ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

জুমার দিনে যে ১০ আমলে মিলবে বিশেষ সওয়াব

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
জুমার দিনকে অবহেলায় না কাটিয়ে যে আমলগুলোর ফজিলত সবচেয়ে বেশি তা বেশি বেশি পালন করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মুসলমানদের জন্য এটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে পরিচিত। এ দিনে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে। তাই জুমার দিনটি শুধু নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে বিশেষ কিছু আমলের মাধ্যমে কাটানো উত্তম।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ

অর্থ: ‘হে ঈমানদারগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।’ —সুরা আল-জুমুআ, আয়াত: ৯

জুমার দিনে যেসব আমল করা যেতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০টি হলো—

১. পরিচ্ছন্ন হওয়া ও নখ কাটা

জুমার দিনের আগে বা দিনে শরীর ও পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখা, নখ কাটা এবং নিজেকে পরিপাটি রাখা উত্তম। এগুলো ইসলামের পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা ও ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত।

২. জুমার গোসল করা

জুমার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাজে আসতে চায়, সে যেন গোসল করে নেয়।’ —সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৪৪।

৩. মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার

জুমার দিনে মিসওয়াক করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০।

আরও পড়ুন

৪. সুরা কাহফ তিলাওয়াত

জুমার দিনে সুরা কাহফ তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোর ব্যবস্থা করা হবে। —মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৩৯২।

৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ

জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। তাই এ দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।’ —সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭।

৬. মসজিদে আগেভাগে যাওয়া

জুমার নামাজের জন্য যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, ততই ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় আগত মুসল্লিদের নাম ধারাবাহিকভাবে লিখতে থাকেন। প্রথম দিকে আগমনকারীর জন্য বড় সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১।

৭. সম্ভব হলে হেঁটে মসজিদে যাওয়া

পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদের দিকে হেঁটে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সওয়াব রয়েছে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তাই সম্ভব হলে জুমার নামাজে হেঁটে যাওয়া উত্তম আমল। —সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৬।

৮. খুতবা নীরবে মনোযোগ দিয়ে শোনা

ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি অন্য কাউকে ‘চুপ করুন’ বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ থাকো, তবে তুমি অনর্থক কথা বললে।’ —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৪।

৯. জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো যথাসময়ে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। মহান আল্লাহ জুমার নামাজের আহ্বান হলে দুনিয়ার কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।

১০. দোয়া কবুলের সময় খোঁজা

জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫।

অন্য বর্ণনায় জুমার দিনের ওই বিশেষ সময়টি আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত খোঁজার কথা এসেছে। —সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮।

তাই জুমার দিনকে অবহেলায় না কাটিয়ে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানো উচিত। এতে ইবাদতের পাশাপাশি মহান আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং জীবনে বরকত আসে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
মসজিদুল হারামে এক ইমামের পেছনে নামাজের প্রচলনের ১০০ বছর পূর্ণ
সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারামে একজন ইমামের নেতৃত্বে এক জামাতে নামাজ আদায়ের প্রচলনের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
মসজিদুল হারামে এক ইমামের পেছনে নামাজের প্রচলনের ১০০ বছর পূর্ণ
ভালো মৃত্যুর ১৩ আলামত
মৃত্যু অবধারিত এ বিশ্বাস সব ধর্মের মানুষের মধ্যেই রয়েছে। তবে কেউই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু কামনা করেন না। প্রত্যেক মুমিনের আকাঙ্ক্ষা, তার মৃত্যু যেন ইমানি অবস্থায় এবং ভালোভাবে হয়। কারণ, জীবনের শেষ সময়টি আল্লাহ তাআলার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘শেষ আমলই গ্রহণযোগ্য।’ (ইবনে হিব্বান: ৩৪০) অন্য এক হাদিসে তিনি (সা.) সাহাবিদের জানিয়েছেন, ‘আল্লাহ যদি কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে (ভালো) কাজে লাগান।’ সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, কীভাবে আল্লাহ বান্দাকে (ভালো) কাজে লাগান? উত্তরে তিনি (সা.) বলেন, ‘মৃত্যুর আগে তাকে ভালো কাজ করার তাওফিক দেন।’ (তিরমিজি: ২১৪২) ফকিহদের মতে, হাদিসে ভালো মৃত্যুর বেশ কিছু আলামতের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু লক্ষণ কেবল মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তি নিজেই উপলব্ধি করতে পারেন। আবার কিছু লক্ষণ অন্য মানুষের পক্ষেও দেখা বা বোঝা সম্ভব। ভালো মৃত্যুর ১৩টি আলামত তুলে ধরা হলো মৃত্যুর সময় কালেমা পাঠ করা নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তির শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। (আবু দাউদ: ৩১১৬) মৃত্যুর সময় কপাল ঘেমে যাওয়া কোনো ইমানদার ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার কপাল ঘেমে গেলে, এটিকে সুন্দর মৃত্যুর একটি আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কারও কপাল না ঘামলে তাকে জাহান্নামি মনে করা যাবে না। (নাসাঈ: ১৮২৮)  জুমার রাতে বা দিনে মৃত্যুবরণ করা নবীজি (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। (তিরমিজি: ১০৭৪)  শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করা রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোমরা তোমাদের মধ্যকার কাদেরকে শহীদ বলে গণ্য করো?’ তাঁরা উত্তর দিয়েছিলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জীবন দেয় সে তো শহীদ।’ তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘তবে তা আমার উম্মাতের শহীদের সংখ্যা অতি অল্প হবে।’ সাহাবিরা জানতে চাইলেন, ‘তাহলে তারা কারা হে আল্লাহর রাসুল?’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে (জিহাদে) নিহত হয়, সে শহীদ। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (সৎকাজে) বের হয়ে রাস্তায় মারা যায়, সেও শহীদ। যে ব্যক্তি প্লেগ রোগে মারা যায়, সেও শহীদ এবং যে ব্যক্তি পেট খারাপের রোগে মারা যায়, সেও শহীদ।’ (মুসলিম: ৪৮৩৫) কোনো কিছু ধসে পড়ে মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কোনো ব্যক্তি দেয়াল কিংবা অন্য কোনো কিছু ধসে তার ওপর পড়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (বোখারি: ৬৫২)  গর্ভবতী অবস্থায় নারীর মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কোনো নারী গর্ভে সন্তান থাকা অবস্থায় অথবা সন্তান প্রসবের সময় মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (ইবনে মাজা: ২৮০৩) বিষফোড়ার কারণে মৃত্যু নবীজি (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কেউ বিষফোড়ার আঘাতে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (নাসাঈ: ১৮৪৬) আগুনে পুড়ে মৃত্যু বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কোনো ব্যক্তি আগুনে পুড়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (নাসাঈ: ১৮৪৬) নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কেউ নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (বোখারি: ২৮৪০) দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হওয়া রাসুল (সা.) বলেছেন, ইসলাম রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর উম্মতের কেউ নিহত হলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (নাসাঈ: ৪০৯৫) জুলুম প্রতিহত করতে গিয়ে মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, জুলুম প্রতিহত করতে গিয়ে তাঁর উম্মতের কেউ নিহত হলে আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। (নাসাঈ: ৪০৯৬) আল্লাহর পথে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর পথে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পালনকালে কেউ মারা গেলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। কেয়ামত পর্যন্ত তার আমলও বাড়তে থাকবে। (তিরমিজি: ১৬৬৫) সদকা করার পরপরই মৃত্যু রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি সদকা করার কিছুক্ষণ পর মারা গেলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। একইভাবে, কেউ নফল রোজা রাখা অবস্থায় মারা গেলেও আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। (মুসনাদে আহমদ: ২৩৩৭২) আরটিভি/এসআর
ভালো মৃত্যুর ১৩ আলামত
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- জোহর- ১১:৪৬ মিনিট আসর- ০৩:৪৪ মিনিট মাগরিব- ০৫:২৮ মিনিট এশা- ০৬:৪২ মিনিট ফজর (আগামীকাল)- ০৪:৪৬ মিনিট উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হলো- যোগ করতে হবে: খুলনা: ০৩ মিনিট রাজশাহী: ০৭ মিনিট রংপুর: ০৮ মিনিট বরিশাল: ০১ মিনিট বিয়োগ করতে হবে: চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট সিলেট: ০৬ মিনিট আরটিভি/টিআর
আজকের নামাজের সময়সূচি
স্ত্রী থাকার পরেও কি শ্যালিকাকে বিয়ে করা যাবে?
ইসলামে স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার আপন বোনকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম। একই সময়ে দুই বোনকে একজন পুরুষের বিবাহবন্ধনে রাখা ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
স্ত্রী থাকার পরেও কি শ্যালিকাকে বিয়ে করা যাবে?
আরও পড়ুন
জুমার দিন বেশি সওয়াব পেতে যে আমলগুলো করবেন
জুমার দিনে বেশি দরুদ পড়লে মিলবে বিশেষ রহমত
জুমার দিনের যে আমলে মিলবে বড় সওয়াব
জুমার দিনের ২০ সুন্নত আমল