
৩২তম আন্তর্জাতিক ও ২৫তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আরটিভি আয়োজন করেছে ‘আরটিভি অদম্য সম্মাননা ২০২৩।’ এ অনুষ্ঠানে চারজন অদম্য সফল ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রোববার (৩ ডিসেম্বর) আরটিভির তেজগাঁও মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ বছর সম্মাননা পেয়েছেন- প্রতিবন্ধিতা জয়ী শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার, প্রতিবন্ধিতা উত্তরণে সফল ব্যক্তি হেদায়তুল আজিজ মুন্না, প্রতিবন্ধিতা উত্তরণে সহায়ক গণমাধ্যম কর্মী নীলিমা জাহান (দ্য ডেইলি স্টার), প্রতিবন্ধিতা উত্তরণে সহায়ক বিদেশি প্রতিষ্ঠান সিবিএম, বাংলাদেশ ও প্রতিবন্ধিতা উত্তরণে সহায়ক দেশীয় প্রতিষ্ঠান কামরুন্নেছা আশরাফ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়, নেত্রকোণা।
সৈয়দা মুনিরা ইসলামের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও সঞ্চালনায় ‘আরটিভি অদম্য সম্মাননা ২০২৩’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, বিএসএমএমই উপচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ ও আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান, ফাউন্ডিং মেম্বার অব বাংলাদেশ ভেলোরি টেলর ও ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিসঅ্যাবিলিটি কনসালটেন্স জুলিয়ান ফ্রান্সিস।

অতিথিরা প্রতিবন্ধীদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানো, উন্নত প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও তাদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে জোর দেন। একই সঙ্গে আরটিভির এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আরটিভির এমন আয়োজনের প্রশংসা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রতিবন্ধিতার ওপরে আমাদের আরও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। এই ধরনের অনুষ্ঠান হলে এগুলো সম্পর্কে মানুষ জানবে ও সচেতন হবে।
তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন, বাবা-মা থাকলে প্রতিবন্ধী শিশুদের দেখাশোনা করার লোক থাকে। যার পরিবারে একটি প্রতিবন্ধী বাচ্চা রয়েছে, সেই পরিবারের বাবা-মা ভাই-বোনের সামাজিক সম্পর্কটা খুব দুর্বল। কারণ, এই বাচ্চার কারণে কোথাও যেতে পারে না। এই ব্যাপারে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। যখন বাচ্চার বাবা-মা থাকবে না, কে এইসব ব্যক্তির দেখাশোনা করবে। আমার মনে হয় এ ব্যাপারে সরকারের চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন আছে।

সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের আসলে প্রতিটি জেলায়; এমনকি প্রতিটি উপজেলায় প্রতবন্ধীদের জন্য স্কুল দরকার। পৃথিবী অনেক এগিয়েছে; বিজ্ঞানে আমরা অনেক এগিয়েছি, মানসিক দিক থেকেও অবশ্যই আমরা এগিয়েছি। প্রতিবন্ধীদের জন্য আমাদের আরও অর্থ বরাদ্দ করা দরকার। টেকনোলোজির সঙ্গে প্রতিবন্ধিতার একটা সংযোগ করিয়ে দেওয়া দরকার।
আরটিভির এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ রকম অনুষ্ঠান আরও যদি কেউ করে মানুষ আরও অনেক সচেতন হবে, ফান্ড ক্রিয়েট করা সম্ভব হবে। সেখান থেকে প্রতিবন্ধীদের মোবিলিটি কিংবা তাদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করা সম্ভব হবে।
ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, একজন ব্যক্তি হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমাদের প্রতিবেশী যারা প্রতিবন্ধী রয়েছে তাদের নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। অনেকে জন্মগতভাবে কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্রতিবন্ধী। আমাদের একটু সদিচ্ছা ও কাজে যদি তাদের উন্নয়ন হয় সেটি আমাদের করা উচিত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছেন। তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার পর বাংলাদেশে একটি বিপ্লব সূচিত হয়েছে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় অর্গানাইজেশন হয়েছে, স্কুল হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে এগিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আরটিভির যে আয়োজন সেই আলোকিত আয়োজনের আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ুক। ২০৪১ সালে আমরা সোনালি সূর্যের বাংলাদেশ দেখতে চাই, সেখানে কোনো প্রতিবন্ধী অসহায় থাকবে না।
আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংখ্যা ৪৬ লাখের বেশি। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব না। দেশে এমন অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছেন, যারা তাদের শারীরিক কিংবা মানসিক প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেউ কেউ আছেন, যারা শুধু নিজেরাই নয়, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে অনুসরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। আবার এমন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতিবন্ধী জনগণের উন্নয়নে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সৈয়দ আশিক রহমান বলেন, আরটিভি মনে করে, প্রতিবন্ধিতা বিজয়ী এসব মানুষ এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে যাওয়া প্রচারবিমুখ মহান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবদান জাতির সামনে তুলে ধরলে একদিকে যেমন ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে, তেমনি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করতে আরও অনেকে আত্মনিয়োগ করবে।
এবারের সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন-
প্রতিবন্ধিতা উত্তরণে সফল ব্যক্তি হেদায়তুল আজিজ মুন্না
হেদায়তুল আজিজ মুন্না মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে পঙ্গুত্ববরণ করেন। জীবনযুদ্ধে হার না মেনে তার পরিবার ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্তরিকতায় ও ভালোবাসায় এগিয়ে গেছেন অনেক দূর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারিতে শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং সেইসঙ্গে সিআরপির সহযোগিতায় কানাডা কুইন্স ইউনিভারসিটির অধীনস্ত প্রতিবন্ধিতা ও প্রতিবন্ধকতার ওপর একটি সর্ট গ্রাজুয়েট কোর্স করেন। প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ড্রিম ফর ডিস অ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন। যেখানে দেশের মেধাবী প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের নিয়ে ক্রিকেট দল গঠন করেন। সফলভাবে আয়োজন করতে থাকেন বিভিন্ন ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থানমূলক প্রতিষ্ঠান এবং নানামুখী উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। করোনা অতিমারি সময় প্রায় তিন হাজার ৬৯২ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
হেদায়তুল আজিজ মুন্না ২০১৯ সালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ ছাড়া যুব পুরস্কার, মানবাধিকার সেবা পুরস্কার, অশোকা অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
প্রতিবন্ধিতা জয়ী শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার
সোনিয়া আক্তারের জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। একটি পা অন্যটির চেয়ে কিছুটা খাটো। তবে এই সন্তাকে ঘরে ফেলে রাখেনি মা-বাবা। সোনিয়ার আগ্রহ থাকায় অভাবের সংসারেও তার পড়াশোনা সচল রেখেছেন। প্রতিবন্ধীদের স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে সাভার অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় ভর্তি হন সোনিয়া।
২০২০ সালে এসএসসি পাস করে সাভার সরকারি কলেজে পড়ার সুযোগ পান তিনি। অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর মনোবল নিয়ে পা দিয়ে লিখেই মানবিক বিভাগে জিপিএ ৪.৩ পেয়ে এইচএসসি পাস করে চমক দেখিয়েছেন সোনিয়া। সংসারের টুকটাক কাজও করেন পা দিয়ে।
উচ্চশিক্ষিত হয়ে একটি চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে চান সোনিয়া। ছিল আর্থিক দীনতা, ছিল না স্বাভাবিক চলাচলের সক্ষমতা তবুও পরিবারের সহযোগিতা এবং নিজের আপ্রাণ চেষ্টা তাকে নিয়ে এসেছে এতদূর।
প্রতিবন্ধিতা উত্তরণে সহায়ক দেশীয় প্রতিষ্ঠান কামরুন্নেছা আশরাফ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়
কামরুন্নেছা আশরাফ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়। এটি মূলত বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার আদায়বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে নেত্রকোণা জয়নগর আধুনিক সদর হাসপাতাল রোডে কামরুন্নেছা আশরাফ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠাতাকালীন সময় থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা। যার অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে এমপিও ভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে এবং ২৭০ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। জাতীয় স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২২ সনে কামরুন্নেছা আশরাফ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠানটি অসচ্ছল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নতমানের খাদ্য সামগ্রী, শীতবস্ত্র, ত্রাণ সামগ্রী ও হুইল চেয়ার বিতরণ করে থাকে। ২০২৩ সালে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত স্পেশাল অলিম্পিকসে সাঁতার প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীরা একটি স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন।
প্রতিবন্ধিতা উত্তরণে সহায়ক বিদেশি প্রতিষ্ঠান সিবিএম গ্লোবাল ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন
সিবিএম গ্লোবাল ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সিবিএম ইন্টারন্যাশনাল স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন এবং পরবর্তীতে ২০০৬ সালে কান্ট্রি অফিস স্থাপনের পর থেকে নানানভাবে সহযোগিতা করে আসছে।
সিবিএম ইন্টারন্যাশনাল ২০১৯ সালে দুটি ভিন্ন ভিন্ন ফেডারেশন গঠন করে; যা যথাক্রমে- সিবিএম ইন্টারন্যাশনাল এবং সিবিএম গ্লোবাল ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় স্বাস্থ্য, একীভূত চক্ষু চিকিৎসা, পুনর্বাসন, সচেতনতা এবং আইনি সহায়তা নিয়ে কাজ করে।
প্রতিবন্ধিতা উত্তরণে সহায়ক গণমাধ্যমকর্মী নীলিমা জাহান
নীলিমা জাহান দ্য ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে কর্মরত রয়েছেন। ইউনির্ভাসিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ থেকে মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
নীলিমা জাহানের লেখায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, শিশু ও নারী অধিকার, শিশুশ্রম, মানবাধিকারবিষয়ক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়ে থাকে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে নীলিমা জাহানের লেখাগুলো ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে সচেতনতা নিয়ে আসছে। তার ইতিবাচক লেখাগুলো প্রতিবন্ধী মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে চলেছে।
প্রতিবন্ধিতা জয়ী শিক্ষার্থী ইব্রাহিম
ইব্রাহিমের দুই হাত ও পা জন্মগতভাবেই বাঁকা। ঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। কিন্তু দমে যাননি। সব প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে জীবন যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন তিনি। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার চৌহাটি গ্রামে তার জন্ম। রাজমিস্ত্রির কাজ করে তিন সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কেটেছে ইব্রাহিমের মা-বাবার। পড়ালেখার আগ্রহ দেখে মা-বাবা তাকে বাড়ির পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। ইব্রাহিমের মা-বাবা দুজনেই কোলে করে সন্তানকে স্কুলে দিয়ে আসেন আবার নিয়ে আসেন। ২০১৭ সালে এসএসসি এবং ২০২৩ সালে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটট থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা পাস করেন। বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন ও মার্কেটিং প্রমোশনের অনলাইনে কাজ করে থাকেন। তার স্বপ্ন আগামীতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে বিএসসি সম্পন্ন করে মা-বাবার কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে অবদান রাখা।




