
রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সামনে দিয়ে বিড়াল চলে গেলে অনেকেই একে অশুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন। কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ কাজে বের হওয়ার পর বিড়াল রাস্তা কাটলে অমঙ্গলের আশঙ্কায় যাত্রা থামিয়ে দেন কিংবা কাজটি থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?
ইসলামে বিড়াল পালনের অনুমতি রয়েছে। তবে প্রাণীটির যথাযথ যত্ন নেওয়া এবং খাবারের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুরতা বা অবহেলার ব্যাপারে ইসলামে কঠোর সতর্কতা রয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এক নারী একটি বিড়ালকে আটকে রেখে খাবার ও পানির ব্যবস্থা না করায় এবং তাকে ছেড়েও না দেওয়ায় বিড়ালটি মারা যায়। এ কারণে ওই নারী শাস্তির সম্মুখীন হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৩৬)
বিড়ালের উচ্ছিষ্টও নাপাক নয়
ইসলামে বিড়ালকে অপবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। আবু কাতাদা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিড়ালের উচ্ছিষ্ট নাপাক নয়। কারণ, বিড়াল মানুষের আশপাশেই ঘোরাফেরা করে। (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস : ৯২)
তাই ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিড়াল মানুষের জন্য অশুভ বা অপবিত্র কোনো প্রাণী নয়।
সামনে দিয়ে বিড়াল গেলে কি অমঙ্গল হয়
এর উত্তর স্পষ্ট না। পবিত্র কোরআন বা সহিহ হাদিসের কোথাও বলা হয়নি যে, সামনে দিয়ে বিড়াল চলে গেলে অমঙ্গল হবে, কোনো কাজ ব্যর্থ হবে বা যাত্রা বন্ধ করে দিতে হবে।
ইসলামে কুলক্ষণ বা অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস : ১৬১৪)
অর্থাৎ কোনো প্রাণী, ব্যক্তি, বস্তু বা ঘটনার সঙ্গে ভবিষ্যতের ভালো-মন্দকে এমনভাবে যুক্ত করা যে, সেটিকে স্বাধীনভাবে অমঙ্গলের কারণ মনে করা হয় এ ধরনের কুসংস্কার ইসলাম সমর্থন করে না।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কুলক্ষণে কোনো কল্যাণ নেই; তবে ভালো কথা বা শুভ আশা গ্রহণ করা ভালো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩৪৩)
সব বিড়ালকে জিন ভাবার সুযোগ নেই
সহিহ হাদিসে জিন বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে এমন বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে এ কারণে সব বিড়ালকে জিন মনে করা বা কোনো বিড়াল সামনে দিয়ে গেলেই অমঙ্গল ঘটবে বলে বিশ্বাস করার কোনো ভিত্তি নেই।
সুতরাং, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিড়াল সামনে দিয়ে চলে গেলে ভয় পাওয়া, যাত্রা বাতিল করা বা কোনো অমঙ্গলের আশঙ্কা করা ইসলামি শিক্ষা নয়।
তবে কোনো কারণে মনে অস্বস্তি বা দ্বিধা তৈরি হলে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দোয়া করা যেতে পারে-
দোয়া: আল্লাহুম্মা লা ইয়াতি বিল হাসানাতি ইল্লা আনতা, ওয়ালা ইয়াদফাউস সাইয়িআতি ইল্লা আনতা, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কেউ কল্যাণ আনতে পারে না এবং আপনি ছাড়া কেউ অকল্যাণ দূর করতে পারে না। আপনার সাহায্য ছাড়া আমাদের কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।
বিড়াল সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া বা রাস্তা কেটে যাওয়া কোনো অশুভ লক্ষণ নয়। এ কারণে কাজ বন্ধ করা, যাত্রা বাতিল করা বা অমঙ্গলের আশঙ্কা করা কুসংস্কারের শামিল। একজন মুসলমানের বিশ্বাস হওয়া উচিত কল্যাণ ও অকল্যাণ সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও হিকমতের অধীন।
আরটিভি/এসকে



