ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মসজিদ ও মুসলিমদের নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ নিল যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০১:০১ পিএম
ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্য জুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় ও মসজিদগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত ১ কোটি পাউন্ড (প্রায় ১৪ কোটি টাকা) বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাম্প্রতিক সময়ে মুসলমানদের ওপর হামলা ও মসজিদে অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় উদ্বেগ বৃদ্ধির কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি ও স্কাই নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইস্ট সাসেক্সের পিসহ্যাভেন মসজিদে সন্দেহজনক অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সেখানে যান স্টারমার। সফরকালে তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছে, যাতে তারা ‘শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে’ জীবনযাপন করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ব্রিটেন একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গর্ব করে। কোনো সম্প্রদায়ের ওপর হামলা মানে পুরো জাতি ও আমাদের মূল্যবোধের ওপর আঘাত।

আরও পড়ুন

গত ৪ অক্টোবরের সেই ঘটনায় মসজিদের মূল প্রবেশপথ ও একটি গাড়ি পুড়ে যায়। তবে কেউ আহত হয়নি। মুসলিম বিদ্বেষজনিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ঘটনাটি তদন্ত করছে সাসেক্স পুলিশ। বুধবার (২৩ অক্টোবর) জীবননাশের উদ্দেশ্যে অগ্নিসন্ত্রাসের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার বলছে, নতুন এ তহবিল থেকে যুক্তরাজ্যের মসজিদ ও মুসলিম ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি, অ্যালার্ম সিস্টেম, নিরাপত্তা বেড়া স্থাপন ও প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে সহায়তা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

কিয়ার স্টারমার বলেন, উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী থাকা উচিত নয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ আমাদের সে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ব্রিটেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসলামবিদ্বেষমূলক অপরাধ ১৯ শতাংশ বেড়ে গেছে যুক্তরাজ্যে। সব ধর্মীয় ঘৃণাজনিত অপরাধের ৪৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন মুসলমানরা।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
লন্ডন থেকে আসা বিমানে বোমা হামলার হুমকি
নীল আকাশ আর মেঘের ভেলায় যখন স্বপ্নের মতো ভাসছিল শত শত যাত্রী নিয়ে একটি বিমান, ঠিক তখনই এক বেনামি ইমেইল বিষাদ ছড়িয়ে দিল কয়েক হাজার ফুট ওপরে। নিরাপত্তার চাদর ছিঁড়ে এক অজানা আতঙ্ক হানা দিল লন্ডন থেকে হায়দ্রাবাদগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানে। কয়েক ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস উৎকণ্ঠা শেষে হায়দ্রাবাদের রাজিব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন চাকাগুলো মাটি ছুঁল, তখন যেন ফিরে এল এক নতুন জীবন। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার(২২ ডিসেম্বর) লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রাক্কালে বিমানবন্দরের কাস্টমার সাপোর্ট সার্ভিসের ই-মেইলে বোমা হামলার এই হুমকি আসে। অজ্ঞাত পরিচয় থেকে পাঠানো সেই বার্তায় গোটা বিমান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আরও পড়ুন লন্ডনে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার গ্রেটা থুনবার্গ হুমকির খবর পাওয়ামাত্রই ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করে। মঙ্গলবার সকালে বিমানটি হায়দ্রাবাদে অবতরণের পর দ্রুত সেটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে যাত্রী ও পণ্য তল্লাশি করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বোমা পাওয়া যায়নি। মূলত ভুয়া হুমকির মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। উদ্বেগের বিষয় হলো, একই রাতে আমস্টারডাম থেকে হায়দ্রাবাদগামী আরও একটি ফ্লাইটে একই ধরনের হামলার হুমকি আসে। সেই বিমানটিও নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং তল্লাশিতে ক্ষতিকর কিছু মেলেনি। ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একের পর এক এমন বেনামি হুমকি যাত্রীদের মাঝে ভীতি তৈরি করছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখে দিতে ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনী ও ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এই ভুয়া ই-মেইলের উৎস খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আরটিভি/এআর 
লন্ডন থেকে আসা বিমানে বোমা হামলার হুমকি
লন্ডনে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার গ্রেটা থুনবার্গ
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ করার সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন সুইডেনের বিশ্বখ্যাত জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভকালে তাকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় থুনবার্গের হাতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে একটি প্ল্যাকার্ড ছিল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রচার গোষ্ঠী ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস জানিয়েছে, গ্রেটাকে ব্রিটেনের বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন বন্দিদের সমর্থন করি। আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি। আরও পড়ুন যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন লাখ লাখ মুসলিম সিটি অব লন্ডন পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, ২২ বছর বয়সী এক নারীকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশন-এর পক্ষে সমর্থনসূচক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০-এর ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এর আগে ওই একই এলাকায় একটি ভবনে লাল রং নিক্ষেপের অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে ভবনটির সামনে এই বিক্ষোভ চলছিল, সেটি একটি আন্তর্জাতিক বীমা প্রতিষ্ঠানের অফিস। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমস-এর ব্রিটিশ শাখাকে বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। এই কোম্পানিটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরি করে। গ্রেটা থুনবার্গের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। আরটিভি/এআর 
লন্ডনে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার গ্রেটা থুনবার্গ
যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন লাখ লাখ মুসলিম
যুক্তরাজ্য সরকারের হাতে থাকা চরম ও গোপন নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা দেশটির লাখো মুসলিম নাগরিককে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে সতর্ক করেছে একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদন। এই ক্ষমতার ফলে বহু মানুষের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব যেকোনো সময় কেড়ে নেওয়া হতে পারে। মিডল ইস্ট আইয়ের। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার ও নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রানিমিড ট্রাস্ট ও রিপ্রিভ যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। আরও পড়ুন এবার যুক্তরাজ্যের জাদুঘর থেকে ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমান আইনি কাঠামোর আওতায় দেশটির প্রায় ৯ মিলিয়ন বা ৯০ লাখ (প্রায় ১৩ শতাংশ) মানুষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কারণে নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ক্ষমতা দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে পারিবারিক বা বংশগত সম্পর্ক রয়েছে এমন নাগরিকদের ওপর অসমভাবে প্রভাব ফেলছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই বলেছে, বর্তমান নাগরিকত্ব বাতিলের ব্যবস্থা মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য একটি পদ্ধতিগত হুমকিতে পরিণত হয়েছে, যা ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগে আলোচিত উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনীয়। প্রচলিত আইনে সরকার যদি মনে করে কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, তাহলে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে—এমনকি তিনি ওই দেশে কখনো বসবাস না করলেও। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এমন ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এই অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। বাস্তবে যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই দক্ষিণ এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বংশোদ্ভূত মুসলিম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিপরীতে, শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি মাত্র ২০ জনে একজন। রিপ্রিভের কর্মকর্তা মায়া ফোয়া এবং রানিমিড ট্রাস্টের পরিচালক শাবনা বেগম নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপক ও প্রায় নজরদারিহীন ক্ষমতার সমালোচনা করেছেন এবং নাগরিকত্বকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছেন। রিপ্রিভের কর্মকর্তা মায়া ফোয়া মিডল ইস্ট আইকে বলেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আগের সরকার মানব পাচারের শিকার ব্রিটিশ নাগরিকদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিল। আর বর্তমান সরকার এ চরম ও গোপন ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরবর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ৯০ লাখ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারেন, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। রানিমিড ট্রাস্টের পরিচালক শাবনা বেগম বলেন, নাগরিকত্ব কোনো সুযোগ নয়, এটি একটি অধিকার। অথচ একের পর এক সরকার নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে দ্বিস্তরের নীতি চালু করছে। তিনি এই ক্ষমতাকে উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী আইনগুলোর মতোই কার্যকরী নজরদারিবিহীন বলে মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের বহুল আলোচিত উদাহরণ হিসেবে শামিমা বেগমের ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া এই কিশোরীর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় তাকে বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করে, যদিও বাংলাদেশ সরকার সে দাবি অস্বীকার করেছে। এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকে দলের নেতারা আরও কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। আরটিভি/এআর 
যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন লাখ লাখ মুসলিম
এবার যুক্তরাজ্যের জাদুঘর থেকে ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি
ফ্রান্সের ল্যুভর জাদুঘর থেকে বহু মূল্যবান জিনিস চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ব্রিটেনের ঐতিহাসিক জাদুঘরে হানা দিল চোরেরা। লন্ডন থেকে নয়, এবার চুরি হয়েছে দক্ষিণপশ্চিমের শহর ব্রিস্টলের ব্রিটিশ এম্পায়ার অ্যান্ড কমনওয়েলথ জাদুঘর থেকে। জানা যায়, এই জাদুঘর থেকে রাজপরিবার, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত ৬ শতাধিক অমূল্য শিল্পকর্ম চুরি হয়েছে। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ্যে এসেছে। ব্রিস্টল পুলিশ এই চুরি হওয়া শিল্পকর্মগুলোর ব্যাপক সাংস্কৃতিক মূল্য রয়েছে বলে জানিয়েছে। আরও পড়ুন যেভাবে মাত্র ৪ মিনিটে লুট হলো ল্যুভর মিউজিয়াম, যা নিয়ে গেল চোরেরা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ব্রিস্টল পুলিশের বরাত দিয়ে বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার সন্দেহভাজনের ছবিও প্রকাশ করেছে। জানা যায়, চুরির ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এত বড় একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে কেন আড়াই মাস সময় লাগল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ— কেউই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ব্রিস্টল নগর কাউন্সিলের সংস্কৃতি এবং সৃষ্টিশীল শিল্প বিভাগের প্রধান ফিলিপ ওয়াকার জানিয়েছেন, চুরি হওয়া শিল্পকর্মের তালিকায় রয়েছে মেডেল, ব্যাজ ও পিন, নেকলেস, চুড়ি, আংটি, নকশা খোদাই করা হাতির দাঁত, রুপা ও ব্রোঞ্জের মূর্তি, গৃহসজ্জার সামগ্রী এবং বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক নমুনা। এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিপ ওয়াকার বলেন, চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলো ব্রিটেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের। ২০০ বছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখেছে এবং এর দ্বারা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে— সেসবের সঙ্গে সম্পর্কিত অমূল্য সব রেকর্ড ছিল এই শিল্পকর্মগুলো। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং ব্রিস্টল পুলিশের জ্যেষ্ঠ কনস্টেবল ড্যান বার্গান বলেন, এটা আমাদের শহরের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। চুরি হওয়া অনেক শিল্পকর্মই দান করা হয়েছিল, অর্থাৎ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় বিভিন্ন দেশের অভিজাতরা এগুলো দান করেছিলেন। এমন অনেক শিল্পকর্ম চুরি হয়েছে, যেগুলো আমাদের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতীক। ড্যান বার্গান এএফপিকে আরও বলেন, তারা এখন পর্যন্ত চারজন সন্দেহভাজন সম্পর্কে তথ্য পেয়েছেন এবং তাদের ছবিও প্রকাশ করেছেন। তিনি সন্দেহভাজনদের আটকের জন্য জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন। আরটিভি/এআর 
এবার যুক্তরাজ্যের জাদুঘর থেকে ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি
আইইএলটিএস-এ ফেল করেও মিলেছে ব্রিটিশ ভিসা, প্রশ্নফাঁস হয়েছে বাংলাদেশে
শিক্ষা ও জীবিকার জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে বাধ্যতামূলক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় ফেল করা সত্ত্বেও দেশটির ভিসা পেয়েছেন হাজার হাজার অভিবাসী। গত কয়েক বছরে আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮০ হাজারের মতো পরীক্ষার্থীকে ভুল ফলাফল দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ফেল করা অনেক পরীক্ষার্থীকেই পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে।  শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ, চীন ও ভিয়েতনামে আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্য অভিবাসীদের ভিসা দেওয়া হয়েছে, যারা ভিসা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। এ তথ্য সামনে আসার পর থেকেই অযোগ্য এসব অভিবাসীদের নির্বাসিত করার দাবি জানাচ্ছে কনজারভেটিভ পার্টি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কাউন্সিল, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট এবং অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ইডুকেশন কম্পানি আইডিপি-এর যৌথ মালিকানাধীন ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম (আইইএলটিএস) পরীক্ষায় প্রতিবছর সারা বিশ্বে ৩৬ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। আরও পড়ুন মালয়েশিয়ায় ‘নিষিদ্ধ পল্লী’ থেকে বাংলাদেশিসহ আটক ১৩৯ ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজার হাজার পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় ভুল ফলাফল পেয়েছেন। এর পেছনে ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’কে দায়ী করেছে আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলে অল্প কিছু পরীক্ষার লিসেনিং এবং রিডিং পরীক্ষার ফলাফলা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে।  এই ত্রুটির ফলে মাত্র ১ শতাংশ পরীক্ষা প্রভাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। যদিও এই সংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজার পরীক্ষার সমান।  সম্প্রতি পরীক্ষার ফলাফল প্রদানে এই ত্রুটির বিষয়টি ধরা পড়ে। গত মাসে এক বিবৃতিতে  আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ সঠিক ফলাফল প্রদান করতে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ব্রিটিশ চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (এনএইচএস)-এর অনেক অভিবাসী কর্মীর ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অনেক কম। ফলে, যুক্তরাজ্যে রোগীদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আরটিভি/এসএইচএম  
আইইএলটিএস-এ ফেল করেও মিলেছে ব্রিটিশ ভিসা, প্রশ্নফাঁস হয়েছে বাংলাদেশে
আরও পড়ুন
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা
খালেদা জিয়ার জানাজা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা
খালেদা জিয়ার জানাজা পড়াবেন মুফতি আব্দুল মালেক, কী তার পরিচয়
এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার