
চলতি অক্টোবরে বাকি ১৩ দিনে দারুণ কিছু মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আকাশে। মৌসুমের এই সময়টাতে সাধারণত বৃষ্টি ও মেঘের আনাগোনা কম থাকায় পরিষ্কার ও স্বচ্ছ থাকে আকাশ। ফলে তারা, গ্রহ এবং উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণের জন্য এটি আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি হয় আকাশে।
চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতে পাঁচটি আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখার সুযোগ আছে রাতের আকাশে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘অ্যাস্ট্রোনমি’ ম্যাগাজিনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অ্যাস্ট্রোনমি ডট কমে পাওয়া গেছে এ তথ্য।
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি: অক্টোবরের শেষ পাক্ষিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা থেকে এই উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। আগামী ২১ থেকে ২২ অক্টোবরের গভীর রাতে এই উল্কাবৃষ্টি তার শিখরে পৌঁছাবে। এই সময়ে চাঁদের আলো থাকলেও মাঝরাতের আগেই তা অস্ত যাবে। ফলে গভীর রাত থেকে ভোরের আলো ফোটার পূর্ব পর্যন্ত আকাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার থাকবে, যা উল্কা দেখার জন্য সেরা সুযোগ তৈরি করবে। এই সময়ে অন্ধকার ও পরিষ্কার আকাশে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ থেকে স্পষ্ট উল্কা ছুটে যাওয়া দেখা যাবে।
শনি গ্রহের উপস্থিতি: সেপ্টেম্বরে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান নেওয়ার পর, অক্টোবরের শেষভাগেও শনি গ্রহ সন্ধ্যার আকাশে উজ্জ্বলভাবে বিরাজ করবে। সূর্যাস্তের পরপর দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে শনিকে সহজে চিহ্নিত করা যাবে। এটি রাতের প্রথমভাগে মাথার ওপরের দিকে অবস্থান নেবে এবং মধ্যরাতের পর পশ্চিমের আকাশে ঢলে পড়বে। শনি স্থির ও ঈষৎ হলুদ-সোনালি আভায় জ্বলবে। একটি বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে এর মনোমুগ্ধকর বলয় এবং বড় উপগ্রহ টাইটান স্পষ্ট দেখা যাবে।
সন্ধ্যার আকাশে শুক্র: অক্টোবরের শেষ দুই সপ্তাহে সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই পশ্চিম আকাশে ঝলমলে আলো নিয়ে উদিত হবে শুক্র গ্রহ। গোধূলির আলো মেলাতেই পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম দিগন্তে সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু হিসেবে এটি চোখে পড়বে। সূর্যাস্তের পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত শুক্র গ্রহ দিগন্তের কিছুটা ওপরে অবস্থান করবে। খালি চোখেই শুক্র দেখা যাবে। আর বৃহস্পতি প্রধানত গভীর রাতের জ্যোতিষ্ক। তবে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই পূর্ব দিগন্তে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে উদিত হতে শুরু করবে।
হান্টার্স মুন ও চাঁদের সংযোগ: অক্টোবরের শেষ পাক্ষিকে চাঁদ ধাপে ধাপে পূর্ণ অবয়বের দিকে এগিয়ে যাবে। আগামী ২৫ ও ২৬ অক্টোবরের রাতে আকাশে উঠবে বছরের ‘হান্টার্স মুন’ বা শিকারি পূর্ণিমা। এই রাতে চাঁদের তীব্র সোনালি-সাদা আলোয় পুরো আকাশ আলোকিত থাকবে। এ ছাড়া পূর্ণিমার ঠিক আগে ২৪ অক্টোবরের দিকে চাঁদ ও শনি গ্রহকে রাতের আকাশে একে অপরের বেশ কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা যাবে।
হেমন্তের নক্ষত্রমণ্ডল: অক্টোবরের শেষভাগে সন্ধ্যার আকাশে হেমন্তের বিখ্যাত নক্ষত্রমণ্ডলগুলোও প্রস্ফুটিত হয়। ১৮ থেকে ২০ অক্টোবরের দিকে আলোমুক্ত পরিবেশ থেকে দুরবিন দিয়ে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিকে আবছা আলোর মেঘের মতো প্রত্যক্ষ করা সম্ভব। সন্ধ্যার পর পূর্ব-উত্তরপূর্ব আকাশে কাল্পনিক ডানাওয়ালা ঘোড়ার আকৃতির পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলের চারকোনা বিন্যাস স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। এ ছাড়া উত্তর আকাশে ইংরেজি ‘ডব্লিউ’ অক্ষরের আকৃতি ধারণ করে উজ্জ্বলভাবে দেখা দেবে ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডল।
আরটিভি/এসএইচএম




