ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জুমার দিনে যে ১০ আমলে মিলবে বিশেষ সওয়াব

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
জুমার দিনকে অবহেলায় না কাটিয়ে যে আমলগুলোর ফজিলত সবচেয়ে বেশি তা বেশি বেশি পালন করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মুসলমানদের জন্য এটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে পরিচিত। এ দিনে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে। তাই জুমার দিনটি শুধু নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে বিশেষ কিছু আমলের মাধ্যমে কাটানো উত্তম।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ

অর্থ: ‘হে ঈমানদারগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।’ —সুরা আল-জুমুআ, আয়াত: ৯

জুমার দিনে যেসব আমল করা যেতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০টি হলো—

১. পরিচ্ছন্ন হওয়া ও নখ কাটা

জুমার দিনের আগে বা দিনে শরীর ও পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখা, নখ কাটা এবং নিজেকে পরিপাটি রাখা উত্তম। এগুলো ইসলামের পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা ও ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত।

২. জুমার গোসল করা

জুমার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাজে আসতে চায়, সে যেন গোসল করে নেয়।’ —সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৪৪।

৩. মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার

জুমার দিনে মিসওয়াক করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০।

আরও পড়ুন

৪. সুরা কাহফ তিলাওয়াত

জুমার দিনে সুরা কাহফ তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোর ব্যবস্থা করা হবে। —মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৩৯২।

৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ

জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। তাই এ দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।’ —সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭।

৬. মসজিদে আগেভাগে যাওয়া

জুমার নামাজের জন্য যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, ততই ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় আগত মুসল্লিদের নাম ধারাবাহিকভাবে লিখতে থাকেন। প্রথম দিকে আগমনকারীর জন্য বড় সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১।

৭. সম্ভব হলে হেঁটে মসজিদে যাওয়া

পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদের দিকে হেঁটে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সওয়াব রয়েছে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তাই সম্ভব হলে জুমার নামাজে হেঁটে যাওয়া উত্তম আমল। —সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৬।

৮. খুতবা নীরবে মনোযোগ দিয়ে শোনা

ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি অন্য কাউকে ‘চুপ করুন’ বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ থাকো, তবে তুমি অনর্থক কথা বললে।’ —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৪।

৯. জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো যথাসময়ে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। মহান আল্লাহ জুমার নামাজের আহ্বান হলে দুনিয়ার কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।

১০. দোয়া কবুলের সময় খোঁজা

জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫।

অন্য বর্ণনায় জুমার দিনের ওই বিশেষ সময়টি আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত খোঁজার কথা এসেছে। —সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮।

তাই জুমার দিনকে অবহেলায় না কাটিয়ে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানো উচিত। এতে ইবাদতের পাশাপাশি মহান আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং জীবনে বরকত আসে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
নিজের নামের আগে শায়খ কেন ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি তিনি  এই বহুল আলোচিত সম্মানসূচক শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। আলাপচারিতার একপর্যায়ে সাংবাদিক জানতে চান যে সাধারণত দেশে ইসলামী স্কলারদের নামের পূর্বে মুফতি বা মাওলানা জাতীয় পরিচিতি দেখা গেলেও তার নামের শুরুতে ‘শায়খ’ যুক্ত হওয়ার কারণ কী। জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শায়খ আসলে সম্মানসূচক একটি ভূষণ। আমরা যেরকম ‘জনাব’, ‘শ্রদ্ধেয়’—এ ধরনের শব্দ দিয়ে মানুষকে সম্মানিত করার চেষ্টা করি, শায়খও অনেকটা তেমন। শায়খ শব্দটি মূলত সিনিয়রিটি বোঝায়। আরব বিশ্বে এটি খুব পরিচিত একটি সম্বোধন বা টাইটেল বলা যেতে পারে। সেখানে আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের মানুষ পরস্পরকে সম্মান করে শায়খ বলে সম্বোধন করেন। আলেমদের ক্ষেত্রে এটি একটু বেশি ব্যবহৃত হয়। তিনি নিজের প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সৌদি আরবে তিনি প্রায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন। সেখানে দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের ধর্মীয় নানা বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। কোনো প্রবাসী আইনি জটিলতা বা মামলায় জড়িয়ে পড়লে কখনো কখনো স্থানীয় আদালতের বিচারকদের সাথে দোভাষীর দায়িত্বও পালন করতে হতো তাকে। সেখানে বাংলা ভাষাভাষীরাও ‘শায়খ’ শব্দটি বলতে অভ্যস্ত। মূলত সেখান থেকেই ‘শায়খ’ শব্দটি আমার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি এমন নয় যে এটি কোনো অর্জনের টাইটেল, তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা আনুষ্ঠানিক অর্জনের মাধ্যমে পাওয়া কোনো উপাধি নয়। মুফতিদের ক্ষেত্রে যেমন নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা দায়িত্বের বিষয় আছে, এটি তেমন নয়। আমাদের দেশে যেমন মাওলানা বা হুজুর বলে সম্বোধন করা হয়, সেখানে শায়খ বলে সম্বোধন করা হয়। আরটিভি/টিআর
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
মৃত্যু অবধারিত। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বজনরা যেমন শোকাহত হন, তেমনি অনেকেই কবর জিয়ারত করতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও সালাম করেন।
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
আজকের নামাজের সময়সূচি
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যে কারণে ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি আহমাদুল্লাহ
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রস্তাব পেয়েও তা গ্রহণ করেননি আলোচিত ইসলামি বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
যে কারণে ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি আহমাদুল্লাহ
সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?
ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।
সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?
আরও পড়ুন
জুমার দিনে বেশি দরুদ পড়লে মিলবে বিশেষ রহমত
জুমার দিনের যে আমলে মিলবে বড় সওয়াব
জুমার দিনের ২০ সুন্নত আমল
জুমার দিনের ৬ আমলে মিলবে অশেষ রহমত ও ফজিলত