
সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব এবং রাসূল সা.-এর সুন্নত। রাসূল সা. সুগন্ধি খুবই পছন্দ করতেন এবং তিনি প্রায় সবসময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তার সুগন্ধি ব্যবহার সম্পর্কে এক হাদিসে হজরত আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন—রাসূল সা. যখন আমাদের দিকে আসতেন তখন তাঁর সুগন্ধির কারণে আমরা আগে থেকেই টের পেতাম যে তিনি আসছেন। (আখলাকুন্নবী সা. ২১৮)
নবীজি (সা.) সুগন্ধি খুবই ভালোবাসতেন। এটি ছিল তার প্রিয় অভ্যাসগুলোর একটি। নবীজি বলেন, ‘দুনিয়ার দুটি জিনিস আমার প্রিয় করে দেওয়া হয়েছে: স্ত্রী ও সুগন্ধি। আর আমার আত্মার প্রশান্তি নিহিত রয়েছে নামাজে।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩,৯৩৯)
নবীজি (সা.) নিয়মিত সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। এটি তার বিশেষ এক বৈশিষ্ট্য ছিল। তা ছাড়া ফেরেশতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সাধারণ মুসলিম এবং দূত ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তার নিয়মিত মতবিনিময় হতো। সে জন্যও তিনি সুগন্ধি ব্যবহার করতে ভালোবাসতেন। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুলের একটি আতরদানি ছিল, যা থেকে তিনি সুগন্ধি ব্যবহার করতেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪,১৬২)
সুমামা ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, কেউ সুগন্ধি দিলে আনাস (রা.) তা ফিরিয়ে দিতেন না। তিনি বলতেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) কখনো সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২,৫৮২)
আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কারও সামনে সুগন্ধি পেশ করা হলে সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়। কেননা, তা সুঘ্রাণ ও সহজে বহনযোগ্য।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪,১৭২)
আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমি আম্বরে মেশকে এবং অন্য কোনো জিনিসে তেমন সুবাস পাইনি, যা পেয়েছি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দেহে। তেমনিই আল্লাহর রাসুলের হাতের চেয়ে কোমল কোনো রেশম বা মোলায়েম বস্তু আমি স্পর্শ করিনি কখনো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩,৫৬১)
অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) মদিনার কোনো পথ দিয়ে হেঁটে গেলে মদিনাবাসী তার সুবাস অনুভব করত আর বলত, আল্লাহর রাসুল এই পথ দিয়ে গেছেন।’ (মুসনাদে বাযযার, হাদিস: ৭,১১৮)
ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) বলেন, সুগন্ধি হলো আত্মার খোরাক আর আত্মা হলো শক্তির বাহন। সুগন্ধি শক্তি বৃদ্ধি করে। মন, মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও শরীর ভালো রাখে। এসব কারণে সুগন্ধি ছিল নবীজি (সা.)-এর কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু।
সুগন্ধির অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফেরেশতারা সুগন্ধি পছন্দ করেন। শয়তানেরা করে না। তাদের পছন্দ হলো দূষিত দুর্গন্ধ। তাই বলা যায়, পবিত্র আত্মাগুলো সুগন্ধি পছন্দ করে আর অপবিত্র আত্মারা দুর্গন্ধ পছন্দ করে। প্রতিটি আত্মা তার সাদৃশ্যপূর্ণ উপাদানের প্রতি আকৃষ্ট হয়। পবিত্ররা পবিত্রদের প্রতি, অপবিত্ররা অপবিত্রদের প্রতি। জীবনের সব ক্ষেত্রেই এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। (ইবনুল কাইয়ুম, যাদুল মাআদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৫৬-২৫৭)
আরটিভি/এমএ




