ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চাইলেন ডা. জাহাঙ্গীর কবীর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০২:৩৬ পিএম
ডা. জাহাঙ্গীর কবীর

কিটো ডায়েট সংক্রান্ত পরামর্শদাতা ডা. জাহাঙ্গীর কবীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে জনমনে বিভ্রান্ত ছড়ানো ভিডিও সরিয়ে নিয়ে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তার নিজস্ব ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন-

আসসালামু আলাইকুম আমি ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর। সুস্থ থাকার লক্ষ্যে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে কাজ করছি। সেই লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আমার রোগীদের লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। ইদানিংকালে আমার একটি ভিডিও এবং দুটি পোস্ট নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত সুস্থ থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আমি একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলাম; সেখানে করোনার ভ্যাকসিন বিষয়ে কিছু তথ্য সহজভাবে বোঝাতে গিয়ে আমার অসাবধানতাবশত ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম।

এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে আমি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ভিডিওতে যে তথ্যগুলো ভুল ছিল এবং যে কথাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে পূর্বের ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে নিয়েছি। একইসাথে সকলকে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছি। এরপরেও কয়েকজন সম্মানিত ডাক্তার আমাকে ভুল বুঝে সরাসরি আমার নাম উল্লেখ করে নানান রকম পোস্ট করেন। তন্মধ্যে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট আমি আমার পেইজে শেয়ার করেছিলাম। এছাড়া অন্য একটি জনসচেতনতামূলক পোস্টে উদাহরণ স্বরূপ একটি প্রেসক্রিপশন শেয়ার করেছিলাম। ঐ প্রেসক্রিপশনটি যিনি লিখেছিলেন তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমি তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি প্রকাশ করিনি। তথাপি এই পোস্টটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে তৎক্ষণাৎ দুটি পোস্টই ডিলিট করে দেই।

আমি বিশ্বাস করি আমাদের ডাক্তার সমাজের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসেবা করে যাচ্ছেন, মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন, এজন্য প্রত্যেক ডাক্তারই আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন। একজন ডাক্তার হিসেবে আমি কখনোই কাউকে অসম্মান করতে পারি না এবং আমি তা করতে চাইও না। তবুও আমার অনিচ্ছায় তা হয়ে থাকলে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে আরও যে বিষয়ে সমালোচনা এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো আমার পরামর্শকে কিটো ডায়েট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি বহুবার নানান ভিডিওর মাধ্যমে বলেছি যে, আমি শুধুমাত্র ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলি না। আমি মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অটোফেজি, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তির চর্চা করাকে সমানভাবে গুরুত্ব দেই। আমি কখনোই ওষুধ বিরোধী না, আমি সব সময় বলে এসেছি জরুরি চিকিৎসায় ওষুধ অপরিহার্য।

তবে লাইফস্টাইল রোগগুলো লাইফস্টাইল মডিফাই করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমিও আমার রোগীদের প্রয়োজনে ওষুধ লিখছি সুতরাং ওষুধের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছি যেন স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ওষুধ ছাড়া সুস্থ থাকতে পারেন।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, যেসব রোগীরা সরাসরি আমার পরামর্শ নেন আমি তাদেরকে নিয়মিত অবজারভেশনে রাখার চেষ্টা করি এবং কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে আমার পরামর্শের নানান প্রভাব ও প্রতিকারের বিষয়ে আলোকপাত করে থাকি। সর্বপরি আমি মনে করি চিকিৎসক সমাজে আমরা সবাই সহকর্মী, একে অপরের সহযোগী। এখানে রয়েছেন আমার সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ, শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই-বোন,বন্ধুরা ও আগামীর সম্ভাবনাময় জুনিয়র ডাক্তারগণ। জনস্বার্থে সকল চিকিৎসকই একেকজন যোদ্ধা। করোনা মহামারীর এই চরম দুর্দিনে ডাক্তারদের মত যোদ্ধারাই নিজেদের জীবন ঝুঁকির কথা ভুলে জরাগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকেছে এখনো আছে।

আজকের পুরো বিশ্ব চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।আমি সকলের প্রতি সম্মান রেখে বলছি মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে তাই আপনারা আমার কোন ভুল ধরিয়ে দিলে আমি তা শুধরে নিব। নিজের ভুলকে আমি ভুল হিসেবে গ্রহণ করে তা শুধরে নিব আর আপনাদের কাছেও আমার অনুরোধ আপনারা আমার পূর্বের ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেননা আমরা তো সকলে মিলে মানবসেবার ব্রতেই চিকিৎসা পেশাকে বেছে নিয়েছি আর সেজন্য আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান রেখে একযোগে কাজ করতে পারি। আমি নিজেও একজন চিকিৎসক, সবসময়ই প্রত্যেক চিকিৎসকের সম্মান রক্ষা ও অবদান স্বীকার আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। বহু আগে থেকেই আমি নিজেও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে সোচ্চার আছি। সেই লক্ষ্যে আমি ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেসপন্সিবিলিটিস (FDSR) এর সাথে প্রোগ্রাম করেছিলাম, তা আমার পেইজ থেকে শেয়ার করেছিলাম সকলের উদ্দেশে। তবুও মানুষ হিসেবে আমি ভুলের ঊর্ধ্বে নই। তাই আমার কথায় হয়তো অনেক সহকর্মী - সিনিয়র চিকিৎসক কষ্ট পেয়েছেন কিংবা মনক্ষুণ্ন হয়েছেন। আমি তাদের সবার প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

জেএইচ/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যৌন হয়রানি নিয়ে মেডিকেল ছাত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল
রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ওই কলেজের এক ছাত্রী। থানায় জিডিও করেছেন তিনি। এ বিষয়ে রোববার (২৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ওই ছাত্রী।  তিনি লিখেছেন- ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদের অবশ্যই ভয় পাবে কিন্তু সেটা শ্রদ্ধার চোখে, কোনো অসাধু শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাব না মানায় পরীক্ষায় বার বার ফেল হওয়ার ভয়ে নয়। মেডিকেল কলেজে এত দিন আছি। এই প্রথম এ রকম অপ্রীতিকর প্রস্তাবের সম্মুখীন হলাম। যদিও এখন অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে যে তারাও এই একই শিক্ষকের দ্বারা বিভিন্নভাবে হেনস্থা হয়েছে। এখন আমি যাতে আর সামনে না আগাই সে জন্য বিভিন্ন দিক দিয়ে নতুন নতুন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ওই শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে জানান, তাকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন ওই শিক্ষক। তার বাসায় না এলে একই শিক্ষাবর্ষে অনেক বছর রেখে দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি। সর্বশেষ গত ২২ ডিসেম্বর কলেজ থেকে বের করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়ায় বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করেন তিনি। আরএ/টিআই
যৌন হয়রানি নিয়ে মেডিকেল ছাত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল
বাংলাদেশের অগ্রগতির ভিত্তি রচনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু : জয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বাংলাদেশের অগ্রগতির ভিত্তি রচনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এখন সেই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (১৯ ডিসেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা লিখেছেন তিনি।  আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-  ‘২০২১ সালে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী (৫০ বছর) উদযাপন করছে বাংলাদেশ, স্বাধীন বাংলাদেশের এই ৫০ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছে অর্ধেকেরও অনেক কম সময়।  মুক্তিযুদ্ধে রক্তাক্ষয়ী বিজয়ের মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা লাভের পর, মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে পুনর্গঠিত করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের স্বল্প সম্পদ ও মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে তিনি যখনই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি চক্র তাকে সপরিবারে হত্যা করে। এরপর স্বৈরশাসকদের দুঃশাসনে বাংলাদেশ উন্নতি করা তো দূরের কথা, দেশ আবার নিমজ্জিত হতে থাকে এক অতল অন্ধকারে।  সেই দুরবস্থা থেকে বাংলাদেশকে গড়ার প্রত্যয়ে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে, ১৯৯৬ সালে আবারও ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তোলে।  এরপর আবার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোট। ১৯৭১-এর গণহত্যা ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশের মন্ত্রী বনে যায়। বিএনপি জামায়াতের সেই দুঃশাসনের আমলে পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ‘হাওয়া ভবন’ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কেন্দ্রবিন্দু।  পরবর্তীতে আবার ২০০৮ সালের নির্বাচনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। সেই নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। আজ সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।  বাংলাদেশের অগ্রগতির ভিত্তি রচনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এখন সেই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই অ্যালবামে তুলে ধরা হয়েছে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রবৃদ্ধি, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জনের তথ্য।  আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ শেয়ার করুন এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে। মহান বিজয়ের মাসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়াই হোক আমাদের সবার প্রত্যয়।’ আরএ/ টিআই
বাংলাদেশের অগ্রগতির ভিত্তি রচনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু : জয়
ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জয়ের
ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। জয়ের স্ট্যাটাসটি আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-  ‌‘তারুণ্যের অদম্য শক্তিতে সময়ের সাথে সাথে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। কিন্তু এটি আমাদের দায়বদ্ধতাকেও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন করেছি, পদ্মা সেতুর মতো একটি অনন্য সাধারণ প্রকৌশলী নির্মাণশৈলী উপহার দিয়েছি জাতিকে। এসব কারণে ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করতে সমর্থ হয়েছি আমরা। এখন আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য, ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এই ৫০-এ, আমি আমার সমবয়সী প্রিয় বাংলাদেশের মতো নিজের সুবর্ণজয়ন্তীও উদযাপন করছি। কারণ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমার জন্ম হয়, আমার নাম রাখা হয়েছিল জয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই যুদ্ধে চূড়ান্ত জয় লাভের মাধ্যমে স্বাধীনতা রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এবং আমার জীবনের পথযাত্রা সমান ও সমান্তরাল, এই ভালোবাসার বন্ধন অবিচ্ছেদ্য। স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে, আমরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছি যেখান থেকে আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে আমাদের। এখনই সময় নিজেদের বিকশিত করার মাধ্যমে মাথা উঁচু করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। দেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতে পারি, যাদের মহান আত্মদানের মাধ্যমে ধ্বংসস্তুপের মধ্য থেকে উদিত হয়েছে স্বাধীনতার সূর্য, আমাদের সেই পূর্বপুরুষদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করার উপযুক্ত সময় এখনই। ভুলে গেলে চলবে না- আমরা একটা ফুলের জন্য যুদ্ধ করেছি, একটি মুখের হাসির জন্য যুদ্ধ করেছি। স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রীরা যাতে এই ফুলকে নষ্ট করতে না পারে, কারো মুখের হাসি কেড়ে নিতে না পারে, সেজন্য আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। আসুন, সবাই মিলে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলি। বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করি। ভিশন-২০৪১ আপনাদের জন্যই।’ আরএ/টিআই
ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জয়ের
আবরার হত্যা ও তরুণদের নিয়ে আজহারীর স্ট্যাটাস
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা ও তাকে যারা খুন করেছেন তাদেরসহ তরুণদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারী।   আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। যথাযথ শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে মানুষ মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়। জনসংখ্যা হয় জনশক্তি। রুপান্তরিত হয় মানবসম্পদে। আর যথাযথ শিক্ষা ও পরিচর্যার অভাবে এই মানুষগুলোই হয়ে ওঠে সমাজের বোঝা, উচ্ছৃঙ্খল, পাপাচারী, হিংস্র, এবং পাশবিক প্রকৃতির। নতুন আঙ্গিকে ইসলামের ছোঁয়া পেয়ে আজ বাংলাদেশে অনেক তরুণ-তরুণী সময়মতো সালাত আদায় করে, হারাম রিলেশনশিপ বাদ দিয়ে বৈধ বিয়ের পথ খুঁজে, উদ্যোক্তা হয়ে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করে এবং সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখে। আর এই ছেলেগুলোই হেরার আলোর এ জ্যোতির্ময় ছোঁয়া না পেলে হয়ত কিশোর গ্যাং তৈরী, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, ইভটিজিং ইত্যাদি করে বেড়াতো। তারমানে, আদতে কোনো মানুষই খারাপ নয়। দরকার যথাযথ পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা। যেমন ধরুন, আবরার ফাহাদ যেমন মেধাবী ছাত্র ছিল, তেমনিভাবে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫ জন আসামিও আবরারের মত মেধাবী ছিল। এতো মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের অভাবে তাদের মতোই আরেকজন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করতে তাদের বুক কাঁপেনি। তাদের বাবা-মায়েরা হয়তো কখনও বুঝতেই পারেনি যে তাদের সন্তান এরকম একজন খুনি সত্তা হয়ে বেড়ে উঠছে। তাই, জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রুপান্তর করতে, অভিভাবক, শিক্ষকমণ্ডলী এবং সরকার, সবাইকে নতুন করে ভাবতে হবে। দেশে প্রায় ৩ কোটি তরুণ-তরুণী। মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করতে না পারলে, যতো শিক্ষিতই হোক না কেন, তরুণ প্রজন্ম এভাবে নানা বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে। নষ্ট করবে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। বারবার পিছিয়ে পড়বে আগামীর বাংলাদেশ।’ আরএ/ এসকে
আবরার হত্যা ও তরুণদের নিয়ে আজহারীর স্ট্যাটাস
পদত্যাগের পর ফেসবুকে মুরাদের কাণ্ড
নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য ও ফোনালাপ ফাঁসের জেরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো মুরাদ হাসান এবার জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পদত্যাগ করেই জয়ের বক্তব্য নিয়ে ২৮ মিনিটের স্ট্যাটাস মুরাদের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বেশ কয়েকদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ডা. মুরাদ হাসান। বিশেষ করে রাষ্ট্রধর্ম, রাজনীতি, খালেদা জিয়ার নাতনি ও সবশেষ ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তার উল্টাপাল্টা মন্তব্য এবং অস্বাভাবিক আচরণের কারণে দলীয় সহকর্মীদেরও বিব্রত হতে হয়েছে। আজ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সবসময় মুরাদ হাসানের সহযোগিতা পেয়েছি। তবে গেল তিন মাস ধরে তার আচরণে পরিবর্তন দেখেছি। মুরাদের কটূক্তি থেকে বাদ যাননি নায়িকা মৌসুমীও! বিতর্কিত মন্তব্য আর কল রেকর্ড ফাঁসের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘অসন্তোষ’ বুঝতে পেরে ঢাকার বাসভবন থেকে সকালেই চট্টগ্রামের পথ ধরেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা থেকেই তিনি অবস্থান করছেন চট্টগ্রামের স্টেডিয়াম পাড়ার পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে আসেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত এই প্রতিমন্ত্রী। সন্ধ্যায় যখন প্রধানমন্ত্রীর আদেশের বিষয়টি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত হয়, তখনও ডা. মুরাদ হাসান চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতেই ছিলেন। ঢাকা থেকে একা এসে রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে ওঠেন ডবল বেডের বিলাসী কক্ষে। গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করছিলেন তিনি। তবে এখন ডা. মুরাদ হাসান কোথায় রয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীকে ‘অনেক কিছু’ বলার আছে মাহির তবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন মুরাদ। দুপুরে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দেন।  সেখানে তিনি তার ভুলের জন্য ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, ‘আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি অথবা আমার কথায় মা-বোনদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সকল সিদ্ধান্ত মেনে নেব আজীবন। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’। মুরাদের অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন তথ্যমন্ত্রী এর পর তিনি তার নিজের স্ট্যাটাসে নিজেই কমেন্ট করে। যা হাসির খোরাক জোগায় নেটিজনদের। তিনি কমেন্টেসে লিখেন, “ ভুল করে সবাই নিজের ভুল মেনে নেওয়ার সততা দেখায় না। আল্লাহ আপনাকে সঠিকভাবে ফিরিয়ে আনুন সকলের মাঝে।”     এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার এই কমেন্টে প্রায় ১০ হাজার রিঅ্যাকশন ও প্রায় দুই হাজারের বেশি কমেন্টেসের রিপ্লাই আসে।    করিম খান নামে একজন কমেন্ট করেছেন, “নিজের পোস্টে নিজেই সান্তনা দিচ্ছে”। প্রিন্স নামে একজন লিখেন, “চিটারি করতে গিয়ে ধরা খাইছে”। শান্তা নামে একজন কমেন্ট করেছেন, “বেচারা ভুলে রিয়েল আইডি থেকে কমেন্ট করে ফেলছে।” এসএস/এসকে
পদত্যাগের পর ফেসবুকে মুরাদের কাণ্ড
আরও পড়ুন
ভুল স্বীকার রাসেলের, দায়ও নেবেন
ডা. জাহাঙ্গীর কবীরের পক্ষে ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
ডা. জাহাঙ্গীর কবীরের চিকিৎসা অবৈজ্ঞানিক: এফডিএসআর