ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

বাটেক্সপোতে জাতীয় ঐকমত্যের ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

বাটেক্সপোতে জাতীয় ঐকমত্যের ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর পর বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত বাটেক্সপো ফিরে আসছে। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ বাটেক্সপো ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাটেক্সপোর এই প্রত্যাবর্তনকে আমরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করি। ১৯৮৯ সালে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে যে আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা দেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তবে আজকের ঘোষণায় বাটেক্সপোর উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের যে পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথাও জানাতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বাটেক্সপো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। দীর্ঘ এক যুগ পর এই আয়োজনের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে দেশের পোশাক শিল্প, উদ্যোক্তা, শ্রমিক এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অতীতে বাটেক্সপোর উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা বহন করত— বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

গোলাম পরওয়ার বলেন, এবারের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত বিজিএমইএ নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত সংগঠনটির নিজস্ব বিবেচনার বিষয়। তবে আমরা মনে করি, বাটেক্সপোর মতো জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজনে দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখা হলে তা দেশের রাজনৈতিক ঐকমত্য, গণতান্ত্রিক সৌহার্দ্য এবং শিল্পের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের আরও শক্তিশালী বার্তা দিত। বিশেষ করে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেশি। আজকের বিশ্বে একটি দেশ শুধু তার পণ্য রপ্তানি করে না; প্রতিটি রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে সেই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, সক্ষমতা এবং সামগ্রিক ভাবমূর্তির একটি বার্তাও বিশ্বের কাছে পৌঁছে যায়। একটি পোশাক যেমন বাংলাদেশের কারখানা থেকে একজন বিদেশি ক্রেতার হাতে পৌঁছায়, তেমনি তার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিচয় ও দেশের মর্যাদাও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বিশ্বে কোনো দেশের ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক বার্তা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই বার্তা সরাসরি একটি দেশের পণ্য, ব্র্যান্ড, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাটেক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক পরিসরের একটি আয়োজনকে আমরা শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা হিসেবে দেখি না। এটি একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বে উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মনে করি, বাটেক্সপোর মতো একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আয়োজনের রাজনৈতিক অতিথি নির্বাচন এবং সামগ্রিক উপস্থাপনায় আরও বিস্তৃত জাতীয় ভাবনা ও পেশাদার কৌশল প্রয়োজন ছিল। দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো অনিচ্ছাকৃত বার্তা যেন বিদেশি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী বা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে না যায়—এ বিষয়টিও একটি জাতীয় শিল্প সংগঠনের বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ছোট করা কিংবা কোনো সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করার উদ্দেশ্যে এ বক্তব্য দিচ্ছি না। বরং বিজিএমইএকে একটি অরাজনৈতিক ও জাতীয় শিল্প সংগঠন হিসেবে আরও দূরদর্শী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পেশাদার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কোনো একটি রাজনৈতিক দল, সরকার বা সংগঠনের সম্পদ নয়। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিক, হাজার হাজার উদ্যোক্তা, অসংখ্য স্থানীয় ব্যবসা এবং বিশ্বব্যাপী ক্রেতা ও অংশীদার। তাই শিল্পের জাতীয় আয়োজনগুলোতে এমন একটি পরিবেশ থাকা প্রয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরিবর্তে সহযোগিতা, ঐকমত্য ও বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তির বার্তাই প্রধান হয়ে ওঠে।

আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে বিজিএমইএ তার দায়িত্ব ও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আরও যোগ্যতা, দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে এবং জাতীয় শিল্পের প্রতিটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের ঐক্য, স্থিতিশীলতা, সক্ষমতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিবাচক বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবে।

বাটেক্সপো শুধু একটি প্রদর্শনী নয়—এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বে উপস্থাপনের একটি সুযোগ। আমরা চাই, বাটেক্সপো হোক রাজনৈতিক বিভাজনের নয়; বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, জাতীয় ঐকমত্য এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তির প্রতীক। দেশের স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক অবস্থানের স্বার্থে—বিজিএমইএ’র কাছে আমরা আরও পেশাদারিত্ব, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতার প্রত্যাশা করি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দিয়ে পালিয়ে যাবে’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে  বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, ওই সাপই একদিন ছোবল দিবে। ছোবল দিয়ে সাপ কিন্তু পালিয়ে যাবে। কিন্তু পড়ে থাকবে আপনাদের লাশ।
‘সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দিয়ে পালিয়ে যাবে’
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বলে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। পোশাকশিল্পে অস্থিরতা, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। কোনো মালিক কিংবা শ্রমিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুম সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ধ্বংস করার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ পরিস্থিতিতে মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। আরটিভি/এমএম
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
পদ হারালেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির ও নায়েবে আমির
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম।
পদ হারালেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির ও নায়েবে আমির
শিক্ষাঙ্গনগুলো জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হোক: ডা. শফিকুর
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে শিক্ষাঙ্গনগুলো গণরুম, গেস্টরুম কালচার ও অপসংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো জ্ঞান চর্চা এবং গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হোক। আমরা এগুলাকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে চাই। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে আয়োজিত পথসভায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে আমির বলেন, আগস্টের পর বাংলাদেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। তার ধারে কাছেও অন্যরা আসতে পারে নাই। ​কেন ছাত্রশিবিরকে এতো ভালোবাসে ছাত্রজনতা? তার একমাত্র কারণ হচ্ছে— ছাত্রশিবিরের জ্ঞানকে, শিক্ষাকে, প্রজ্ঞাকে সম্মান করে। ইবিতে নির্বাচনে হলে কি চিত্র হতো? নিশ্চয় একই চিত্র দেখা যেত। ষড়যন্ত্র করে এখানে নির্বাচন দেওয়া হয়নি। ডা. শফিকুর বলেন,​যে সমস্ত জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন হয়েছে, সব জায়গা থেকে সারা জীবনের জন্য গণরুম বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। ​এখন ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিতে, মেধার ভিত্তিতে— তারা হলে সম্মানের সহিত নিরাপত্তা ও গৌরবের সাথে থাকতে পারে। এখন তারা লেখাপড়ায় মনোযোগ দেয়, কারণ মিছিলে যাইতে কাউকে বাধ্য করা হয় না। শফিকুর রহমান বলেন, সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাই যেখানে সুশিক্ষা হাতে নিয়ে আমাদের সন্তানেরা একদিন এক মুহূর্তও বেকারের দুঃখ বুঝবে না, বরঞ্চ দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে— সেই শিক্ষাটাই আমরা আমাদের সন্তানদেরকে দিতে চাই।​যারা এটা চায় না, তারাই গণভোটের পুনরাবৃত্তি মানতেও চায় না। অন্যায় ও আধিপত্যবাদের কাছে তারা কখনো মাথা নত করবেন না এবং মাথা সোজা করেই এ জাতি সামনে এগিয়ে দাঁড়াবে। আরটিভি/এসআর  
শিক্ষাঙ্গনগুলো জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হোক: ডা. শফিকুর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
আরও পড়ুন
দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা, ভিডিও ভাইরাল
মুখের দাগ নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত আমির
চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন জামায়াত আমির
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত