
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ নির্বাচনকে ‘প্রহসনের’ নির্বাচন বলে মন্তব্য করে এই জোট। রোববার সন্ধ্যায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বামজোট ফলাফল প্রত্যাখ্যানের কথা জানায়।
বাম জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গোটা দেশকে অবরুদ্ধ করে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করে আরও একবার যে জবরদস্তিমূলক প্রহসনের নির্বাচন মঞ্চস্থ করা হল। বাম গণতান্ত্রিক জোট এই নির্বাচন ও নির্বাচনের ফলাফলকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।’
প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে গোটা নির্বাচনকে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে বাম জোট। বাম নেতারা বলেন, ভোর থেকেই দেশব্যাপী ভোট কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্য জালিয়াতি, ব্যালট পেপারে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কার সিল মারতে বাধ্য করা, বিরোধী দলীয় ভোটারদের জোর করে ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, কোথাও সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া ঘটনা ঘটে। এ নির্বাচনকে তারা অর্থহীন ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে চলছে গণনা। অনেক স্থানে সহিংসতা, নাশকতা, কারচুপি, ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অনেক আসনে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের খবরও পাওয়া গেছে।
সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রায় অর্ধশত প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। দেশের বেশির ভাগ আসনেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। এ ছাড়া বিএনপির কর্মী ও সাধারণ ভোটারও নিহত হয়েছেন।
ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর সকালে অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। তবে বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের এজেন্ট না থাকার খবর সকাল থেকেই পাওয়া গেছে। অবশ্য সকালে যাঁরা ভোট দিতে গেছেন, তাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন। কিন্তু বেশির ভাগ আসনে বেলা ১১টার পর থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। কেন্দ্রগুলোতে ক্ষমতাসীনদের আধিপত্য বাড়তে থাকে। সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি কেন্দ্রে কমতে থাকে।
এসজে




