ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের বিশেষ ফজিলত 

আরর্টিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের বিশেষ ফজিলত । ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আয়াত ২৮৫-২৮৬) মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সহিহ হাদিসে এই দুই আয়াত তিলাওয়াতের বহু মর্যাদা ও উপকারের কথা বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে এই আয়াত দুটি পড়ার প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উৎসাহ দিয়েছেন।

এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, একদিন আকাশের এমন একটি দরজা খোলা হয়, যা আগে কখনো খোলা হয়নি। সেই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে এসে বলেন, আপনার আগে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি—এমন দুটি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। একটি হলো সুরা ফাতিহা, অন্যটি সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত। এই আয়াতগুলোর দোয়াগুলো পাঠ করলে আল্লাহ তা কবুল করবেন।
সূত্র: সহিহ মুসলিম (হাদিস: ৮০৬)

আরও পড়ুন

রাতে ঘুমানোর আগে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলতের কথাও হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

«مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ»

অর্থ: "যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াত করবে, এ দুটি আয়াত তার জন্য যথেষ্ট হবে।"
সূত্র: সহিহ বুখারি (হাদিস: ৫০০৯/৫০১০), সহিহ মুসলিম (হাদিস: ৮০৭)

ইসলামি আলেমরা এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, "যথেষ্ট হবে" অর্থ—আল্লাহর ইচ্ছায় এ আয়াত দুটি মানুষকে রাতের বিপদ-আপদ, শয়তানের অনিষ্ট এবং নানা অকল্যাণ থেকে হেফাজতের কারণ হতে পারে।

Web-Image.
সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আয়াত ২৮৫-২৮৬)

হযরত আবু মাসউদ আল-আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।
সূত্র: সহিহ বুখারি (হাদিস: ৫০০৯), সহিহ মুসলিম (হাদিস: ৮০৭)

সুরা বাকারার শেষ আয়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا...﴾

অর্থ: "আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে, তা তারই জন্য এবং যা অপরাধ করে, তার দায়ও তার ওপর। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক।"
সূত্র: সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৬

সহিহ হাদিসে এসেছে, এই দোয়াগুলোর জবাবে আল্লাহ তাআলা "আমি কবুল করেছি" বলে উত্তর দিয়েছেন।
সূত্র: সহিহ মুসলিম (হাদিস: ১২৬)

তাই আলেমরা বলেন, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াত করা একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত, নিরাপত্তা ও বরকত লাভের আশা করা যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিয়মিত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হারামাইনে আজ জুমার ইমাম যারা
আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর। পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে জুমার নামাজ আদায় করবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা।
হারামাইনে আজ জুমার ইমাম যারা
জুমার দিন যে আমলগুলো ভুলবেন না
ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর তুলনায় এ দিনের রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত।
জুমার দিন যে আমলগুলো ভুলবেন না
আজকের নামাজের সময়সূচি
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লিদের জন্য আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
আজকের নামাজের সময়সূচি
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- জোহর- ১১:৫৫ মিনিট আসর- ৪:১৪ মিনিট মাগরিব- ৫:৫৯ মিনিট এশা- ৭:১৩ মিনিট আগামীকাল (শুক্রবার) ফজর শুরু- ৪:৩৩ মিনিট উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হলো- যোগ করতে হবে: খুলনা: ০৩ মিনিট রাজশাহী: ০৭ মিনিট রংপুর: ০৮ মিনিট বরিশাল: ০১ মিনিট বিয়োগ করতে হবে: চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট সিলেট: ০৬ মিনিট আরটিভি/টিআর
আজকের নামাজের সময়সূচি
ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম কী ও কেন?
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার পবিত্র রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ। সুফি অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দিনটি ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ নামে পরিচিত।
ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম কী ও কেন?