
মৃত্যু সবার জন্যই অবশ্যম্ভাবী। তবে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু মারা গেলে তার জানাজার নামাজের দোয়া প্রাপ্তবয়স্ক মৃত ব্যক্তির জানাজার দোয়া থেকে আলাদা। ইসলামী শরিয়তে শিশুর জন্য জানাজার তৃতীয় তাকবিরের পর বিশেষ একটি দোয়া পড়ার কথা বলা হয়েছে।
শিশুর জানাজায় যে দোয়া
অপ্রাপ্তবয়স্ক মৃত শিশুর জানাজার নামাজে তৃতীয় তাকবিরের পর পড়া যায়—
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا، وَاجْعَلْهُ لَنَا أَجْرًا وَذُخْرًا، وَاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَمُشَفَّعًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজআলহু লানা ফারাতান, ওয়াজআলহু লানা আজরাও ওয়া যুখরান, ওয়াজআলহু লানা শাফিআন ওয়া মুশাফ্ফাআন।
অর্থ: হে আল্লাহ! তাকে আমাদের জন্য অগ্রবর্তী সওয়াবের উপকরণ বানিয়ে দিন, তাকে আমাদের জন্য সঞ্চয় ও সওয়াবের কারণ বানিয়ে দিন এবং তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশকারী বানিয়ে দিন।
এই দোয়ায় মৃত শিশুকে তার বাবা-মা ও পরিবারের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব ও নেকির মাধ্যম হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করা হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক মৃতের জানাজার দোয়া
প্রাপ্তবয়স্ক মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজে তৃতীয় তাকবিরের পর পড়া হয়—
اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، اللّٰهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং পুরুষ ও নারী—সবাইকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবেন, তাকে ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন এবং যাকে মৃত্যুদান করবেন, তাকে ঈমানের ওপর মৃত্যুদান করুন।
ইসলামে কখন শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয়
ইসলামে শুধু বয়সের ভিত্তিতে নয়, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কিছু শারীরিক আলামতও নির্ধারণ করা হয়েছে। ছেলে ও মেয়ের ক্ষেত্রে এসব আলামত প্রকাশ পেলে তাকে শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রাপ্তবয়স্ক বা বালেগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ছেলেদের ক্ষেত্রে সাধারণত স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের মতো আলামত দেখা দিলে বালেগ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক শুরু হওয়া, স্বপ্নদোষ বা গর্ভধারণের মতো আলামত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়।
তবে এসব আলামত প্রকাশ না পেলেও হিজরি হিসাবে ১৫ বছর পূর্ণ হলে ছেলে-মেয়ে উভয়কেই শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করা হয়—এমন মতের পক্ষে সহিহ হাদিসের বর্ণনা রয়েছে।
১৫ বছর বয়সের বিষয়ে যে হাদিস
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, উহুদ যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেননি। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছর। পরবর্তী সময়ে খন্দকের যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ১৫ বছর হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন।
হযরত নাফি (রহ.) বলেন, পরে তিনি হজরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-কে এই হাদিসটি শোনালে তিনি বলেন, এটিই প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সীমারেখা।
—সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৬৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৬৮
জানাজার দোয়ায় পার্থক্য কেন
অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর জন্য সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক মৃত ব্যক্তির মতো গুনাহ মাফের দোয়া না করে তার মাধ্যমে পরিবার ও উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য সওয়াব এবং সুপারিশের প্রার্থনা করা হয়। আর প্রাপ্তবয়স্ক মৃতের জন্য ক্ষমা, রহমত ও ঈমানের ওপর মৃত্যুর দোয়া করা হয়।
তাই জানাজার নামাজে মৃত ব্যক্তি শিশু নাকি প্রাপ্তবয়স্ক—তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জানাজার দোয়া সঠিকভাবে শেখা এবং আরবি উচ্চারণ যথাসম্ভব শুদ্ধ রাখার চেষ্টা করা উচিত।
আরটিভি/জেএমএ




