ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কোরবানির গোশত ৩ দিনের বেশি রাখা জায়েজ?

আরর্টিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা ত্যাগ ও আল্লাহভীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। হযরত আদম (আ.)–এর সময় থেকে শুরু হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)–এর মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই ইবাদত মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলমান, যিনি মুকিম অবস্থায় ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। নেসাব হলো—সোনার ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি এবং রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি, অথবা এর সমমূল্যের সম্পদ।

কোরবানির গোশত সংরক্ষণ নিয়ে সমাজে অনেক প্রশ্ন থাকে—বিশেষ করে, ৩ দিনের বেশি রাখা যাবে কি না।

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মদিনার প্রথম যুগে খাদ্য সংকট ছিল। তখন নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে কোরবানির গোশত তিন দিনের বেশি জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি সংরক্ষণ করার অনুমতি দেন।

আরও পড়ুন

হাদিসে হযরত জাবির (রা.) বলেন— “নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিনের পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর বললেন, খাও, পাথেয় হিসেবে সঙ্গে নাও এবং সংরক্ষণ করে রাখ।” (মুসলিম: ১৯৭২)

আরেক হাদিসে এসেছে— “আমি তোমাদেরকে তিন দিনের পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যাতে সচ্ছল ব্যক্তিরা অসচ্ছলদের তা দিতে পারে। এখন তোমরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সংরক্ষণ করো।” (তিরমিজি: ১৫১০)

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের গোশত এবং না তাদের রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করো, কারণ তিনি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। আর সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দিন।” (সূরা আল-হজ: ৩৭)

তাই কোরবানির গোশত ৩ দিনের বেশি সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ জায়েজ। তবে মূল উদ্দেশ্য হলো গরিব-দুঃখীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া, তাকওয়া অর্জন করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন।
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
আরও পড়ুন
কোরবানির গোশত দিয়ে বিয়ের আপ্যায়ন করা কী জায়েজ?