ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

গাছ লাগানো নিয়ে যা বলেছেন আমাদের প্রিয় নবী (সা.)

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ এএম
গাছ লাগালেই মিলবে সদকার সওয়াব । ছবি: সংগৃহীত

গাছ লাগানো শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজ নয়, ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি একটি বড় নেক আমল। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব, গাছের মর্যাদা এবং অকারণে গাছ কাটার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসলামে গাছ লাগানোকে সদকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যদি কোনো মুসলিম গাছ লাগায় বা জমিতে ফসল বোনে, এরপর তা থেকে মানুষ, পাখি বা কোনো প্রাণী খায়, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩২০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৫৫)

গাছও আল্লাহকে সিজদা করে

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন—

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ

অর্থ: "আপনি কি দেখেননি, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, পর্বত, বৃক্ষ, জীবজন্তু এবং বহু মানুষ আল্লাহকে সিজদা করে।"
(সুরা হজ, আয়াত: ১৮)

আরও এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ ۝ وَنَزَّلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً مُّبَارَكًا فَأَنبَتْنَا بِهِ جَنَّاتٍ وَحَبَّ الْحَصِيدِ

অর্থ: "আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বত স্থাপন করেছি এবং সেখানে নানা ধরনের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ জন্মিয়েছি। আর আকাশ থেকে বরকতময় বৃষ্টি বর্ষণ করেছি, যার মাধ্যমে উদ্যান ও শস্য উৎপন্ন করেছি।"
(সুরা কাফ, আয়াত: ৭-৯)

আরও পড়ুন

গাছ লাগালে চলতে থাকে সওয়াব

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, "যে ব্যক্তি একটি গাছ লাগায় এবং ফল ধরার আগ পর্যন্ত তার যত্ন নেয়, সেই গাছের প্রতিটি ফলের বিনিময়ে আল্লাহ তাকে সদকার সওয়াব দান করেন।"
(মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৬৭০২; শুআবুল ঈমান, হাদিস: ৩২২৩)

ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, গাছ লাগানো ব্যক্তি মৃত্যুর পরও সেই গাছ থেকে মানুষ বা প্রাণী উপকৃত হলে তার আমলনামায় সদকার সওয়াব লেখা হতে থাকে।

অকারণে গাছ কাটার বিষয়ে সতর্কবার্তা

পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের উপকারের জন্য গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অপ্রয়োজনে গাছ কাটতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন মহানবী (সা.)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হুবশি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটবে, আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন।"
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫২৪১)

তবে আলেমরা জানিয়েছেন, মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে বা জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে গাছ কাটা বৈধ।

এ বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমি জান্নাতে এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যে রাস্তার মাঝখানের একটি কষ্টদায়ক গাছ কেটে ফেলেছিল।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৮৩৭)

ইসলাম পরিবেশ সংরক্ষণ ও সৃষ্টিজগতের কল্যাণে কাজ করতে উৎসাহ দেয়। তাই গাছ লাগানো, তার পরিচর্যা করা এবং অকারণে গাছ না কাটা প্রতিটি মুসলমানের জন্য প্রশংসনীয় ও সওয়াবের কাজ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন।
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ