ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াত করলে কী ৪০ দিনের ইবাদত নষ্ট হয়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অযথা যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে হাদিস।  ছবি: সংগৃহীত

মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় কখনো কখনো নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সামনে সুতরা থাকলে তার বাইরে দিয়ে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু সুতরা না থাকলে কোথা দিয়ে যাওয়া যাবে, আর নামাজির সামনে দিয়ে গেলে কী শাস্তি—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে নানা ধারণা রয়েছে।

বিশেষ করে প্রচলিত একটি কথা হলো, নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াত করলে নাকি ৪০ দিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন্ন মসজিদের দেয়ালেও কখনো এমন কথা লেখা দেখা যায়। তবে কোরআন-হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, বিষয়টি আসলে এমন নয়।

নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা

নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা থেকে বিরত থাকতে হাদিসে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

আবু নাজর (রহ.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ

অর্থ: ‘নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত, এতে তার কী পরিণতি রয়েছে, তাহলে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে ৪০ সময় দাঁড়িয়ে থাকাকেই সে উত্তম মনে করত।’

বর্ণনাকারী আবুন নাজর (রহ.) বলেন, ‘আমি জানি না, তিনি ৪০ দিন, ৪০ মাস নাকি ৪০ বছর বলেছেন।’
—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৭০১

অর্থাৎ, হাদিসে ৪০-এর কথা বলা হলেও এটি ৪০ দিন, ৪০ মাস বা ৪০ বছর—কোনটি বোঝানো হয়েছে, তা নির্দিষ্ট নয়।

তাহলে কি ৪০ দিনের ইবাদত নষ্ট হয়?

নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা অবশ্যই গুরুতর নিষেধের বিষয়। তবে এ কারণে ৪০ দিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়—এমন কোনো বক্তব্য কোরআন বা নির্ভরযোগ্য হাদিসে নেই।

হাদিসে ৪০-এর কথা এসেছে অতিক্রমের ভয়াবহতা বোঝাতে; এটিকে ৪০ দিনের ইবাদত নষ্ট হওয়ার অর্থে নেওয়া ঠিক নয়।

নামাজের সামনে সুতরা রাখার নিয়ম

নামাজ আদায়কারীর জন্য সামনে সুতরা রাখা উত্তম। সুতরা হলো এমন কোনো বস্তু, যা নামাজির সামনে সীমারেখা হিসেবে থাকে। বল্লম, লাঠি, চেয়ার, টুল বা এ ধরনের কোনো বস্তু সুতরা হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

আওন ইবনে আবু জুহাইফা (রহ.) তাঁর বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন—

‘একবার দুপুরে আমাদের সামনে আল্লাহর রাসুল (সা.) এলেন। তাঁকে অজুর পানি দেওয়া হলো। তিনি অজু করে আমাদের নিয়ে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করলেন। তাঁর সামনে একটি বল্লম ছিল। এর বাইরে দিয়ে নারী ও গাধা চলাচল করছিল।’

—সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৬৯

এ হাদিস থেকে নামাজের সময় সামনে সুতরা রাখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

সুতরা না থাকলে কী করবেন?

নামাজির সামনে সুতরা না থাকলে তার একেবারে সামনে দিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে মসজিদ অনেক বড় ও প্রশস্ত হলে এবং প্রয়োজন দেখা দিলে নামাজির সামনে থেকে দূরে, কয়েক কাতার সামনে দিয়ে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে—ফিকহের কিছু গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا وَضَعَ أَحَدُكُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ مِثْلَ مُؤَخِّرَةِ الرَّحْلِ فَلْيُصَلِّ، وَلَا يُبَالِي مَنْ مَرَّ وَرَاءَ ذَلِكَ

অর্থ: ‘তোমাদের কেউ যখন নিজের সামনে উটের পিঠের কাষ্ঠাসনের পেছনের অংশের মতো কিছু রাখে, তখন সে নামাজ আদায় করবে এবং এর বাইরে দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।’

—সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৯৪০

সামনে থাকলে কীভাবে সরে যাবেন?

নামাজির একেবারে সামনে অবস্থান করার প্রয়োজন হলে সরাসরি সামনে দিয়ে না গিয়ে ডানে বা বামে সরে যাওয়া যায়। কারণ, সামনে থেকে সরে যাওয়া অতিক্রম করার মতো নয়।

আয়েশা (রা.) বলেন—

‘আমি নবী (সা.)-কে নামাজ পড়তে দেখেছি। আমি তাঁর ও কিবলার মাঝখানে খাটে শুয়ে থাকতাম। কোনো কোনো সময় আমার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হতো। কিন্তু তাঁর সামনে দিয়ে যেতে আমি অপছন্দ করতাম। তাই আমি চুপিসারে সরে যেতাম।’

—সহিহ বুখারি, হাদিস ৫১১

তাই মসজিদে নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অযথা যাতায়াত না করাই উচিত। একই সঙ্গে নামাজ আদায়কারীরও সম্ভব হলে সামনে সুতরা রাখা উচিত।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়া গুরুতরভাবে নিষেধ করা হলেও এতে ৪০ দিনের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়—এমন কথা কোরআন-হাদিসে নেই। হাদিসে ‘৪০’ সংখ্যাটি এসেছে এ কাজের ভয়াবহতা বোঝাতে; ৪০ দিনের ইবাদত নষ্ট হওয়ার নির্দিষ্ট বিধান হিসেবে নয়।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
বিড়ি খেলে কি অজু ভেঙে যায়
অজুর পর বিড়ি বা সিগারেট খেলে কি অজু ভেঙে যায়? নাকি সেই অজুতেই নামাজ আদায় ও পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা যাবে? শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান ও মাসআলা রয়েছে।
বিড়ি খেলে কি অজু ভেঙে যায়
আজকের নামাজের সময়সূচি
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
১০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে সমাবর্তন ‘শুধুই গল্প’
দেশকে এগিয়ে নিতে যুবসমাজের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি
সংগঠিত ও দক্ষ যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ: রাষ্ট্রপতি