ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রাগ নিয়ন্ত্রণে ইসলামের দিকনির্দেশনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
রাগ নিয়ন্ত্রণে ইসলামের দিকনির্দেশনা । ছবি: সংগৃহীত

রাগ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। তবে ইসলাম রাগকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেয়। কোরআন ও হাদিসে রাগ দমনকে একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং সুন্দর জীবন গড়তে রাগ নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে এমন একটি উপদেশ চাইলেন, যা সহজে মনে রাখা যায়। তখন নবী (সা.) তাকে বললেন, ‘রাগ করো না।’ তিনি একই কথা কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করেন। (সহিহ বুখারি)

রাগ মানুষের মধ্যে শয়তানের প্ররোচনায়ও সৃষ্টি হতে পারে। তাই কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন—

وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ ۚ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

অর্থ: ‘আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে তোমার মনে কোনো কুমন্ত্রণা আসে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’
(সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ২০০)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন—

وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ ۝ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে এবং এ থেকেও আশ্রয় চাই, যাতে তারা আমার কাছে উপস্থিত হতে না পারে।’
(সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৯৭-৯৮)

আরও পড়ুন

মহান আল্লাহ আরও বলেন—

إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহভীরু, শয়তানের কুমন্ত্রণা তাদের স্পর্শ করলে তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়।’
(সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ২০১)

ইসলামে রাগ দমনকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

অর্থ: ‘যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’
(সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)

এ ছাড়া আল্লাহ বলেন—

وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ

অর্থ: ‘আর যখন তারা রাগান্বিত হয়, তখন তারা ক্ষমা করে দেয়।’
(সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩৭)

হাদিসে রাগ নিয়ন্ত্রণের কয়েকটি কার্যকর উপায়ও জানিয়ে দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলেছেন, রাগ হলে আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে, অজু করতে, দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়তে, বসে থাকলে শুয়ে পড়তে এবং ক্রুদ্ধ অবস্থায় চুপ থাকতে।

ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, রাগকে জয় করতে পারাই প্রকৃত শক্তির পরিচয়। তাই রাগের মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ, আল্লাহকে স্মরণ এবং ক্ষমার মানসিকতা গড়ে তোলাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম পথ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন।
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
আরও পড়ুন
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন
দিল্লির ছাত্র আন্দোলন থেকে গ্রেপ্তার, ৬ বছর পর ৭ দিনের জামিন
ড্রাগন বাগানের বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল কিশোরের
ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় চারগুণ বন্দি ঝিনাইদহ কারাগারে