ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

খাঁটি সোনায় কেন মরিচা ধরে না

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সোনায় মরিচা পড়ে না—এ কথাটা আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। আমাদের ঘরে-সংসারে, উৎসব-অনুষ্ঠানে, কিংবা প্রাচীন ঐতিহ্যে সোনার গুরুত্ব অপরিসীম। সোনা কেবল গহনা হিসেবেই নয়, মানুষের সভ্যতার ইতিহাসেও একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিন্তু এই ধাতুর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এতে কখনো মরিচা পড়ে না। যার পেছনে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ যা সোনাকে অনন্য করে তোলে।

সোনা মৌলিক পদার্থ, যার রাসায়নিক প্রতীক হলো Au (ল্যাটিন শব্দ ‘Aurum’ থেকে এসেছে)। সোনা খুবই স্থিতিশীল ধাতু, যা সাধারণত অন্য কোনো পদার্থের সাথে সহজে বিক্রিয়া করে না।

ধাতুর মরিচা ধরার প্রধান কারণ হলো অক্সিডেশন। যখন ধাতু বাতাসে থাকা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে, তখন মরিচা ধরে।

যেমন লোহা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে আয়রন অক্সাইড তৈরি করে, যা আমরা মরিচা হিসেবে চিনি। তবে, সোনা অক্সিজেনের সাথে সহজে বিক্রিয়া করে না। এর কারণ সোনার পারমাণবিক গঠন খুবই স্থিতিশীল এবং এর পরমাণুর বাইরের শক্তিস্তর ইলেকট্রন শেল সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে। সোনা অন্যান্য অনেক রাসায়নিক পদার্থের সাথেও বিক্রিয়া করে না।

সাধারণত অ্যাসিড, ক্ষার, এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসলেও সোনা অপরিবর্তিত থাকে। এটি সোনাকে আরও স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব দেয়।

সোনার আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এটি নিজেই উজ্জ্বল এবং চকচকে হয়, যা কোনো প্রকার পলিশিং ছাড়াই স্থায়ী থাকে। অন্য ধাতুর মতো সোনাকে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয় না।

এই কারণে সোনা বিভিন্ন ব্যবহারের জন্য খুবই জনপ্রিয়। গহনা থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সংযোগ, এবং অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে সোনার ব্যবহার ব্যাপক। এটি কেবলমাত্র সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং এর স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য ধাতুর সাথে বিক্রিয়া না করার কারণে অত্যন্ত মূল্যবান।

সোনার মরিচা না ধরার পেছনে মূলত রয়েছে এর রাসায়নিক গঠন এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। এটি অন্যান্য ধাতুর মতো অক্সিডেশন এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার শিকার হয় না, যা সোনাকে অনন্য এবং স্থায়ী করে তোলে। এই কারণেই সোনা হাজার বছর ধরে মানুষের কাছে আকর্ষণীয় এবং মূল্যবান ধাতু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সূত্র: হাউ ইট ওয়ার্কস

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
দেশের বাজারে ফের কমল সোনার দাম
সোনায় কেন মরিচা পড়ে না
মরিচা লোহায় হাত-পা কাটলেই কি টিটেনাস টিকা লাগে? 
সব রেকর্ড ভাঙল সোনা, ভরি কত?