভা। সেখানেই ঘোষণা- বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনা করা হবে, দ্রুত শেষ হবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ।

একই দিনে আরও ছয় জেলায় ছুটে গিয়ে জনসভা করেছেন- মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

পরদিন ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশ রাজধানীর ভাষানটেক বিআরবি মাঠে। মাঝে শারীরিক অসুস্থতায় কিছুটা ধীরতা এলেও ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে ফের চেনা ছন্দে। সেখানেই সবচেয়ে কড়া রাজনৈতিক বার্তা- দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, খেটে খাওয়া মানুষের নিরাপত্তা আর সারাদেশে খাল খননের ঘোষণা- চট্টগ্রামের বক্তৃতায় একসঙ্গে প্রশাসন ও পরিবেশ দুই দিকই ছুঁয়েছেন তিনি।

ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ। তারপর ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও উত্তরা। উড়োজাহাজে উত্তরাঞ্চল সফর- রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া। দীর্ঘ নির্বাসনের পর প্রথমবার পৈতৃক ভিটায় পা রাখা- বগুড়ায় রাত কাটানো রাজনৈতিক সফর হয়েও ছিল ব্যক্তিগত আবেগে মোড়া।

রংপুরে গিয়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল পেরিয়ে যান খুলনা ও যশোর। বরিশালে হেলিকপ্টার থেকে নামা, ফরিদপুরে বিভাগ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি ও পদ্মা ব্যারেজের কথা।

তারেক রহমান ফরিদপুরে বিভাগ, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ, প্রশস্ত সড়ক ও নিরাপদ শহর গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রতিটি জনসভায় বক্তব্যের শেষে একই ডাক- সবার আগে বাংলাদেশ।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ও সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ১৫টি আসনে একের পর এক জনসভা করেছেন- মিরপুর, পল্লবী, তেজগাঁও, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ। বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ মাঠে শেষ দিকের জনসভা। প্রচারের ব্যস্ততা থামে সেখানেই। প্রচারণা শেষে তারেক রহমান যান মা ও বাবার কবর জিয়ারতে। তার যে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছিল হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে, তা শেষ হলো মা-বাবার কবর জিয়ারত করে ঘরে ফেরা দিয়ে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission