ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটের হাওয়া: পাবনা-৫

আওয়ামী লীগে একক, প্রার্থী সংকটে বিএনপি

আবুল কালাম আজাদ, পাবনা

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৪৫ পিএম

পাবনার পাঁচটি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সদর আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন প্রার্থীরা। এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে আলোচিত বর্তমান এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স এবং বিএনপি থেকে বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তবে শিমুল বিশ্বাস কারাগারে থাকায় বিএনপি অনেকটা প্রার্থী সংকটে।

বর্তমানে পাবনা-৫ সদর আসনে ১৪৪টি কেন্দ্রে মোট ভোটের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৭৯ জন।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আসনটি ছিল বিএনপি-জামায়াত জোটের দখলে। ২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনে মাওলানা আব্দুস সুবহানকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের কব্জায় আসে আসনটি।

আগামী নির্বাচন ঘিরে এ আসনের প্রার্থিতা নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকেশ। বর্তমান এমপি গোলাম ফারুক আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন। পাবনা সদরে তার সময়ে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করেন। সরকারের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আবারো প্রার্থী হতে চান।

জানা যায়, গোলাম ফারুক প্রিন্সের নেতৃত্বে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও সংগঠিত। তার আমলে পাবনার রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, মাদরাসা মসজিদ মন্দিরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা চোখে পড়ার মত। সৎ, নিরপেক্ষে ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পাবনার জনগণ তাকেই এমপি হিসেবে দেখতে চান।

পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স একজন সৎ, মেধাবী, নিরপেক্ষ ও কর্মীবান্ধব নেতা। তার হাত দিয়ে পাবনায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। হাজার হাজার বেকারদের চাকরি হয়েছে। সোই প্রিন্সকেই প্রার্থী হিসেবে চান। দল তাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে তিনি জয়ী হবেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, বিগত দিনের মতই এবারও তারা পাবনার ৫টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন। পাবনা-৫ আসনে দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি এবার পাবনার বেকার সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।

বিএনপির কাউকে এ আসনে তেমন জনসংযোগে দেখা যাচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী ও সাবেক বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে দাবী করছেন তার কর্মী সমর্থকেরা।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, এই আসনটি মূলত বিএনপির। গত নির্বাচনে এ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবদুস সুবহানকে শিমুল বিশ্বাস সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করেন। এবারে মাওলানা আবদুস সুবহান তার সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন এটা তাদের বিশ্বাস।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি নেতা জানান, জোট সরকারের বিগত পাঁচ বছরে নিজেদের ভালো অবস্থান থাকা সত্ত্বেও জামায়াতের কাছে তারা ছিল বঞ্চিত এবং নিগৃহীত। তবে শিমুল বিশ্বাস জেল থেকে ছাড়া না পেলে পাবনা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন এর পরিষ্কার কোন জবাব মেলেনি বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, পাবনার মাটি বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। এখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তাদের একক প্রার্থী। তিনি প্রার্থী হলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাবিবর রহমান তোতা বলেন, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তাদের একক প্রার্থী। দল নির্বাচনে গেলে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে শিমুল বিশ্বাস বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মকবুল হোসেন সন্টু বলেন, কেমনভাবে দল নির্বাচনে অংশ নেবে, তা নিতান্তই নির্ভর করছে পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের উপরে। দল যদি জোটগতভাবে নির্বাচন করে তবে এক রকমের সিদ্ধান্ত। আর যদি জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করে তাহলে কৌশলটা হবে ভিন্ন। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি।

এদিকে এবারেও জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইকবাল হুসাইন গোপনে গোপনে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবী বিএনপি জামায়াত জোট থাকলে পাবনা-৫ আসনটি জামায়াতকেই দিতে হবে।

তবে যেই মনোনয়ন পাক না কেন সাধারণ ভোটারদের দাবী, ভোট যেন সুষ্ঠু হয়। তারা যেন কেন্দ্রে গিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারেন।



আরও পড়ুন :

এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
ধানের শীষ প্রার্থীকে মিষ্টি খাওয়ালেন নৌকার বিজয়ী প্রার্থী