ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাটেক্সপোতে জাতীয় ঐকমত্যের ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

বাটেক্সপোতে জাতীয় ঐকমত্যের ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর পর বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত বাটেক্সপো ফিরে আসছে। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ বাটেক্সপো ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাটেক্সপোর এই প্রত্যাবর্তনকে আমরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করি। ১৯৮৯ সালে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে যে আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা দেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তবে আজকের ঘোষণায় বাটেক্সপোর উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের যে পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথাও জানাতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বাটেক্সপো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। দীর্ঘ এক যুগ পর এই আয়োজনের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে দেশের পোশাক শিল্প, উদ্যোক্তা, শ্রমিক এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অতীতে বাটেক্সপোর উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা বহন করত— বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

গোলাম পরওয়ার বলেন, এবারের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত বিজিএমইএ নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত সংগঠনটির নিজস্ব বিবেচনার বিষয়। তবে আমরা মনে করি, বাটেক্সপোর মতো জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজনে দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখা হলে তা দেশের রাজনৈতিক ঐকমত্য, গণতান্ত্রিক সৌহার্দ্য এবং শিল্পের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের আরও শক্তিশালী বার্তা দিত। বিশেষ করে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেশি। আজকের বিশ্বে একটি দেশ শুধু তার পণ্য রপ্তানি করে না; প্রতিটি রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে সেই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, সক্ষমতা এবং সামগ্রিক ভাবমূর্তির একটি বার্তাও বিশ্বের কাছে পৌঁছে যায়। একটি পোশাক যেমন বাংলাদেশের কারখানা থেকে একজন বিদেশি ক্রেতার হাতে পৌঁছায়, তেমনি তার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিচয় ও দেশের মর্যাদাও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বিশ্বে কোনো দেশের ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক বার্তা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই বার্তা সরাসরি একটি দেশের পণ্য, ব্র্যান্ড, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাটেক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক পরিসরের একটি আয়োজনকে আমরা শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা হিসেবে দেখি না। এটি একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বে উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মনে করি, বাটেক্সপোর মতো একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আয়োজনের রাজনৈতিক অতিথি নির্বাচন এবং সামগ্রিক উপস্থাপনায় আরও বিস্তৃত জাতীয় ভাবনা ও পেশাদার কৌশল প্রয়োজন ছিল। দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো অনিচ্ছাকৃত বার্তা যেন বিদেশি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী বা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে না যায়—এ বিষয়টিও একটি জাতীয় শিল্প সংগঠনের বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ছোট করা কিংবা কোনো সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করার উদ্দেশ্যে এ বক্তব্য দিচ্ছি না। বরং বিজিএমইএকে একটি অরাজনৈতিক ও জাতীয় শিল্প সংগঠন হিসেবে আরও দূরদর্শী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পেশাদার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কোনো একটি রাজনৈতিক দল, সরকার বা সংগঠনের সম্পদ নয়। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিক, হাজার হাজার উদ্যোক্তা, অসংখ্য স্থানীয় ব্যবসা এবং বিশ্বব্যাপী ক্রেতা ও অংশীদার। তাই শিল্পের জাতীয় আয়োজনগুলোতে এমন একটি পরিবেশ থাকা প্রয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরিবর্তে সহযোগিতা, ঐকমত্য ও বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তির বার্তাই প্রধান হয়ে ওঠে।

আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে বিজিএমইএ তার দায়িত্ব ও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আরও যোগ্যতা, দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে এবং জাতীয় শিল্পের প্রতিটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের ঐক্য, স্থিতিশীলতা, সক্ষমতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিবাচক বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবে।

বাটেক্সপো শুধু একটি প্রদর্শনী নয়—এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বে উপস্থাপনের একটি সুযোগ। আমরা চাই, বাটেক্সপো হোক রাজনৈতিক বিভাজনের নয়; বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, জাতীয় ঐকমত্য এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তির প্রতীক। দেশের স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক অবস্থানের স্বার্থে—বিজিএমইএ’র কাছে আমরা আরও পেশাদারিত্ব, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতার প্রত্যাশা করি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা যে অপকর্ম করেছে, তার দায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনারই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা
স্পেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপকে জামায়াতের শুভেচ্ছা
স্পেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় তিনি স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির পাঠানো শুভেচ্ছাপত্র ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত মি. গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রুর হাতে হস্তান্তর করেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শেরাটন ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের দূতাবাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। স্পেনের রাজাকে পাঠানো শুভেচ্ছাপত্রে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজা, রাজপরিবার, সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি স্পেনের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। চিঠিতে বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, অভিবাসন, পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এতে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর যোগ দেন। আরটিভি/ এসকেডি  
স্পেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপকে জামায়াতের শুভেচ্ছা
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: জামায়াত আমির
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।  রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। জামায়াত আমির বলেন, তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় দেশের শিক্ষা, গার্মেন্টস সেক্টর ও মক্কা প্যাক্টসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, তুরস্ক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগদানের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা। কোনো হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ফিরে আসা উচিত। এর আগে, গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির। তুরস্কে পৌঁছে ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় স্পিকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপি প্রমুখ। গত ৯ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বাংলাদেশের চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন এবং তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আরটিভি/এসআর
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: জামায়াত আমির
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন জামায়াত আমির
তুরস্ক সফর শেষে দেশের ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এ সময় জামায়াত আমিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান সংগঠনের নায়েবে আমির জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির জনাব মো. সেলিম উদ্দিন। উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।  তুরস্কে পৌঁছে গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন  তিনি। এসময় স্পিকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আকিফ ইলমাজ এমপি প্রমুখ। গত ৯ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বাংলাদেশের চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন এবং তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশবিষয়ক গবেষণা, নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক কোনো সাম্প্রতিক বা কেবল কয়েক দশকের বিষয় নয়; তুরস্কের জনগণের সাথে আমাদের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক। এবং এই সম্পর্ক আগামীতে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। তুরস্কে সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে জামায়াত আমির সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন করেন এবং আজ ১১ অক্টোবর সকালে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। আরটিভি/এসআর
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন জামায়াত আমির
আরও পড়ুন
তুরস্কের স্পিকারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াত আমিরের ক্ষোভ
অবশেষে মুখ খুললেন এমপি গাজী নজরুল