ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আরও উন্নত করা হয়েছে ইভিএম, ভোট দেয়া যাবে সহজেই

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:১৬ পিএম
ছবি নির্বাচন কমিশন থেকে সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন(ইভিএম)ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নানা মহলের তর্ক বিতর্কের পরেও নির্বাচন কমিশন গত ২৬ নভেম্বর ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে ইভিএম ব্যবহারের জন্য যোগ্য বলে শহরাঞ্চলের ৪৮টি আসন বাছাই করেছিল। এর মধ্যে থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ছয়টি আসন বেছে নেয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে ইভিএম ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে দেশ। সব মানুষের কথা বিবেচনা করে উন্নত করা হয়েছে ইভিএম। সংসদ নির্বাচনের জন্য তৈরি ইভিএম সিটি নির্বাচন ব্যবহৃত ইভিএম থেকে উন্নত। এতে সহজেই ভোট দেয়া যাবে।

প্রশ্ন রয়েছে, এই ছয়টি আসনে কতোগুলো ইভিএম লাগবে। এগুলোর দাম কতো। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কিভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে যে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে কি? এইসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের স্কোয়াড্রন লিডার এবং অপারেশন প্লেনিং ও যোগাযোগ ইনচার্জ এস এম মোহাম্মদ আরাফাত।

এস এম মোহাম্মদ আরাফাত জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুরো ইভিএম প্রজেক্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইভিএম সরবরাহ করবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরির কারখানা বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, সেই ইভিএমগুলো সিটি করপোরেশনে ব্যবহৃত ইভিএমের থেকে অনেক বেশি উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তবে অবশ্যই সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যেন ভোট দিতে পারে সে কথা বিবেচনা করে মেশিন ডেভেলপ করা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশন লটারির মাধ্যমে যে ছয়টি আসন ইভিএম ব্যবহারের জন্য বেছে নিয়েছে, তাতে সম্ভাব্য ২১ লাখ ২৪ হাজার ৪১১ জন ভোটার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন। প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন ধারণা করছে একটি আসনে গড়ে ১৫০টি কেন্দ্র হতে পারে। সেই হিসাবে ছয়টি আসনে আনুমানিক ৯০০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হতে পারে।

ইভিএম মেশিনে অর্পযাপ্ত ভোট দেয়া যায়। তবে ইভিএম মেশিনের ভেতরে যে চিফ দেয়া আছে, সেটা ৬০ জিবি যার ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী কমপক্ষে ৪০০ থেকে ৫০০ ভোটারের তথ্য দেয়া যাবে। তাই ইভিএম মেশিনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যে পরিমাণ ভোটারের তথ্য দেয়া থাকবে। সে পরিমাণ ভোট দেয়া যাবে।

যেহেতু এখন পর্যন্ত ৩শ’ আসনে কতগুলো ভোটকেন্দ্র হবে সেটি এখনও ঠিক হয়নি। তাই আমরা ছয়টি আসনে কতগুলো ইভিএম লাগবে সে হিসাব করতে পারেনি। তবে আসন্ন নির্বাচনে যে পরিমাণই ইভিএম লাগবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের সে ইভিএম দিতে প্রস্তুত। তাছাড়া প্রতিদিনিই বিএমটিএফ থেকে ইভিএম আসছে যেগুলো নির্বাচন কমিশনে রাখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হবে। আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে একটি কেন্দ্রে তিনজন করে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে আইটি এক্সপার্ট লোক থাকবে।

ছয়টি আসনে ইভিএম এর পাশাপাশি ব্যালট খাকবে। এছাড়া ইভিএম মেশিনের ব্যাটারি ৪৮ ঘণ্টা ব্যাকআপ দেবে।

জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএমের দাম কেমন হবে এটা এখনও নির্ধারণ হয়নি। তবে ইভিএম পুরো প্রকল্প চার হাজার কোটি টাকার। যেহেতু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে। এখানে দামটা খুব বেশি ঝামেলার বিষয় না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একটা সমঝোতার মাধ্যমে ইভিএমের দামগুলো দেয়া হবে।

তবে বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে ভারতের চেয়ে ১১ গুণ বেশি দামে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনছে বাংলাদেশ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি ইভিএম কিনতে খরচ করবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৩ টাকা।

স্কোয়াড্রন লিডার আরাফাত এই বিষয়ে বলেন এই কথার কোনও ভিত্তি নেই। কারণ জাতীয় নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত ইভিএমগুলো কোনও দামই দেয়া হয়নি। তবে সিটি করপোরেশনের ব্যবহৃত ইভিএমের থেকে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএমের দাম কিছুটা বেশি হবে। এটি আরও উন্নত।

জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএমের পার্থক্য হলো, ভোটার ভোট দেয়ার পর সেটা একটা ভয়েস থেকে নিশ্চিত করা হবে, ‘যে আপনার ভোট দেয়া সম্পন্ন হয়েছে’। এছাড়া ব্যালটের থেকে কি বোর্ডের কালারের দিক থেকে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। স্মার্ট কার্ড না থাকলেও ভোটার কার্ডের নাম্বার দিয়ে ভোট দেয়া যাবে। এছাড়া হাতের আঙ্গুলের ছাপ তো রয়েছেই।

ইভিএম মেশিনের ইউনিটগুলো হলো- ব্যালট ইউনিট : এর মাধ্যমে ভোটার তার ভোট দেন। কন্ট্রোল ইউনিট : এটি থাকে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে। ডিসপ্লে ইউনিট: ইভিএমের সঙ্গে একটি বড় ডিসপ্লে ইউনিট আছে। এটি বুথের ভেতর ভোট-সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টিগোচরে রাখা থাকে।

আরও পড়ুন :

আরসি/জেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি জোটের প্রার্থীসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এসময় তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর আজ এক সোমবার লিখিত বিবৃতিতে মাঠে কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন ড. কামাল। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, “গতকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করতে হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।’ ‘এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের।’ কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীগণসহ সকল বিরোধী দলের প্রার্থীগণ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ পি
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট: ড. কামাল
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
একাদশ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত এবং বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত করেছে।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।’ অভূতপূর্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যে নতুন সরকার গঠিত হবে তার আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ তদন্ত অবশ্যকরণীয় বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আরো পড়ুন :  সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা পি
প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় টিআইবি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট (৩৮)। আজ সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাউদ পৌরসভার মধ্য মহদেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড দিয়ে দাউদ সম্রাট বিকেলে সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার দুই সহযোগীও আহত হয়। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে কলেজ এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দাউদ সম্রাট নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরএস/পি
সীতাকুণ্ডে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল মানে না। যুক্তি ছাড়াই পুনঃনির্বাচনের দাবি তোলে। এটাই তাদের ইতিহাস। বললেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডাক বাংলো বাসভবনে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর শুভেচ্ছা গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এবার জাতীয় পতাকা হাতে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। যেভাবে ভোটের মাধ্যমে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। এসময় ইনু আরও বলেন, বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দেশবাসী যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা ও আমাদেরকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব পালনে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। বৈষম্য-দুর্নীতি রোধ করতে সুশাসনের জন্য আরও শক্ত হাতে কাজ করব। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরএস/পি
বিএনপি-জামায়াতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে: ইনু
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে আগেই সিল মারা হয়েছিল। তাই আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি। এসময় প্রত্যাখ্যান শব্দটি কয়েকবার উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের ২১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এত নির্যাতনের পরেও বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে। নতুন নির্বাচনের জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঢাকার বাইরের কারাগারগুলোতেও একই অবস্থা। অবিলম্বে এসব বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এসময় লিগ্যালি কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে বলে জানান ফখরুল। গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরমধ্যে স্থগিত রয়েছে একটি আসনের ফল। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি একটিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পেয়েছে ২৮৮টি আসনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।  পরে রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট প্রত্যাখান করে। এমসি/পি
এ নির্বাচন কলঙ্কিত হয়ে থাকবে: ফখরুল
আরও পড়ুন
ইভিএমের ছয় আসনে মহাজোটের জয়
ইভিএমে ভোট দেবেন যেভাবে
৬টি আসনে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত ইভিএম
সাতক্ষীরায় ১৩৭ কেন্দ্রে ইভিএম-এ পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ