ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হিরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
এহতিশামুল হক হিরা। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা। ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামীর এ প্রতিযোগী ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তার এ সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা।

পাঁচ দিনব্যাপী ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা গত ৬ অক্টোবর শুরু হয়ে শুক্রবার শেষ হয়। কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (ডব্লিউটিসি) আয়োজিত প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পুরুষদের হিফজ বিভাগে বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরার সঙ্গে ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে প্রথম হয়েছেন সিরিয়ার আবদুল রহমান জামাল ইব্রাহিম। এ বিভাগে ৯৬ দশমিক ৩৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন স্বাগতিক মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ ইজ্জুল আফনান সাজালি।

প্রতিযোগিতার নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে ৯১ দশমিক ৮৩ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মালয়েশিয়ার নুর শাকুরা মোহাম্মদ মুসা। ৯১ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন সিঙ্গাপুরের আতিকাহ বিনতে সুহাইমি। আর ৯০ দশমিক ৮৩ নম্বর নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন ব্রুনেইয়ের দায়াংকু সিতি উম্মি শায়জানা বিনতে পেঙ্গিরান হাজি মারজুকি।

পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ৯৪ দশমিক ৬৭ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান। ৯২ দশমিক ৯৯ নম্বর নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন মালয়েশিয়ার সিক হাসনুল তাকিয়ুদ্দিন সিক সাজালি। এ বিভাগে ৯২ দশমিক ১৭ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন বেলজিয়ামের ব্রাহিম বুগালাব।

নারীদের হিফজ বিভাগে ৯৬ দশমিক ১৭ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন নাইজারের চাফাতু ইসুফু। ৯৫ দশমিক ৫০ নম্বর নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন লিবিয়ার মিন্নাহ আলী আলসুদানি আগনাইয়াহ। আর ৯৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন মিয়ানমারের থেইন গি মোন।

আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাস কয়েক দশকের। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত তথ্য সমন্বয় করে দেখা গেছে, ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি হাফেজরা মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। এ সময়ে ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজ এ সাফল্য পেয়েছেন। একই প্রতিযোগী একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বিজয়ীর সংখ্যা ও প্রথম স্থান অর্জনের সংখ্যা আলাদা।

হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে লিবিয়ায় কারি আবদুল হকের প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এ সাফল্যের ধারার সূচনা হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে ইরানে সাখাওয়াত হোসাইন এবং ১৯৯৬ সালে একই দেশে মাহমুদুল হাসান চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৯৯ সালে মিশরে ইমদাদুল্লাহ এবং ইরানে ফরিদ আহমদ প্রথম স্থান অর্জন করেন।

পরবর্তী বছরগুলোতেও বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্য অব্যাহত থাকে। ২০০০ সালে মিশরে নাবিল ওয়ালিদ, ২০০১ সালে ইব্রাহিম বিন হেলাল, ২০০২ সালে জর্ডানে হোসাইন আহমাদ এবং ২০০৩ সালে মিশরে আবদুল কাদির প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০০৭ সালে দুবাইয়ে এবং ২০০৯ সালে মিশরে চ্যাম্পিয়ন হন ফজলে রাব্বি আদেল। ২০১০ সালে জর্ডানে মো. সাইফুল ইসলাম এবং ২০১১ সালে ইরানে হাফেজ সালাহউদ্দিন শীর্ষস্থান অর্জন করেন।

২০১২ সালে সৌদি আরবে পৃথক বিভাগে প্রথম হন মো. তানভীর হোসাইন, এহসান উদ্দিন নোমান ও মুহাম্মদ সাদ সুরাইল। ২০১৩ সালে সৌদি আরবে মো. ইমাদুল্লাহ, জর্ডানে ফারিয়া তাসলিম এবং দুবাইয়ে হাফেজ নাজমুস সাকিব চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৪ সালে সৌদি আরবে নাজমুস সাকিব এবং মিশরে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেন।

২০১৫ সালে সুদানে চ্যাম্পিয়ন হন নাজমুস সাকিব। একই বছর মিশরে পৃথক বিভাগে নাহিয়ান কায়সার ও মুহিব্বুল্লাহ এবং জর্ডানে সাঈদ হাসান প্রথম হন। ২০১৬ সালে তুরস্কে আবদুল আখের এবং বাহরাইনে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।

২০১৭ সালে সৌদি আরব ও মিশরে আবদুল্লাহ আল মামুন এবং দুবাইয়ে তারিকুল ইসলাম প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৮ সালে মিশরে মুজাহিদুল ইসলাম এবং ২০১৯ সালে জর্ডানে মো. সাইফুর রহমান ত্বাকী চ্যাম্পিয়ন হন। ২০২১ সালে ইরান এবং ২০২৩ সালে দুবাইয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম।

২০২৪ সালেও একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজরা সাফল্য পান। ওই বছর ইরানে বশির আহমদ, সৌদি আরবে আনাস বিন আতিক, তুরস্কে মুআজ মাহমুদ, কুয়েতে আনাস মাহফুজ এবং সেনেগালে অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ আবু রাইহান প্রথম হন। একই বছর সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগেও চ্যাম্পিয়ন হন মুআজ মাহমুদ।

২০২৫ সালে মিশরে প্রথম স্থান অর্জন করেন আনাস বিন আতিক। ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় হাফেজ ইব্রাহিম শেখ এবং সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগে হাফেজ মোহাম্মদ নুরুদ্দিন জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের সংরক্ষিত তথ্যে ১৯৯৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হাফেজদের ৩৭টি প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য রয়েছে। এর বাইরে ১৯৮২ সালে কারি আবদুল হকের সাফল্যসহ বিভিন্ন বছরের আরও কয়েকটি বিজয়ের তথ্য পাওয়া গেছে হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশের কাছ থেকে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয় করে পাওয়া এ হিসাব বাংলাদেশের হিফজ শিক্ষার ধারাবাহিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ সাফল্য ধরে রাখতে তাজবিদ, ওয়াকফ-ইবতিদা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হজ এজেন্সিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা
আগামী বছরের হজে অংশগ্রহণকারী অনুমোদিত হজ এজেন্সিগুলোর অনুকূলে ‘হজ মিশন ভিসা’ ইস্যুর লক্ষ্যে  রবিবার (১১ অক্টোবর) মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাংক জমার মূল রসিদ দাখিলের জরুরি নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
হজ এজেন্সিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি। শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- জোহর ১১:৫০ মিনিট আসর ০৪:০০ মিনিট মাগরিব ০৫:৪৪ মিনিট এশা ০৬:৫৭ মিনিট উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হলো- যোগ করতে হবে: খুলনা: ০৩ মিনিট রাজশাহী: ০৭ মিনিট রংপুর: ০৮ মিনিট বরিশাল: ০১ মিনিট বিয়োগ করতে হবে: চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট সিলেট: ০৬ মিনিট আরটিভি/টিআর
আজকের নামাজের সময়সূচি
শুভ মহালয়া আগামীকাল
বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্য লগ্ন শুভ মহালয়া আগামীকাল (শনিবার)। এদিন মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হবে। মহালয়া তিথি শুধু শারদীয়া দেবীর পূজা শুরুর তিথি তা নয়, এই তিথি পরলোকগত পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তর্পণ (জলদান) করে শ্রদ্ধা জানানোরও। পক্ষকাল পিতৃপক্ষের অবসানের পরে শুরু হয় দেবীপক্ষ। পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধির তিথি হলো মহালয়া। মহালয়া অমাবস্যা, শারদীয়া দেবী দুর্গার অমাবস্যার বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয়া দুর্গাপূজা। শাস্ত্রমতে দেবী দুর্গা মহিষাসুর নিধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এই মহালয়া তিথিতে। এই তিথিতেই শারদীয়া দেবী দুর্গা মর্ত্যে আগমন করেন। ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। সকালে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে জানানো হবে আহ্বান। মহালয়া উপলক্ষ্যে চন্ডীপাঠ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা করা হবে। মূলত মহালয়া মানেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়ে যাওয়া। মহালয়া দুর্গোৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরাণে আছে— দুর্গোৎসবের তিনটি পর্ব মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। পুরাণ মতে, মহালয়ার দিনে, দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনো মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলে অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। তাই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’র রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করলেন এবং দেবতাদের ১০টি অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী নিয়ে দেবী দুর্গা ৯ দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করে। মহালয়ার ভোর থেকেই শুরু হয় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা। সনাতন ধর্মে বলা হয়, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। মৃত আত্মীয়পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মঙ্গল কামনা করেন অনেকে। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল-তিল-অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করা হয়। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হলেও মূলত আগামীকাল থেকেই দুর্গাপূজার আগমনধ্বনি শোনা যাবে। দুর্গাপূজার এই সূচনার দিনটি সারা দেশে বেশ আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে। মহালয়া উপলক্ষ্যে বিভিন্ন মন্দির ও পূজা কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। আগামী ২১ অক্টোবর ‘বিজয়া দশমী’র মাধ্যমে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এদিকে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা বহনকারী মহালয়া উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন মন্দিরে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ওইদিন ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়া অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া শনিবার ভোরে রমনা কালী মন্দিরেও মহালয়া উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা ও ব্রাহ্মণদের বস্ত্র দানের মাধ্যমে তাদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই দিনেই দেবী দুর্গা কৈলাসের নিজ আবাস থেকে মর্ত্যলোকে তার পিত্রালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন, যা দুর্গাপূজা উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়। এছাড়াও ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগে লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোর থেকেই চন্ডীপাঠ, চন্ডীপূজা ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে মহালয়ার ঘট স্থাপন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় (ঘোটক) চড়ে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসস-কে বলেন, ‘এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।’ এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ বছর দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারের সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে বাসুদেব ধর বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’ পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবকে সামনে রেখে সারা দেশের পূজা কমিটি, মন্দির ও মণ্ডপগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। উৎসব চলাকালীন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গাপূজা কেবল একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। আরটিভি/এসআর
শুভ মহালয়া আগামীকাল
অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন
অন্যের সাফল্য, সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা সুখ দেখে কখনো নিজের মনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন
জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন 
জুমার দিন মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময়কে কাজে লাগাতে অনেকেই বিভিন্ন দোয়া ও ইস্তিগফার পড়েন।
জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন 
আরও পড়ুন
সাড়ে ৬ লাখ টাকায় মালয়েশিয়ার স্বপ্ন, বিমানবন্দরে গিয়ে ইকবাল জানলেন ভিসা-বিমানের টিকিট ভুয়া
আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম ’আরটিভি আলোকিত কোরআন ২০২৬’-এর চ্যাম্পিয়ন ইহতেশামুল
মালয়েশিয়ান কুকুর মাটি খুঁড়ে বের করল নিখোঁজ বাংলাদেশির মরদেহ
মালয়েশিয়ার ব‍্যবসায়ীদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান দূতাবাসের