ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

নূহ (আ.)-এর নৌকার খোঁজে পাহাড় খনন, মিলল নতুন রহস্যের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
তুরস্কের দুরুপিনার এলাকায় নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ হিসেবে আলোচিত রহস্যময় ভূখণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকার সন্ধান পাওয়ার দাবি নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে তুরস্কের একটি রহস্যময় স্থান। কয়েক দশক ধরে নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ হিসেবে আলোচিত ‘দুরুপিনার গঠন’-এর নিচে এবার অস্বাভাবিক কিছু কাঠামোর সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন গবেষকেরা।

তবে এখনো সেখানে কাঠের তৈরি কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। এমনকি মাটির নিচে পাওয়া কাঠামোগুলো মানুষের তৈরি—এমন দাবির পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশিত হয়নি।

মাটির নিচে কী পাওয়া গেছে?

তুরস্কের আরারাত পর্বত থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত দুরুপিনার গঠনটি ওপর থেকে দেখতে অনেকটা নৌকার মতো। দীর্ঘদিন ধরেই এ কারণে জায়গাটি নূহ (আ.)-এর নৌকা অনুসন্ধানকারীদের আগ্রহের কেন্দ্র।

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে রাডার পরীক্ষায় মাটির নিচে কিছু সোজা রেখা, সমকোণে মিলিত কাঠামো এবং বড় আকারের ফাঁকা জায়গার অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। তাদের ধারণা, এগুলো মাটির নিচের কোনো পথ বা কক্ষের অংশ হতে পারে।

অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত অ্যান্ড্রু জোন্স দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক কাজের মাধ্যমে জায়গাটি মানুষের তৈরি—এমন বিষয় শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

এখনো নৌকার সন্ধান মেলেনি

গবেষকেরা স্পষ্টভাবে কোনো কাঠের নৌকা উদ্ধার করতে পারেননি। মাটির নিচের কাঠামোগুলো মানুষের তৈরি কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। এ কারণে গবেষকেরা অনুসন্ধান আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

প্রত্নতত্ত্ববিদ চেঙ্কার আতিলার নেতৃত্বে একটি দল ইতোমধ্যে ১৫০টি স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি সেখানে মাটির গভীরে পৌঁছাতে খননকাজও শুরু হয়েছে।

আসছে বিশেষ রোবট

গবেষণার পরবর্তী ধাপে গোফার নামের বিশেষভাবে তৈরি একটি যন্ত্র ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি মাটির নিচের এমন জায়গায় প্রবেশ করবে, যেখানে মানুষের পক্ষে নিরাপদে যাওয়া সম্ভব নয়।

যন্ত্রটি সেসব জায়গার ভিডিও ধারণের পাশাপাশি নমুনাও সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে মাটির নিচে পাওয়া কাঠামোগুলোর প্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন গবেষকেরা।

কোরআনে নূহ (আ.)-এর নৌকার বর্ণনা

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত নূহ (আ.) আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে নৌকা তৈরি করেছিলেন। পবিত্র কোরআনের সূরা হুদের ৩৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নূহ (আ.)-কে নৌকা নির্মাণের নির্দেশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

মহাপ্লাবনের সময় নূহ (আ.)-কে তার পরিবার ও ঈমানদারদের নৌকায় তুলে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণীর জোড়াও নৌকায় তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সূরা হুদের ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর নির্দেশ আসার পর নূহ (আ.)-কে বিভিন্ন শ্রেণির প্রাণী থেকে দুইটি করে এবং তার পরিবার ও ঈমানদারদের নৌকায় তুলে নিতে বলা হয়। সেখানে আরও উল্লেখ রয়েছে, নূহ (আ.)-এর সঙ্গে ঈমান এনেছিল খুব অল্পসংখ্যক মানুষ।

ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এখানে এমন প্রাণীদের বোঝানো হয়েছে, যেগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় এবং পানির মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে না। যেমন—গরু, ছাগল, ঘোড়া, গাধা, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন পশু-পাখি।

নৌকায় কতজন ছিলেন?

কোরআন বা নির্ভরযোগ্য হাদিসে নূহ (আ.)-এর নৌকায় থাকা ঈমানদারদের সঠিক সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি মত অনুযায়ী, নৌকায় ৪০ জন পুরুষ ও ৪০ জন নারীসহ মোট ৮০ জন ছিলেন।

বর্ণনা অনুযায়ী, মহাপ্লাবনের পর তারা ইরাকের মুসেল নগরীর একটি এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। ওই স্থানটি সামানুন বা আশি নামে পরিচিত হয়ে যায় বলে উল্লেখ রয়েছে।

নূহ (আ.)-এর এক পুত্র ঈমান না আনায় প্লাবনে ধ্বংস হয়েছিল বলেও কোরআনে বর্ণনা রয়েছে। তার স্ত্রী সম্পর্কেও ইসলামি ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি ঈমান আনেননি এবং কাফিরদের সমর্থন করতেন।

কোথায় থেমেছিল নূহ (আ.)-এর নৌকা?

পবিত্র কোরআনের সূরা হুদের ৪৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মহাপ্লাবনের পর পানি কমে গেলে নৌকাটি জুদি পাহাড়ে গিয়ে থেমেছিল।

ইসলামি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুদি পাহাড় ইরাকের মুসেল নগরীর উত্তরে, আর্মেনিয়া সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত। এটি একটি পর্বতমালার অংশ। অন্য একটি অংশের নাম আরারাত পর্বত বলে উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আরারাত ও এর আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে ইসলামি বর্ণনায় নৌকাটি জুদি পাহাড়ে থামার কথা বলা হয়েছে—এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৫৯ সাল থেকেই রহস্য

দুরুপিনার গঠনটি প্রথম ১৯৫৯ সালে আকাশ থেকে তোলা ছবিতে শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই নূহ (আ.)-এর নৌকা অনুসন্ধানকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

গঠনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০ মিটার। হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য সম্পর্কে ধর্মীয় বর্ণনায় যে হিসাব পাওয়া যায়, তার সঙ্গে দুরুপিনারের আকারের কিছুটা মিল থাকায় জায়গাটি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে।

তবে নতুন অনুসন্ধানে মাটির নিচে অস্বাভাবিক কাঠামোর ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, এটিই হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকা—এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

সূত্র: দ্য জিও নিউজ

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করলে যে শাস্তি দেবেন আল্লাহ
ব্যক্তি, সমাজ জীবনে সবারই গোপনীয়তা থাকে। গোপনীয়তার বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত। গোপনীয়তা ছাড়া কোনও মানুষই নেই বলতে গেলে। একান্ত আপনজনের কাছেও মানুষ অনেক কিছুই গোপন করে। আল্লাহ তায়ালাই মানুষকে এই অধিকার দিয়েছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অন্য কারো ব্যক্তিগত গোপন বিষয় ও দোষ খোঁজা নিন্দনীয়। অকারণে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় বিষয় নিয়ে গুপ্তচরের ভূমিকা পালন করা গুনাহ। অনুমতি ছাড়া কারো কথা শোনা এবং তথ্য ফাঁস করা এবং কারো বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করলে ভয়াবহ শাস্তি ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের কথা গুপ্তভাবে শুনল; অথচ সে তাদের কথাগুলো শুনুক তারা তা পছন্দ করছে না অথবা তারা তার অবস্থান টের পেয়ে তার থেকে দূরে পালিয়ে যাচ্ছে, কিয়ামতের দিন এ জন্য তার কানে সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৭০৪২) আরেকটি হাদিসে কথাটি আরো সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে, ‘হে লোকেরা, তোমরা যারা মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছ; অথচ ঈমান তোমাদের অন্তরে ঢোকেনি, তোমরা মুসলমানদের কষ্ট দিয়ো না। তাদের দোষ অনুসন্ধান করো না। কারণ যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের দোষ অনুসন্ধান করল, আল্লাহ তাআলা তার দোষ অনুসন্ধান করবেন। আর যার দোষ আল্লাহ তায়ালা অনুসন্ধান করবেন তাকে অবশ্যই তিনি লাঞ্ছিত করে ছাড়বেন, যদিও সে নিজ ঘরের অভ্যন্তরেই অবস্থান করুক না কেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৩২) মানুষের কল্যাণার্থে মানুষের দোষ-ত্রুটি এবং গোপন বিষয় প্রকাশ না করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপনকারীর দোষ গোপন করেন। তাকে উভয় জগতে পুরস্কৃত করেন। মানবতার নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯৪৫) হজরত আলি (রা.) বর্ণনা করেন, ব্যতিব্যস্ত হয়ো না এবং কারো গোপন তথ্য ফাঁস করো না। কেননা তোমাদের পেছনে রয়েছে কেয়ামতের) ভীষণ কষ্টদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী বিপদসমূহ’ (আদাবুল মুফরাদ)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যখন তোমার সঙ্গীর দোষ চর্চা করতে ইচ্ছা করে, তখন তোমার নিজের দোষ স্মরণ করো।’ (আদাবুল মুফরাদ) আরটিভি/এসআর
অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করলে যে শাস্তি দেবেন আল্লাহ
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
‘আরটিভি জিপিএইচ ইস্পাত আলোকিত কোরআন ২০২৭’-এর ঢাকা অডিশন সম্পন্ন
আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ‘আরটিভি জিপিএইচ ইস্পাত আলোকিত কোরআন ২০২৭’-এর ঢাকা অডিশন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘আরটিভি জিপিএইচ ইস্পাত আলোকিত কোরআন ২০২৭’-এর ঢাকা অডিশন সম্পন্ন
অজু ছাড়া মোবাইল স্ক্রিনে কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা যাবে?
প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এখন মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের মাধ্যমে সহজেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা যায়। তবে অজু ছাড়া মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
অজু ছাড়া মোবাইল স্ক্রিনে কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা যাবে?
দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ
মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে ঢাক-কাঁসরের বাদ্য, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুবাস।
দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ