
দৈনন্দিন ব্যবহারে মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তবে দুর্ঘটনাবশত মোবাইল নাপাক পানিতে পড়ে গেলে তা কীভাবে পবিত্র করতে হবে এবং তা সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মনে দ্বিধা তৈরি হয়।
যেহেতু মোবাইল একটি সংবেদনশীল ও মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্র, তাই এটি সাধারণ কাপড়ের মতো পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। ইসলামি আইনশাস্ত্র বা ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে মোবাইল হলো একটি 'সাকিল' বা মসৃণ ও অছিদ্রযুক্ত বস্তু। আয়না, কাচ, মসৃণ ধাতু বা প্লাস্টিকের মতো বস্তুর বাহ্যিক আবরণে নাপাকি লাগলে তা ভালোভাবে দূর করে দিলেই বস্তুটি পবিত্র হয়ে যায়।
ফিকহি বিধানের আলোকে মোবাইল ফোন পবিত্র করার কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো:
পানি দিয়ে ধোয়ার ক্ষেত্রে
মোবাইলের যে অংশটি পানিতে নষ্ট হয় না (যেমন ওয়াটারপ্রুফ কভার বা ব্যাককেসিং), সেটি পানি দিয়ে তিনবার ধুয়ে নিলে পবিত্র হয়ে যাবে।
পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে
মোবাইলের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ পানি লাগলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে ক্ষেত্রে সরাসরি পানি না ঢেলে অন্য উপায় অবলম্বন করা যাবে—
ভেজা কাপড়ের ব্যবহার: পরিষ্কার পানির হালকা আর্দ্রতাযুক্ত কাপড় বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাপাক স্থানটি ভালোভাবে তিনবার মুছে নিলে বস্তুটি পবিত্র হবে।
অন্যান্য তরলের ব্যবহার: হ্যান্ড স্যানিটাইজার, থিনার বা পেট্রলের মতো কোনো পবিত্র তরল দ্রাবক ব্যবহার করে নাপাক অংশটি তিনবার পরিষ্কার করা যেতে পারে।
তবে কাপড় বা তরল দিয়ে মোছার ক্ষেত্রে শর্ত হলো, প্রতিবার মোছার পর স্থানটি শুকাতে সময় দিতে হবে। অর্থাৎ একবার মুছে শুকানোর পর দ্বিতীয়বার এবং তা শুকানোর পর তৃতীয়বার মুছে পবিত্র করতে হবে।
অভ্যন্তরীণ সকেটে নাপাকি প্রবেশ করলে
যদি নাপাক পানি মোবাইলের ভেতরের সূক্ষ্ম ছিদ্র বা সকেটে (যেমন চার্জিং পোর্ট, স্পিকার কিংবা হেডফোন জ্যাক) ঢুকে যায়, তবে শুধু ওপরের অংশ মোছাই যথেষ্ট নয়। সে ক্ষেত্রে ভেতরে জমা নাপাকিও দূর করা আবশ্যক।
এসব নিয়মে মোবাইল ফোনটিকে পুরোপুরি নাপাকিমুক্ত করার পর তা সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। তবে নাপাকি দূর না করে সেই মোবাইল পকেটে বা সঙ্গে রেখে নামাজ আদায় করলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। (সূত্র: ফতোয়া-ই-শামি: ১/২৮২, ফতোয়া-ই-হিন্দিয়া: ১/৩৯)
আরটিভি/এআর


