
ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সুদূর ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের তরুণ নুর উদ্দিন। কিন্তু এক নিমেষেই সব স্বপ্ন যেন তলিয়ে গেল ওমান সাগরের অতল গভীরে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ওমান সাগরে দুই ভাই মিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফিশিং করার সময় অসাবধানতাবশত হঠাৎ করেই সাগরের পানিতে পড়ে যান ছোট ভাই নুর উদ্দিন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ।
জানা যায়, নুর উদ্দিন সাত বছর আগে পরিবারের ভাগ্য বদলাতে ওমান পাড়ি জমান। সবশেষ ২০২৪ সালে দেশে এসেছিলেন একবার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় টলার থেকে পড়ে যায় দুইজন, তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করতে পারলেও নুর উদ্দীনকে উদ্ধার করতে পারেনি। এসময় তার বড় ভাই ও সেখানে উপস্থিত ছিল।
নুর উদ্দিনের ঘরে রয়েছে দেড় বছরের একটি ফুটফুটে সন্তান। যে অবুঝ শিশুটি এখনও ভালো করে বাবা বলে ডাকতেও শেখেনি।
ছেলের এই নিখোঁজের খবর সন্দ্বীপে পৌঁছানোর পর পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকারের কালো ছায়া। সবচেয়ে ভেঙে পড়েছেন নুর উদ্দিনের বৃদ্ধ মা ও বাবা রুহুল আমিন, কলিজার টুকরো সন্তানের শোকে তিনি আজ শয্যাশায়ী। মুখে তুলছেন না কোনো দানাপানি। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে শুধু পথ চেয়ে আছেন—কখন আসবে তার আদরের সন্তান, কখন শুনতে পাবেন নুর উদ্দিনের গলার আওয়াজ।
নুর উদ্দিনের আকস্মিক নিখোঁজের ঘটনায় ওমান প্রবাসী বাংলাদেশি ও সন্দ্বীপের স্থানীয় মানুষদের মাঝে তীব্র শোক ও গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিবারের একটাই আকুতি— যে-কোনো মূল্যে নুর উদ্দিন যেন তার দেড় বছরের সন্তান আর বৃদ্ধ বাবার বুকে ফিরে আসেন।
নিখোঁজ প্রবাসী নুরুদ্দিনের ভাগিনা শাহরিয়ার নিশাত বলেন, আমার মামা বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার সময় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় বোর্ড থেকে পড়ে যান, এরপর থেকে মামার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
নুর উদ্দিনরা পাঁচ ভাই ও এক বোন। তিনি সবশেষ ২০২৪ সালে দেশে এসে বিয়ে করেন। তিনি সন্দীপ উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রুহুল আমিনের পুত্র।
আরটিভি/এসএস




