ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়ার হাসপাতালে পড়ে থাকা এই বাংলাদেশি কে?

মোস্তফা ইমরান রাজু, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি:

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৪:৪৬ পিএম

গেলো দশ মাস ধরে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছে আলতাফ নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি। তার ঠিকানা কেউ জানে না। মানসিক ভারসাম্যহীন এই প্রবাসীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে কুয়ালালামপুরের অদূরে ক্লাং এর তোয়াংকো আম্পোয়ান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনও।

হাইকমিশনের শ্রম শাখার দ্বিতীয় সচিব ফরিদ আহমেদ বলছেন, আলতাফের কাছে বৈধ-অবৈধ কোনো ধরনের কাগজপত্র নেই। সে শুধু কুমিল্লা ও বাংলাদেশ শব্দ দুটি লিখতে পারছে। এতে করে আলতাফ বাংলাদেশি অনুমান করা গেলেও তার কোনো ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। তার কোনো আত্মীয়-স্বজন যোগাযোগ করলে হাইকমিশন আলতাফকে দেশে পাঠাতে সবধরনের সহযোগিতা করবে বলেও মন্তব্য করেন ফরিদ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছরের-ই ২৮ ফেব্রুয়ারি কয়েকজন লোক রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আলতাফ হোসেনকে হাসপাতালে রেখে চলে যান। সেখানেই ৭/সি ওয়ার্ডের ৩৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

ধারণা করা হচ্ছে, আলতাফ স্ট্রোক করে রাস্তায় পড়ে গেলে কে বা কারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিতসায় সে সুস্থ হয়ে গেলেও উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে তার শরীরের বাম হাত অবশ হয়ে যায় এবং সে আংশিক স্মৃতিশক্তি ও বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলতাফ হোসেনের অভিভাবকের খোঁজ না পেয়ে ৪ ডিসেম্বর কুয়ালালামপুর বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে। দূতাবাসের কল্যাণ সহকারী মো. মোকসেদ আলী হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি আলতাফ হোসেনের খোঁজ-খবর নেন।

হাইকমিশনের এ কর্মকর্তাকে দেখে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তার কাছে কোনো কাগজপত্র নেই বলে আলতাফ কাগজে লিখে জানান।

আলতাফের সন্ধান দিতে দূতাবাসের +৬০১২৪৩১৩১৫০ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এসজে/সি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্ত্রী-সন্তানের পর চলে গেলেন নিজেও
বউ এবং দুই সন্তানকে নিয়ে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ইতালি প্রবাসী কামরুল ইসলাম নিলয়। মক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দুই ছেলের পর নিজেও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনার পর নিলয় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় মারা যান। এর আগে দুর্ঘটনার দিনই ঘটনাস্থলে নিহত হন নিলয়ের স্ত্রী তানিয়া হোসেন(৩০) এবং তাদের ছেলে ইউসা হোসাইন(৮) ও আযান হোসেন(৩)। তারা ওমরাহ করতে ইতালি থেকে গত শনিবার সৌদি আরবে গিয়েছিলেন বলে জেদ্দা কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, নিলয়ের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ায়। নিহতদের মরদেহ মক্কার আল-হেরা ও আল-নূর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। মক্কা প্রবাসী নয়ন শেখ জানান, বৃহস্পতিবার ওমরাহ পালন শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা যাচ্ছিলেন নিলয়। পাহাড়ি পথে তাদের প্রাইভেট কারের চাকা পাংচার হয়ে পাশের খাদে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। জুয়েল নামে নিলয়ের এক স্বজন ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনিও আহত হয়েছেন। নিলয়ের চাচাতো ভাই সরকার আমিন জানান, দুর্ঘটনার পর মারাত্মক আহত অবস্থায় নিলয়কে উদ্ধার করে মক্কা কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এপি/কে
স্ত্রী-সন্তানের পর চলে গেলেন নিজেও
মানবপাচার: আজীবন নিষিদ্ধ অনন্য মামুন
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হলেন নির্মাতা অনন্য মামুন। মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) পরিচালক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মামুনের নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর। তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়ান অ্যাম্বাসিতে যোগাযোগ করেছি। সব মিলিয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তিনি (মামুন) এ অপরাধে জড়িত। তাই তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে ৫৭ জন আদম পাচারের অভিযোগে অনন্য মামুনকে আটক করে মালয়েশিয়ান পুলিশ। গত ২৪ ডিসেম্বর দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের এলপি নামের একটি ভবন থেকে মামুনসহ ১৯ জনকে আটক করা হয়। মামুনের পরিচালিত ছবির মধ্যে রয়েছে অস্তিত্ব, আমি তোমার হতে চাই, ব্ল্যাকমেইল, ভালোবাসার গল্প, আমি শুধু চেয়েছি তোমায়, মোস্ট ওয়েলকাম। এর মধ্যে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ ছবিটিতে তিনি নামে মাত্র পরিচালক বলে অভিযোগ উঠে। বিষয়টি নিয়ে ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর পরিচালক সমিতির এক জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে প্রথম সদস্যপদ বাতিল করা হয় অনন্য মামুনের। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল- যৌথ-প্রযোজনার নামে প্রতারণা এবং জাল সার্টিফিকেট দিয়ে পরিচালক সমিতির সদস্যপদ নেয়ার। এরপর অঙ্গীকারনামা দিয়ে সেই সদস্যপদ ফিরে পান এই তরুণ নির্মাতা। এদিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সাইনবোর্ডে মানবপাচারের অভিযোগের কথা মালয়েশিয়ান পুলিশের কাছে মামুন স্বীকার করেছেন। মালয়েশিয়ার ডাংওয়াংগি পুলিশ বিভাগের প্রধান কর্তা শাহারুদ্দিন আবদুল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন। বিদেশি গণমাধ্যমকে মালয়েশিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক একটি বিশেষ এবং কঠোর আইনে অনন্য মামুনসহ ১৯ জনকে বন্দি করা হয়েছে। মূলত জঙ্গি এবং রাষ্ট্রীয় শত্রুদের আটক করা হয় এই আইনে। বিশেষ এই আইনে একজন অভিযুক্তকে ২৮ দিন পর্যন্ত বিনা বিচারে আটক রাখার বিধান রয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ৮ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এম/এসজে 
মানবপাচার: আজীবন নিষিদ্ধ  অনন্য মামুন
ওমরাহ পালনে গিয়ে দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ মা নিহত
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি পরিবারের মা ও দুই ছেলে নিহত হয়েছেন। ইতালি প্রবাসী ওই পরিবারটি মক্কায় ওমরাহ পালন করতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনায় পরিবারের কর্তা কামরুল ইসলাম ওরফে নিলয়ও গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন নিলয়ের স্ত্রী তানিয়া হোসেন (৩০) এবং তাদের ছেলে ইউসা হোসাইন (৮) ও আযান হোসেন (৩)। জেদ্দা কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা ওমরাহ করতে ইতালি থেকে গেলো শনিবার সৌদি আরব এসেছিলেন। জানা গেছে, ওমরাহ পালন শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা যাচ্ছিলেন নিলয়। পথে তাদের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পাশের খাদে পড়ে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসময় জুয়েল নামে নিলয়ের এক স্বজন ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনিও আহত হয়েছেন। এদিকে নিলয় ও জুয়েলকে কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে নিলয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে সৌদি প্রবাসী আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ মক্কার আল-হেরা ও আল-নূর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। নিলয় ও তানিয়ার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের পৌর এলাকার মুন্সেফ পাড়ায়।   এ/এসএস 
ওমরাহ পালনে গিয়ে দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ মা নিহত
দক্ষিণ কোরিয়ায় সেরা বিজ্ঞানীর পুরস্কার পেলেন যে বাংলাদেশি
দক্ষিণ কোরিয়ায় গবেষণায় সাফল্য দেখিয়েছেন এক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী।  কৃষি ও জৈব প্রযুক্তি নিয়ে ওই বাংলাদেশি সেরা বিজ্ঞানীর পুরস্কার পেয়েছেন। ওই বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নাম নারায়ণ চন্দ্র পাল। তিনি বাংলাদেশের কুমিল্লার সন্তান। দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি বিষয়ক সরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর অধীনে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্রপ সায়েন্স’-এর বায়োএনার্জি ক্রপ রিসার্স ডিভিশনে এ পুরস্কার পান নারায়ণ চন্দ্র পাল। নারায়ণ চন্দ্র পাল গবেষণা করছেন মিষ্টি আলুর ভাইরাস ও ছত্রাকজনিত রোগ নিয়ে।  কৃষি গবেষণায় সবচেয়ে বড় এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে কৃষি গবেষণায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‘সেরা বিজ্ঞানী’ পুরস্কার দিয়ে থাকে।  এ বছর অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করা (পোস্ট ডক্টোরাল) গবেষকদের মধ্যে বাংলাদেশি নারায়ণ চন্দ্র পাল সেরা বিজ্ঞানীর পুরস্কারে ভূষিত হন। নারায়ণ চন্দ্র পাল কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সূর্য্য কুমার পাল ও কানন বালা পালের দ্বিতীয় সন্তান তিনি।  রাজধানীর মতিঝিল মডেল হাই স্কুল, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার চুঙনাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আসেন এমএস ও পিএইচডি করতে।  ২০১২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর দক্ষিণ কোরিয়াতেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করছেন। এসজে
দক্ষিণ কোরিয়ায় সেরা বিজ্ঞানীর পুরস্কার পেলেন যে বাংলাদেশি
‘সেই রাতের কথা ভুলে যেতে চাই’
দেশীয় সংস্কৃতিকে বিদেশের মাটিতে ছড়িয়ে দেয়ার নামে যারা আদম ব্যবসা করেন তারা দেশের শত্রু, তাদের কারণেই প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশীরা। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ‘বাংলাদেশ নাইটস’ নামের একটি অনুষ্ঠানের পর আদম পাচারের অভিযোগে চলচ্চিত্র পরিচালক অনন্য মামুনকে আটকের খবরে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রবাসীরা। সাধারণ প্রবাসীরা বলছেন, একজন চিত্রপরিচালককে সমাজের আট দশজন থেকে আলাদা চোখে দেখি আমরা। আর সেই চিত্রপরিচালক যদি আদম ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তখন তা দেশ ও জাতির জন্য সত্যিই লজ্জার। এ ধরনের ঘটনার জন্যই বিমানবন্দরে সাধারণ বাংলাদেশীদের সন্দেহের চোখে দেখা হয় বলে মন্তব্য করেন তারা।     পরিচালক অনন্য মামুনকে যে বাসা থেকে আটক করা হয়েছে তার নিচ তলায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশী সাইফুল ইসলাম বলেন,  সেই রাতের কথা আমরা ভুলে যেতে চাই। মধ্যরাতে চিৎকার চেঁচামেচিতে আমরা বাইরে বের হয়ে আসি। তার কয়েক ঘন্টা পর উপর থেকে দেখি পুলিশের তিনটি গাড়িতে করে লোক ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তবে আইনি ঝামেলায় পড়ার ভয়ে কাছে যাইনি। গেলো চার বছরে এই কন্ডোমিনিয়ামে কোনোদিন পুলিশ ঢুকতে দেখিনি। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় মার্কেট কোতারায়া বাংলাদেশ বিজনেজ কমিউনিটির সভাপতি রাশেদ বাদল এ প্রসঙ্গে বলেন, সংস্কৃতির মাধ্যমে দু’দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বৃদ্ধি পায় সেজন্য সবসময় আমরা এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বাগত জানাই। কিন্তু অনুষ্ঠানের আড়ালে যখন মানবপাচারের মতো ঘৃণ্য কাজ হয় তখন তা সত্যিই লজ্জার। চিত্রপরিচালক অনন্য মামুনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সঠিক তদন্তপূর্বক বিচারও দাবি করেন এ কমিউনিটি নেতা। শরিয়তপুরের মালয়েশিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী কাজী সালাউদ্দিন বলেন, সম্প্রতি দু’দেশের সরকারি পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে মানবপাচারের অভিযোগ মোটেও ভালো চোখে দেখবে না এ দেশের প্রশাসন। এর প্রভাব পড়বে সাধারণ পর্যটক ও মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপর।  অনেকটা একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম রেজা। এ ধরনের কার্যক্রমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে যাতে কেউ প্রবাসীদের বিনোদন দেয়ার নামে মানবপাচারের মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত না হয় সেজন্য এই চক্রকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন রেজা। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের মাঝে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। সর্বস্তরের প্রবাসীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেনো না ঘটে সেজন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী অনলাইন বোটের কেন্দ্রীয় সদস্য শাহ আলম হাওলাদার বলেন, গুটি কয়েক মানুষের অপকর্মের ফল বইতে হয় লাখো প্রবাসীর। এ ধরনের গর্হিত কাজের জন্য সত্যিকার অর্থে যারা ভ্রমনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় আসেন বা যারা বিভিন্ন সময়ে দেশ থেকে আসা যাওয়া করেন বিমানবন্দওে তারাও প্রশাসনের হয়রানির শিকার হন। বাংলাদেশীদের প্রতি খারাপ ধারণার সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাংলাদেশী নাইটে ফুড স্পন্সর থাকা রসনা বিলাসের স্বত্ত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেসক্লাব মালয়েশিয়ার সভাপতি এস এম রহমান পারভেজ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিনোদনপ্রেমী বাংলাদেশীদের আনন্দদেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে অনন্য মামুন এসেছিলেন। কিন্তু তার আড়ালে যে মানবপাচারের উদ্দেশ্য ছিলো তা আমরা বুঝতে পারিনি। একজন চিত্রপরিচালকের এ ধরনের কাজে সত্যিই হতাশ হয়েছি। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে মালয়েশিয়া কমিউনিটি টেলিভিশন উজারের পরিচালক জুনায়েদ আহমেদও। এদিকে অনুষ্ঠান সফল হলেও বিতর্ক রয়েছে এর টিকিট বিক্রির কৌশল নিয়েও। অনুষ্ঠানের পরদিন তারকাদের সঙ্গে ডিনারের কথা বলে একই টিকিটি এক’শ রিঙ্গিতের জায়গায় দুই’শ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হলেও রাতের খাবার দেয়া হয়নি এবং রাতের খাবারের জায়গায় কোনো তারকারও দেখা মেলেনি। এ নিয়ে সাধারণ প্রবাসীর মাঝেও রয়েছে ক্ষোভ। উল্লেখ্য গেলো ২৩ ডিসেম্বর সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর, আঁখি আলমগীর, শখ, ইমন, নিরব, কবির তিথি, মিষ্টি জান্নাত, আইরিন সুলতানাসহ এক ঝাঁক শিল্পী নিয়ে কুয়ালালামপুরে ‘সিনেমেটিক বাংলাদেশী নাইট’ নামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন পরিচালক অনন্য মামুন। অনুষ্ঠানের পরদিনই মানবপারের অভিযোগে আটক হন তিনি। বর্তমানে অনন্য মামুন পুলিশ হেফাজতে আছেন।   এম/পিআর 
‘সেই রাতের কথা ভুলে যেতে চাই’
আরও পড়ুন
বছরে এক বোতলের কম মদপান করে একজন বাংলাদেশি
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিজয় দিবস উদযাপিত
নিউইয়র্কে হামলায় অস্বস্তিতে বাংলাদেশিরা
কাতার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ বাংলাদেশি