ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল ফোনে জরুরি প্রয়োজনে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো।

সম্প্রতি এ সীমা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে অপারেটরগুলো।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০ টাকার বেশি থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স নিলে সর্বোচ্চ ১০ টাকা সেবা ফি দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে প্রযোজ্য কর। ফলে করসহ ফি দাঁড়াতে পারে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অপারেটরদের যুক্তি, বর্তমান সীমায় অনেক সময় গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় ডেটা বা মিনিটের প্যাকেজ কিনতে পারেন না। সীমা বাড়ানো হলে বেশি দামের প্যাকেজ কেনার সুযোগ তৈরি হবে।

বিটিআরসির নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলে সেবা ফি ২ টাকা। করসহ এই ফি দাঁড়ায় ২ টাকা ৭৮ পয়সা।

এ বিষয়ে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক সময় গ্রাহকের নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিয়ে প্রয়োজনীয় প্যাকেজ কেনা সম্ভব হয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো প্যাকেজের দাম ৩১০ টাকা হলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা ব্যালান্স দিয়ে সেটি কেনা যাবে না। সীমা ৫০০ টাকা করা হলে গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি দামের প্যাকেজও কিনতে পারবেন।

দেশে মোবাইল সেবা দিচ্ছে চারটি অপারেটর—গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক। বিটিআরসির হিসাবে, চার অপারেটরের মোট গ্রাহকসংখ্যা ১৯ কোটির বেশি।

শুরুতে জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকদের সামান্য পরিমাণ ব্যালান্স দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ সেবা চালু করা হয়। ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি নির্দেশ দিয়েছিল, গ্রাহকদের অন্তত ১০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিতে হবে এবং এ জন্য কোনো চার্জ নেওয়া যাবে না। একই বছরের ২ জুলাই অপারেটরদের সঙ্গে এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স চার্জমুক্ত থাকবে। এর বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে সেবা ফি নেওয়া যাবে।

বর্তমানে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেয়। এতে করসহ ফি ২ টাকা ৭৮ পয়সা। অন্যদিকে, টেলিটক সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স দেয়, যার সেবা ফি করসহ ৬ টাকা ৯৫ পয়সা।

অপারেটরগুলোর দাবি, ইমার্জেন্সি ব্যালান্স এখন শুধু টাকা ধার দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর আওতায় মিনিট লোন, ডেটা লোন, ‘বাই নাও পে লেটার’ এবং বিভিন্ন প্যাকেজ কেনার সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। এসব সেবায় গ্রাহক আগে ব্যবহার করেন, পরে টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তী রিচার্জ থেকে বকেয়া টাকা ও প্রযোজ্য ফি কেটে নেওয়া হয়।

মোবাইল অপারেটর সূত্রের দাবি, চার অপারেটর মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ লাখ গ্রাহক ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নেন। তবে এই ঋণের অর্থ সরাসরি অপারেটরগুলো দেয় না; তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বে থাকা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ অর্থ সরবরাহ করে। ফলে ব্যালান্সের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব গ্রাহকদের সুবিধার পাশাপাশি ঋণসেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয় হিসেবেও আলোচনায় এসেছে।

প্রথমে ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় গ্রামীণফোন। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স দেওয়ার অনুমতি চায় অপারেটরটি। এ জন্য সর্বোচ্চ ২০ টাকা ফি রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। গ্রামীণফোনের যুক্তি ছিল, বেশি দামের প্যাকেজ কেনা এবং জরুরি সময়ে যোগাযোগসেবা চালু রাখতে গ্রাহকদের আরও বেশি ব্যালান্স প্রয়োজন।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে ডেটা ব্যবহার ও ডিজিটাল সেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এবং তুলনামূলক বেশি ডেটা ব্যবহার করা গ্রাহকদের জন্য বিদ্যমান ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নয়। সীমা বাড়ানো হলে তা গ্রাহকদের বর্তমান ব্যবহারধারা ও যোগাযোগের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

তবে গ্রামীণফোনের এই প্রস্তাবে অন্য অপারেটরগুলো আপত্তি জানায়। গত ২১ জুন বিটিআরসির সঙ্গে এক সভায় তারা জানায়, একক অপারেটরের জন্য এ ধরনের সুবিধা অনুমোদন করা হলে প্রতিযোগিতায় অসমতা তৈরি হতে পারে এবং অনাদায়ি অর্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরে বিটিআরসি সব অপারেটরের জন্য অভিন্ন প্রস্তাব তৈরি করতে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবকে দায়িত্ব দেয়।

চলতি বছরের ২৩ জুলাই অ্যামটব বিটিআরসির কাছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেওয়ার প্রস্তাব জমা দেয়। প্রস্তাবে ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সে কোনো ফি না রাখা, ১০ থেকে ২০০ টাকায় ২ টাকা এবং ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়।

পরে ২০ আগস্ট বিটিআরসি ও অ্যামটবের সভায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ফি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

অ্যামটব সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক এ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তবে বাংলালিংক ব্যালান্সের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

বাংলালিংকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০ টাকা ব্যালান্স নিলে ২ টাকা, ২১ থেকে ৫০ টাকায় ৩ টাকা এবং ১৫১ থেকে ২০০ টাকায় ৬ টাকা ফি নেওয়া হবে। আর ৪০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স নিলে ফি হবে ১০ টাকা।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ২০০ টাকার কম ব্যালান্স নেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু গ্রাহককে বর্তমানের তুলনায় বেশি ফি দিতে হতে পারে। কারণ, বর্তমানে ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের জন্য সেবা ফি মাত্র ২ টাকা।

বর্তমান ব্যবস্থায় ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলে করসহ ২ টাকা ৭৮ পয়সা ফি দিতে হয়। একই হারে কর যোগ করে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের জন্য ১০ টাকা সেবা ফির সঙ্গে কর যুক্ত হলে মোট ফি দাঁড়াতে পারে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।

তবে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও এটি এখনও চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। বিটিআরসির অনুমোদন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই নতুন সীমা ও ফি কাঠামো সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের সাংবাদিকদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কালের কণ্ঠের ডেপুটি এডিটর ও বাণিজ্য এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রধান মো. মাসুদ রুমী। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কুমার বিশ্বজিত রায়।
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
বাংলা ভাষায় মুক্ত জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা, উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা উইকিসম্মেলন ২০২৬।
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্চ প্রযুক্তির প্রভাবে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট।  বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য ১২ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় একদিনে বাজারমূল্য থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হারিয়েছে তারা। বুধবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যালফাবেট জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বিজ্ঞাপন খাতে প্রত্যাশার তুলনায় কম আয় বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। অ্যালফাবেটের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার জানান, গুগলের এআই মোড প্রচলিত সার্চের বিজ্ঞাপন আয়ে প্রভাব ফেলছে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীরা কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পান। ফলে প্রচলিত সার্চ ফলাফলের পাশে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমছে। এর প্রভাবে বুধবারের ৩ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বৃহস্পতিবার কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার আয় ধরে রাখাই এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে এআই খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও। অ্যামাজনের শেয়ার ৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ার কমেছে ১ শতাংশেরও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এআই থেকে শেষ পর্যন্ত কতটা আর্থিক সুফল পাওয়া যাবে, তা নিয়েই এখন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আরটিভি/এসআর
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে ওঠে পৃথিবী, ৬০ বছরেও হয়নি অজানা রহস্যের সমাধান
পৃথিবীতে প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর ঘটে মৃদু এক ধরনের ভূকম্পন। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এই রহস্য নিয়ে গবেষণা করলেও এখনো এর সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে পারেননি।
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে ওঠে পৃথিবী, ৬০ বছরেও হয়নি অজানা রহস্যের সমাধান
অপতথ্য মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই: জাহেদ উর রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য, ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও ডিজিটাল বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
অপতথ্য মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই: জাহেদ উর রহমান