
তুরস্কের আরারাত পর্বতের কাছে অবস্থিত দুরুপিনার গঠনে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার নতুন দাবি করেছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি, সেখানে কাঠকয়লার মতো পোড়া কাঠের পাশাপাশি ভূগর্ভে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে না-পোড়া কাঠের সন্ধানও মিলেছে। তবে এসব নমুনা যে সত্যিই নুহ নবীর নৌকার অংশ, তা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
‘নোয়াস আর্ক স্ক্যানস’ নামের গবেষক দলটি কয়েক সপ্তাহ ধরে দুরুপিনার গঠনে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যান চালাচ্ছে। প্রায় ৫১৫ ফুট দীর্ঘ এই কাঠামোর ভেতরে অনুসন্ধানের জন্য ড্রোনও পাঠিয়েছেন তারা।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু জোনস সম্প্রতি দাবি করেন, অনুসন্ধানে তারা নুহ নবীর নৌকার পোড়া অবশিষ্টাংশের সন্ধান পেয়েছেন। তার ভাষ্য, কাঠ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির প্রায় ৩০ ফুট নিচে অক্ষত কাঠের নমুনাও পাওয়া গেছে।
জোনসের ধারণা, কয়েক শতাব্দী আগে কোনো রাখাল কাঠামোটিকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করার সময় সেখানে আগুন জ্বালিয়ে থাকতে পারেন। এ ছাড়া বজ্রপাত কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও কাঠ পুড়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোনস বিশ্বাস করেন, উদ্ধার হওয়া কাঠ নুহ নবীর নৌকার অংশ। তার যুক্তি, নৌকাটিকে পানিরোধী করতে আলকাতরার মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে কোনো একসময় এতে আগুন ধরে থাকতে পারে।
এর আগেও দুরুপিনার গঠন নিয়ে একাধিক দাবি করেছে দলটি। গত সেপ্টেম্বরে তারা কাঠামোটিকে মানুষের তৈরি বলে দাবি করে। সে সময় সেখানে ড্রিল করে পচে যাওয়া কাঠের সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানায় গবেষকেরা।
এমনকি খননকাজের সময় একটি ড্রিল মেশিন কাঠামোর ভেতরে শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভেঙে যায় বলেও দাবি করা হয়। গবেষকদের ধারণা, বস্তুটি পাথরে পরিণত হওয়া কাঠ হতে পারে।
জোনসের দাবি, তাদের সংগৃহীত তথ্য দুরুপিনার গঠনকে প্রাকৃতিক শিলাস্তর হিসেবে বিবেচনার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রাথমিক রাডার স্ক্যানেও কাঠামোটির ভেতরে একটানা ও সমজাতীয় কঠিন শিলার বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
তবে গবেষকদের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। দুরুপিনার গঠনকে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ হিসেবে শনাক্ত করার পক্ষে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে স্বীকৃত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
আরটিভি/এসকে


