ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
মসজিদে নববী; জুমার দুই খুতবার মাঝখানে নির্দিষ্ট দোয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে এ সময় নীরবে আল্লাহর কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত

জুমার দিন মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময়কে কাজে লাগাতে অনেকেই বিভিন্ন দোয়া ও ইস্তিগফার পড়েন। জুমার নামাজে ইমাম যখন দুই খুতবার মাঝখানে অল্প সময়ের জন্য বসেন, তখন কী দোয়া পড়া যায়, তা নিয়েও অনেকের আগ্রহ রয়েছে।

সহিহ মুসলিমে জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—

هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الْإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلَاةُ

অর্থ: ‘এ সময়টি হলো, ইমাম বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।’
—সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৩

হাদিসটির আলোকে জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় হিসেবে ইমাম বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে দুই খুতবার মাঝখানে পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত নেই। এ সময়ে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা ও কল্যাণ চেয়ে দোয়া করা যায়।

১. গুনাহ মাফের দোয়া

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এই ইস্তিগফার পড়তে পারেন—

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তওবা করি।

২. দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের দোয়া

দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি চেয়ে কোরআনের এই দোয়াটি পড়তে পারেন—

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।

—সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২০১

৩. ক্ষমা ও রহমতের দোয়া

আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও দয়া চাইতে এই দোয়াটি পড়তে পারেন—

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমিন।
অর্থ: হে আমার রব, ক্ষমা করুন ও দয়া করুন। আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

—সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১১৮

৪. নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ

জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম। তাই এ সময় দরুদ শরিফ পড়তে পারেন। যেমন—

صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
অর্থ: আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

দুই খুতবার মাঝখানে দোয়া করার নিয়ম

দুই খুতবার মাঝখানে ইমাম অল্প সময়ের জন্য বসেন। এ সময় নীরবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। তবে এ সময়ের জন্য ওপরের কোনো দোয়াকে নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক মনে করা ঠিক নয়। নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত, সুস্থতা, হেদায়াত ও কল্যাণ চাওয়া যায়।

জুমার দিনের মর্যাদা ও খুতবার আদবের প্রতি খেয়াল রেখে এ সময়টুকু কাজে লাগানো উচিত। আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা এবং নিয়মিত ইস্তিগফার ও দরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের আত্মিক উন্নতির চেষ্টা করতে পারেন।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
মসজিদুল হারামে এক ইমামের পেছনে নামাজের প্রচলনের ১০০ বছর পূর্ণ
সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারামে একজন ইমামের নেতৃত্বে এক জামাতে নামাজ আদায়ের প্রচলনের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
মসজিদুল হারামে এক ইমামের পেছনে নামাজের প্রচলনের ১০০ বছর পূর্ণ
ভালো মৃত্যুর ১৩ আলামত
মৃত্যু অবধারিত এ বিশ্বাস সব ধর্মের মানুষের মধ্যেই রয়েছে। তবে কেউই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু কামনা করেন না। প্রত্যেক মুমিনের আকাঙ্ক্ষা, তার মৃত্যু যেন ইমানি অবস্থায় এবং ভালোভাবে হয়। কারণ, জীবনের শেষ সময়টি আল্লাহ তাআলার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘শেষ আমলই গ্রহণযোগ্য।’ (ইবনে হিব্বান: ৩৪০) অন্য এক হাদিসে তিনি (সা.) সাহাবিদের জানিয়েছেন, ‘আল্লাহ যদি কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে (ভালো) কাজে লাগান।’ সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, কীভাবে আল্লাহ বান্দাকে (ভালো) কাজে লাগান? উত্তরে তিনি (সা.) বলেন, ‘মৃত্যুর আগে তাকে ভালো কাজ করার তাওফিক দেন।’ (তিরমিজি: ২১৪২) ফকিহদের মতে, হাদিসে ভালো মৃত্যুর বেশ কিছু আলামতের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু লক্ষণ কেবল মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তি নিজেই উপলব্ধি করতে পারেন। আবার কিছু লক্ষণ অন্য মানুষের পক্ষেও দেখা বা বোঝা সম্ভব। ভালো মৃত্যুর ১৩টি আলামত তুলে ধরা হলো মৃত্যুর সময় কালেমা পাঠ করা নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তির শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। (আবু দাউদ: ৩১১৬) মৃত্যুর সময় কপাল ঘেমে যাওয়া কোনো ইমানদার ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার কপাল ঘেমে গেলে, এটিকে সুন্দর মৃত্যুর একটি আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কারও কপাল না ঘামলে তাকে জাহান্নামি মনে করা যাবে না। (নাসাঈ: ১৮২৮)  জুমার রাতে বা দিনে মৃত্যুবরণ করা নবীজি (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। (তিরমিজি: ১০৭৪)  শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করা রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোমরা তোমাদের মধ্যকার কাদেরকে শহীদ বলে গণ্য করো?’ তাঁরা উত্তর দিয়েছিলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জীবন দেয় সে তো শহীদ।’ তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘তবে তা আমার উম্মাতের শহীদের সংখ্যা অতি অল্প হবে।’ সাহাবিরা জানতে চাইলেন, ‘তাহলে তারা কারা হে আল্লাহর রাসুল?’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে (জিহাদে) নিহত হয়, সে শহীদ। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (সৎকাজে) বের হয়ে রাস্তায় মারা যায়, সেও শহীদ। যে ব্যক্তি প্লেগ রোগে মারা যায়, সেও শহীদ এবং যে ব্যক্তি পেট খারাপের রোগে মারা যায়, সেও শহীদ।’ (মুসলিম: ৪৮৩৫) কোনো কিছু ধসে পড়ে মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কোনো ব্যক্তি দেয়াল কিংবা অন্য কোনো কিছু ধসে তার ওপর পড়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (বোখারি: ৬৫২)  গর্ভবতী অবস্থায় নারীর মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কোনো নারী গর্ভে সন্তান থাকা অবস্থায় অথবা সন্তান প্রসবের সময় মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (ইবনে মাজা: ২৮০৩) বিষফোড়ার কারণে মৃত্যু নবীজি (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কেউ বিষফোড়ার আঘাতে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (নাসাঈ: ১৮৪৬) আগুনে পুড়ে মৃত্যু বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কোনো ব্যক্তি আগুনে পুড়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (নাসাঈ: ১৮৪৬) নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কেউ নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (বোখারি: ২৮৪০) দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হওয়া রাসুল (সা.) বলেছেন, ইসলাম রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর উম্মতের কেউ নিহত হলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (নাসাঈ: ৪০৯৫) জুলুম প্রতিহত করতে গিয়ে মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, জুলুম প্রতিহত করতে গিয়ে তাঁর উম্মতের কেউ নিহত হলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (নাসাঈ: ৪০৯৬) আল্লাহর পথে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর পথে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পালনকালে কেউ মারা গেলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। কেয়ামত পর্যন্ত তার আমলও বাড়তে থাকবে। (তিরমিজি: ১৬৬৫) সদকা করার পরপরই মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি সদকা করার কিছুক্ষণ পর মারা গেলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। একইভাবে, কেউ নফল রোজা রাখা অবস্থায় মারা গেলেও আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। (মুসনাদে আহমদ: ২৩৩৭২) আরটিভি/এসআর
ভালো মৃত্যুর ১৩ আলামত
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- জোহর- ১১:৪৬ মিনিট আসর- ০৩:৪৪ মিনিট মাগরিব- ০৫:২৮ মিনিট এশা- ০৬:৪২ মিনিট ফজর (আগামীকাল)- ০৪:৪৬ মিনিট উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হলো- যোগ করতে হবে: খুলনা: ০৩ মিনিট রাজশাহী: ০৭ মিনিট রংপুর: ০৮ মিনিট বরিশাল: ০১ মিনিট বিয়োগ করতে হবে: চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট সিলেট: ০৬ মিনিট আরটিভি/টিআর
আজকের নামাজের সময়সূচি
স্ত্রী থাকার পরেও কি শ্যালিকাকে বিয়ে করা যাবে?
ইসলামে স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার আপন বোনকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম। একই সময়ে দুই বোনকে একজন পুরুষের বিবাহবন্ধনে রাখা ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
স্ত্রী থাকার পরেও কি শ্যালিকাকে বিয়ে করা যাবে?
আরও পড়ুন
জুমার দিন বেশি সওয়াব পেতে যে আমলগুলো করবেন
জুমার দিন পড়ুন আল্লাহর শেখানো ৪ দোয়া
জুমার দিন যে আমলগুলো ভুলবেন না
জুমার দিনে যে ১০ আমলে মিলবে বিশেষ সওয়াব