ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

আসিফ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য চায় দুদক, বিএফআইইউকে চিঠি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ফাইল ছবি

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয় ও অর্থপাচারসহ দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এরই অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও নথি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। চিঠিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের স্বাক্ষর রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পক্ষ থেকে বিএফআইইউ-এর কাছে পাঠানো চিঠিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে– দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা সব ধরনের হিসাবের (চালু, সুপ্ত বা বন্ধ) বিস্তারিত বিবরণ; ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র।

সেইসঙ্গে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার ও শেল কোম্পানি গঠনসংক্রান্ত দলিল ও রেকর্ডপত্র; বিদেশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই পাঁচ দেশে তাদের কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, সে সংক্রান্ত সংগৃহীত তথ্যও বিএফআইইউ-এর কাছে চেয়েছে দুদক।

চিঠিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দায়িত্ব পালনকালীন অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে ‘শেল কোম্পানি’ গঠনে একাধিক অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরের দিন চার ধরনের নথি তলব করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় দুদক।

ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুদকে এসে পৌঁছেছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়েও যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি এবং আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান করা হবে।

নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন বাণিজ্য, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে টেন্ডার কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথাও বলা হয়েছে; যেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিজ দুই বোন জামাই ও ভাগ্নেকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাচারকৃত অর্থের মধ্যে দুবাইতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং ‘গ্রীন গ্রুপ’-এ মূলধন যোগানোর অভিযোগ রয়েছে। সেইসঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবৈধ উপায়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে পর্তুগালে জমি ক্রয় করার বিষয়টি উঠে এসেছে অভিযোগে।

দুদক জানায়, নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে– স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসা’র সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ৩য় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ প্রদান করার অভিযোগ।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যার বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। এছাড়াও, তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে যাতায়াত করেছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের তালিকায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদসহ ডজনখানেক কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

অবশ্য, এই সব অভিযোগই অস্বীকার করে আসছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জামায়াত কর্মীকে প্রধান করে এনসিপির কমিটি গঠন
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কমিটি অনুমোদন দিয়েছে দলটি। কমিটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সাবেক রুকন সদস্য আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জামায়াত কর্মীকে প্রধান করে এনসিপির কমিটি গঠন
তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, জাতির সামনে স্পষ্ট করার দাবি নাহিদের
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।  সেই সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ জাতির সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘নিখোঁজের এক দিন পর গতকাল বুধবার ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাওরির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এ ঘটনায় আমি বিস্মিত ও গভীরভাবে মর্মাহত।’ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে মহান আল্লাহ তাদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন।’ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আমি অবিলম্বে এই ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে কী ঘটেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। একইসাথে এই ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি মরহুম কে এম তাহসিফ সাওরির আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।’ প্রসঙ্গত, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ।  জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে বসবাস করতেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় দ্বীপ নামের এক ছোট ভাই বাসার নিচে এসে তাকে ডাকেন। দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসবেন জানিয়ে বাসা থেকে নিচে নামেন তাহসিফ। তবে এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। আরটিভি/এসআর
তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, জাতির সামনে স্পষ্ট করার দাবি নাহিদের
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এনসিপি নেতার পদত্যাগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার দিদারুল আলম। কমিটি অনুমোদনের চার ঘণ্টার মাথায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনসিপির নোয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী মাঈন উদ্দীন তানভীর ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে ২৩ সদস্যের কমিটিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।  কমিটি অনুমোদনের পর রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন খন্দকার দিদারুল আলম। তার দাবি, কমিটি গঠনের আগে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।  ফেসবুক পোস্টে খন্দকার দিদারুল আলম লেখেন, ‘এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলাম। আজ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ আরটিভি/এসআর
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এনসিপি নেতার পদত্যাগ
আসিফ মাহমুদকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বিএনপিতে যোগদান করে নির্বাচন করার জন্য পদত্যাগ করার ঠিক আগেরদিন রাতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বসেছিল আসিফ মাহমুদ। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। আরটিভির পাঠকদের সুবিধার জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো— পদত্যাগ করার ঠিক আগেরদিন রাতে আসিফ মাহমুদ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বসেছিলো বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য। মাহফুজ আলমও ধানের শীষে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলো। যেকারণে দু'জন একসাথে বিএনপিতে যোগদান ও নির্বাচনের কনফার্মেশন পাওয়ার জন্য বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন আহমেদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করুক এটা বিএনপি চায়নি। অর্থাৎ বিএনপি আসিফ মাহমুদের প্রতি আগ্রহ না দেখানোর পর সে বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগদান করেছে। মাহফুজ আলম অবশ্য বিএনপিতে সুযোগ না পেয়ে নৈতিকতা ধরে রেখেছে। তার এই সততাকে সাধুবাদ জানাই।  যাইহোক, গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার কারণে নাহিদ ইসলামের পরেই এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান থাকার কথা। কিন্তু অতীত বিতর্ক ও এনসিপিতে যোগদান করার বিষয়ে দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে সে বর্তমানে এনসিপির সুপার সিক্সের সর্বশেষ নেতা। অর্থাৎ অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে ব্যাপক কোনঠাসা! অন্যথায় একজন ছাগলচোর, ল্যাপটপ চোরও তার কয়েকধাপ উপরের নেতা হয় কি করে!  আবার বেশি আসন সমঝোতা করার জন্য এনসিপির শীর্ষ এক ডজন নেতা জনাব সালাউদ্দিন আহমেদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতো। কিন্তু বিএনপি এনসিপিকে ৪ টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। আর একারণেই বেশি আসন ও নির্বাচনী খরচ পেয়ে জামায়াত জোটে গেছে এনসিপি।  অর্থাৎ এনসিপির নতুন রাজনীতি হলো সুবিধাবাদী জিন্দাবাদের রাজনীতি। এখন হয়তো আলাদা কোনো সুবিধা পেতে কিংবা জামায়াতের পরামর্শে বিএনপিকে চাপের রাখার কৌশল হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে এনসিপি। কিন্তু তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ ব্যর্থ কর্মসূচি।  বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেও তার কিছু করার সক্ষমতা রাখে না এনসিপি। কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কোনো সুযোগে নেতা বনে যাননি। দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার কারণেই তার আজকের এই পজিশন। জামায়াত- এনসিপির ৯০ জন এমপির মেধা ও যোগ্যতা  এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সমান নয়। আর এটা তো কারও না বোঝার কথা না যে, তাদের যন্ত্রণাটা ঠিক এখানেই!  তারা মনে করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করে বিএনপিকে চাপে রাখতে পারলে বিরিয়ানির ভাগ আদায় করা যাবে! কিন্তু বিএনপি বিরিয়ানি ভাগবাটোয়ারার রাজনীতি করেনা। বিএনপি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে। সুতরাং বিএনপির কাছ থেকে জামায়াত-এনসিপি বিরিয়ানির ভাগ চাইলেও পাওয়ার সম্ভাবনা নাই। আরটিভি/এসআর  
আসিফ মাহমুদকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাশেদ খাঁন
শেখ হাসিনার তিন সংসদ নিয়ে যা বললেন নাহিদ ইসলাম
শেখ হাসিনার তিন সংসদকে বিএনপি সরকার অবৈধ ঘোষণা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। রোববার (২৫ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সফল করতে মিরপুরে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের পথসভা ও লিফলেট বিতরণের সময় এ মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গতকাল আমরা আমাদের বক্তব্যে বলেছি যে বর্তমান সরকার অবৈধ সরকার। কারণ এই সরকার জনগণের ৭০ শতাংশ রায়ের সঙ্গে অবমাননা করেছে। বিএনপি শেখ হাসিনার তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে। আমরাও মনে করি অবৈধ। কিন্তু আইনগতভাবে এটা বলার সুযোগ নেই। কারণ বিএনপি সরকার ওই তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেনি। এখনো সুযোগ রয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সেই অবৈধ সংসদের ধারাবাহিকতা এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে আমরা নতুনভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং নতুনভাবে বাংলাদেশকে গঠন করার।’ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পুরোনো ধারাবাহিকতা রক্ষা হলে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি যদি সবচাইতে ভালো সংশোধনীটাও আনেন, ভবিষ্যতে এমন হতে পারে সে সংশোধনী বাতিল করে বর্তমান সরকার এবং অন্তর্বর্তী সময়টাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি কীভাবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে জিয়াউর রহমানকে একজন ক্ষমতা দখলদার হিসেবে আওয়ামী লীগ ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিল। ফলে এটা যে তারেক রহমানের সঙ্গে হবে না এটার কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে নিশ্চয়তা হবে এবং তারেক রহমানের ভালোর জন্যই আমরা বলছি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে পুরোনো সংসদ, পুরোনো অবৈধ সরকার এবং যে পুরোনো ফ্যাসিস্ট সংবিধান সেই সাংবিধানিক কাঠামো ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের নতুনভাবে গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করুন।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এখন সমতল থেকে পাহাড়ে গিয়ে পৌঁছেছে। পাহাড় অশান্ত কেন এটার সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাচ্ছি না। আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার পাহাড়কে শান্ত রাখতে, স্থিতিশীল রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পাহাড়ে কারা অস্থিতিশীলতা করছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কীভাবে তৎপরতা এবং ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে এটা জনগণের সামনে সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে। কারণ এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। তিনি বলেন, ‘সরকার গোপন আঁতাত করছে ভারতের সঙ্গে। এই গোপন আঁতাতের ফলেই পাহাড়কে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে নানাভাবে।’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। পথসভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার, সালেহ উদ্দিন সিফাত, নুসরাত তাবাসসুম এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বক্তব্য দেন। আরটিভি/এসআর  
শেখ হাসিনার তিন সংসদ নিয়ে যা বললেন নাহিদ ইসলাম
আরও পড়ুন
‘২০২৭ সালের নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী’
‘ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করে ভারত প্রমাণ করবে তারা বাংলাদেশের বন্ধু’
স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: বিদ্যুৎ বিভাগ
শীর্ষ ধনীদের দলে থাকতে সম্পদ কত লাগবে, সামনে এলো নতুন হিসাব