ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ালে আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফলমূল থেকে আহার করাবেন 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ালে মিলবে জান্নাতের নেয়ামত । ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ক্ষুধার্ত, অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ, গুনাহ ক্ষমা এবং জান্নাতের নেয়ামত অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে খাদ্য দানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ ۝ يَتِيمًا ذَا مَقْرَبَةٍ ۝ أَوْ مِسْكِينًا ذَا مَتْرَبَةٍ

অর্থ: ‘অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে নিকটাত্মীয় এতিমকে কিংবা মাটিতে লুটিয়ে থাকা অভাবগ্রস্তকে আহার করানো।’
(সুরা আল-বালাদ, আয়াত: ১৪-১৬)

আরও ইরশাদ হয়েছে—

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا

অর্থ: ‘তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবী, এতিম ও বন্দিদের খাবার খাওয়ায়।’
(সুরা আদ-দাহর, আয়াত: ৮)

আরও পড়ুন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার খাওয়ানোকে ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইসলামের সবচেয়ে উত্তম কাজ কোনটি? জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৯)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত মুমিনকে আহার করাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফলমূল থেকে আহার করাবেন।’
(জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৪৯)

তিনি আরও বলেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়াও, অসুস্থদের দেখতে যাও এবং বন্দিদের মুক্ত করার চেষ্টা করো।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৭৩)

হাদিসে আরও এসেছে, ‘সে ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’
(মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৪৯৯১)

ইসলাম শুধু দান করার নির্দেশই দেয়নি, বরং অন্যদেরও ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়াতে উৎসাহিত করতে বলেছে। যারা অভাবীদের খাবার দিতে উৎসাহিত করে না, তাদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ ۝ فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ ۝ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ

অর্থ: ‘তুমি কি তাকে দেখেছ, যে পরকালকে অস্বীকার করে? সে-ই এতিমকে ধাক্কা দেয় এবং অভাবীকে খাবার খাওয়াতে মানুষকে উৎসাহিত করে না।’
(সুরা আল-মাউন, আয়াত: ১-৩)

ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, ক্ষুধার্ত মানুষকে আহার করানো শুধু একটি দান নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং জান্নাত লাভের অন্যতম সহজ ও মহৎ আমল। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা প্রত্যেক মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন।
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
আরও পড়ুন
কারা আল্লাহর সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হবেন
গাজীপুরে গরুর মাংস রান্নার সময় ভেসে উঠল ‘আল্লাহর নাম’