ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বাঁধনের ওপর হামলা: নিজের সেই ঘটনা টেনে আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাস

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০ পিএম
এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গে দুই বছর আগে জেনেভায় নিজের সঙ্গে ‘মব’ করার ঘটনা টেনেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সে সময় মবকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ প্রসঙ্গ টানেন তিনি।

আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীর কাণ্ড-কীর্তি দেখে বিস্মিত হই। অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর আপনারা এভাবে হামলা করতে পারলেন? নিজেরাই তা ফলাও করে প্রচার করলেন, নিজেরাই অকাট্য সাক্ষী রাখলেন!’

হামলাকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এখন যদি আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হবে। সেটা আপনাদের জন্য ভালো হবে? আপনাদের পরিবারের জন্য বিষয়টা ভালো হচ্ছে?’

আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল প্রশ্ন তোলেন, ‘ভাই, কার জন্য করেন এসব? নতুন বেশে সজীব ওয়াজেদ জয়কে দেখে? আপনারা সত্যি বিশ্বাস করেন, তার বা তার মায়ের হৃদয় কাঁদে আপনাদের জন্য? সত্যি বিশ্বাস করেন, আপনাদের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন তারা? সত্যি বিশ্বাস করেন, আপনাদের করুণ পরিণতি হলে কোনো সাহায্য করবেন তারা?’

তিনি বলেন, ‘নিজেকে বিপন্ন করার ও দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা বাদ দেন। দলকে ভালোবাসলে আপনারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে কাজ করেন।’

বাংলাদেশের মানুষ কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তা গোপনে হলেও বোঝার চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দলের স্বার্থপর নেতাদের প্রশ্ন করেন।’

এরপর নিজের দুই বছর আগের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘সবচেয়ে আগে নিজেকে নিরাপদ রাখেন। ২ বছর আগে জেনেভায় আমার ওপর মব করার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল আমার। আমি নেইনি। কিন্তু এরপর আপনাদের কেউ কেউ আরও অনেক বেশি নোংরা ও বেপরোয়া হয়েছেন।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘এসব সহ্য করার মতো নয়।’

এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী এবং তাদের সন্তানরা বিতাড়িত আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কর্মীদের দারা মারধর ও হেনস্তার শিকারের অভিযোগ ওঠে।

বাঁধনের অভিযোগ, ভেনিসে একদল বাঙালি তাকে ঘিরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে এবং তার ওপর পানি ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারে। এসময় তার সঙ্গে থাকা ভাইয়ের শিশুসন্তানও সেখানে ছিল বলে জানান তিনি।

সোমবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ঘটনার বিস্তারিত জানান বাঁধন। এ ঘটনায় ভেনিসের একটি থানায় তিনি অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। জানা যায়, তিনি ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন।

বাঁধনের ওপর হামলার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে হামলাকারীদের একজনকে বাঁধনকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘তিনি একজন ‘জুলাই জঙ্গি’। ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘সে এখন ভেনিসে, আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ এই দেশদ্রোহী জঙ্গিকে ধরেছি।’

ভিডিওতে বাঁধনকে ‘দেশকে ধ্বংস করেছে’, এমন অভিযোগ তুলে হেনস্তা করতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলে জানান অভিনেত্রী।

ফেসবুক লাইভে বাঁধন বলেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে। আমার গায়ে পানি, কোক, এগুলো ছুড়ে মারছে। আমি একদম ভিজে গেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে আমার ভাইয়ের ছোট বাচ্চাটাও ছিল। তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে।’

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বাঁধন বলেন, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে অভিহিত করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি... একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না।’

বাঁধনের ভাষ্য, হামলাকারীরা কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী ও বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বলে পরিচয় দেন এবং তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করেন। এসব কর্মকাণ্ড তারা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভও প্রচার করছিলেন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন।

বাঁধন আরও জানান, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কর্মীদের অনেকে হয়তো জানেন না, তিনি বাংলাদেশ থেকে যে সিনেমাটি নিয়ে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এসেছেন, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন। তার সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন এবং জুলাইয়ের আন্দোলনের পরও কাজ করেছেন বলে জানান অভিনেত্রী।

হামলাকারীদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, ‘আপনারা যে কাজটা আজকে করেছেন, আমি বলব যে আপনাদের এই ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত ছিল, যেটা আপনারা করতে পারেননি। আপনারা ভেবেছেন, এভাবে করেই হয়তো পরবর্তীকালে নিজেদের জায়গাটা ফের সুগঠিত করতে পারবেন। সেটা আমার মনে হচ্ছে না।’

ভিডিও বার্তায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথাও উল্লেখ করেন বাঁধন। ভিডিওতে তিনি জানান, সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন বলে তিনি জেনেছেন। তার কাছে ঘটনাটি পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন অভিনেত্রী।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাদিক কায়েমকে নিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিস্ফোরক মন্তব্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার মোহে ও পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করার জন্য ইসলামপন্থীরাও আজ নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে নীতিহীন প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ফেসবুক পোস্টে রফিকুল লেখেন, ভাবছিলাম ডাকসু ও সাদিক কায়েম বিষয়ে আর কিছু লিখব না। কারণ আমরা যতই বলি, এরা দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করবে না। কারণটাও স্পষ্ট- এরা এখন প্ল্যানিং করে আমেরিকা ও তাদের পশ্চিমা আব্বুদের খুশি করছে। তিনি লেখেন, এখন দেখছি, এমন ঘৃণ্য বিষয়ের পরও একদল ছাপড়ি ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাগিয়ে দিয়েছে সাদিক কায়িমের বক্তব্যের পক্ষে বয়ান তৈরি করার জন্য। এরা বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি মাদ্রাসা? এখানে কি সব মেয়েদের পর্দা করতে হবে? এই মোল্লারা কি বুঝে? আরও যত থার্ডক্লাস মার্কা ফালতু যুক্তি! অথচ যারা বিরোধিতা করছে, তারা কেউ তো বলেনি মেয়েরা কেন খেলল, মেয়েরা কেন পর্দা করে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা হয়, মেয়েরাও খেলে-এটা সবাই জানে। এটা এখনই বললেই বন্ধ হয়ে যাবে না। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাদিক কায়িমের মতো ইসলামি নামধারী সংগঠনের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে, সেই খেলা প্রথম আয়োজন করেছে মর্মে, স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরা মেয়েদের সামনে তাদের খুশি করতে একেবারে গদগদ হয়ে বক্তব্য দেওয়া এবং আয়োজনে ভূমিকা রাখা আরেকজনের প্রশংসায় হাততালি দিতে বলা-এটা কেমন বিষয়। আল্লাহর সুস্পষ্ট হারামকে প্রকাশ্যে আয়োজন, স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, তারপর উৎসাহ দেওয়া-সেটার আয়োজকের জন্য হাততালি! এই লোকের বিধান কী? দেশের অথবা তাদের পছন্দমতো বাইরের শীর্ষস্থানীয় ফতোয়া বোর্ডে এটার ফতোয়া চাওয়া হলে কী ফতোয়া আসবে-ভাবতেই গা শিউরে ওঠে! মাদানী লেখেন, আসলে আমার মনে হয়, এগুলো তারাও বুঝে। কিন্তু এখন মৌসুম হলো-আমেরিকা ও পশ্চিমকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য খুশি করার। যেটা আওয়ামী লীগ-বিএনপিও করে! যেমন শামা ওবায়েদ জাতিসংঘে গিয়ে বলছে, আমরা পিংক বাসে মহিলা চালক দিয়েছি! মানে এটার হাজিরাও সেখানে দিতে হবে! আমার ধারণা, সাদিক কায়িম একা না-এরা সবাই আগামী ১-২ বছর পশ্চিমের কাছে নিজেদের মডারেট ও প্রগতিশীল বোঝাতে, ক্ষমতা পাওয়ার নেশায় আরও অনেক নিচে নামবে। ক্ষমা তো চাইবেই না! তিনি আরও লেখেন, বাকি একটা পরামর্শ-ক্ষমতার জন্য প্রকাশ্যে নিচে নামলেও, গোপনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েন। তবে সেটাও আল্লাহ গ্রহণ করবেন কি না, উনার বিষয়। কারণ তিনি তো মনের খবর জানেন! আরটিভি/এসকে
সাদিক কায়েমকে নিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিস্ফোরক মন্তব্য
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর
‘মাদরাসা শিক্ষকের অপরাধে চুপ থাকেন কেন?’ যে জবাব দিলেন আহমাদুল্লাহ
মাদরাসায় শিশু নির্যাতনের বেশ কয়েকটি দুঃখজনক ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শায়খ আহমাদুল্লাহ কিছু বক্তব্যে এ ধরনের অপরাধের নিন্দা করেছেন, মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৬ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাও পেশ করেছেন। এরপরও অনেকে মনে করেন তিনিসহ আলেমরা এ ইস্যুতে যথেষ্ট সরব নন।  অপরাধীরা মাদরাসা শিক্ষক দেখেই তারা চুপ করে আছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে একজন শ্রোতা সরাসরি এ রকম অভিযোগসহ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যে, ‘মাদরাসা শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর প্রতি পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় আপনাদেরকে কথা বলতে শোনা যায় না কেন?’ উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এই ধরনের অভিযোগ আনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ভাই। আমাদের সমাজের বড় একটি মসিবত হলো, আমরা কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে অপরাধীকে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে বা নানা গ্রুপে ফেলে তার অপরাধের মাত্রাটাকে অনেক সময় হালকা করে ফেলি; কখনো জ্ঞাতসারে, আবার কখনো অজ্ঞাতসারে। আমরা এর আগেও বহুবার স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছি যে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনে অপরাধের জন্য যেই নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান দিয়েছেন, তা দেশের আর কারও প্রতি সরকার কার্যকর করতে পারুক বা না পারুক, যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহর বিধান দ্বারা শাসিত হতে চায়—যেমন মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, আলেম-ওলামা ও দ্বীনদার মানুষ—তাদের প্রতি তো অন্তত তা কার্যকর করা যায়। তাদেরকে তো এই বিধান দিয়ে শাসন করা সম্ভব, নাকি? আপনারা তাদের প্রতি সেই কোরআনিক শাস্তিটা কার্যকর করছেন না কেন? তাদের ওপর দৃষ্টান্তমূলক দু-চারটা শাস্তি নিশ্চিত করে কার্যকর করে দেখুন, দেখবেন অপরাধের সাথে যুক্ত সবাই এক নিমেষে সোজা হয়ে গেছে। কিন্তু কাজের বেলায় তো আপনারা সেই সঠিক পদক্ষেপটা গ্রহণ করেন না।   আমাদের বিচারব্যবস্থায় বিদ্যমান স্থবিরতা, চরম দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া অপরাধীর তথাকথিত অধিকার রক্ষার যে কালচার সেগুলো একটা বড় সমস্যা। অবশ্য ইসলামও স্বীকার করে যে, অপরাধীর মৌলিক অধিকার রক্ষা করা জরুরি। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই অভিযুক্তকে চূড়ান্ত অপরাধীর মতো ট্রিট করাটা এক ধরনের জুলুম। কিন্তু অপরাধীর প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতি দেখানো এবং তথাকথিত অধিকারের দোহাই দিয়ে তাকে ছাড় দিয়ে মাথায় তোলা কিংবা একের পর এক অপরাধের রাস্তা খুলে দেওয়া এগুলো তো সমাজ থেকে অপরাধ বন্ধের সঠিক পথ হতে পারে না। এজন্য অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে অপরাধী কি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, নাকি স্কুলের শিক্ষার্থী, সে কি মাদ্রাসার শিক্ষক নাকি স্কুলের শিক্ষক এসব পরিচয় বিবেচনার বিন্দুমাত্র দরকার নেই। আমরা তো দেশের নামীদামী স্কুল ও কলেজের বহু শিক্ষকের যৌন কেলেঙ্কারির খবর শুনেছি। কিন্তু কই, কোনোটার ক্ষেত্রে আমরা দৃষ্টান্তমূলক কোনো কঠোর শাস্তি কার্যকর হতে দেখেছি? বড়জোর তদন্তের নামে তাদেরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কিছুদিন তারা একটু কোণঠাসা হয়ে মুখ লুকিয়ে থেকেছে, তারপর আবার সুবিধা বুঝে অন্য কোথাও ঠিকই ব্যবস্থা করে ফেলেছে।  অপরাধী যে-ই হোক না কেন, সে যদি মাদরাসার হুজুর বা দ্বীনি ব্যক্তিত্ব হয়, প্রয়োজনে তার শাস্তি আরও বাড়িয়ে দিন এবং আরও কঠিন রূপ দিন। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত কঠোর শাস্তির যে বিধান রয়েছে, তা অন্তত তাদের ওপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর করার আইনি ব্যবস্থা করুন। অথবা দেশের প্রচলিত আইনেই যেভাবে হোক তদন্ত সাপেক্ষে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন, যদি তার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে দ্রুত বিচারিক উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এই প্রক্রিয়ার ব্যাপারে বা দোষীর শাস্তির ব্যাপারে আপনাদেরকে তো আলেমদের কেউ কখনো বাধা দেয় নাই।  কোনো মাদরাসা শিক্ষকের অপকর্ম কিংবা কোনো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর কোনো কেলেঙ্কারী প্রকাশ পাওয়ার পর, যদি সিসিটিভি ফুটেজ বা অনুসন্ধানে তা সত্যি প্রমাণিত হয় আজকাল তো আসলে ঘুরিয়ে-পেচিয়ে বানিয়ে বানিয়ে অপরাধ লুকানোর সুযোগ খুবই কম। এটি প্রযুক্তির যুগ, সিসি ক্যামেরার যুগ, এআই ক্যামেরার যুগ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব দ্রুততার সাথেই সমস্ত কর্মকাণ্ড মনিটর করা যায়, গভীর তদন্ত করা যায় এবং ঘটনার পেছনের আসল সত্য বের করে আনা যায়। তো কোনো মাদ্রাসা শিক্ষকের অপরাধ দিবালোকের মতো পরিষ্কার হওয়ার পর তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হয়েছে আর অমনি সমস্ত হুজুরেরা রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ জানিয়েছে যে, না, আমাদের এই হুজুর যত অন্যায়ই করুক না কেন তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না, বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনা কি কখনো ঘটেছে? আর ভবিষ্যতে কখনো ঘটবে বলে মনে হওয়াটাও কি সম্পূর্ণ অসম্ভব নয়?  অতএব আমাদের মূল প্রয়োজন হলো নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করা। সে কোন পরিচয়ের বা কোন পেশার লোক এই বিভাজনটা তৈরি করা আসলে আমাদের সমাজে অপরাধীদেরকে বেঁচে যাওয়ার সুযোগ পাইয়ে দেওয়া কিংবা বাঁচানোর এক অনভিপ্রেত অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়; যা হয়তো অনেক সময় আমাদের অজ্ঞাতসারেই ঘটে যাচ্ছে। এজন্য শিশুর ওপর কিংবা নারীর প্রতি পাশবিক নির্যাতন কে করেছে বা অপরাধীর পরনে কী পোশাক ছিল তা দেখার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই। সোজা হিসাব, অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি কার্যকর করুন। একজন মাদরাসা শিক্ষক যদি অপরাধে ধরা পড়ে, তবে দিনশেষে সে-ও তো রক্তমাংসের মানুষ, সে তো আর আসমানের ফেরেশতা নয়! তার ভেতরেও নফস বা প্রবৃত্তি আছে, শয়তানের প্ররোচনা আছে। কেবল ধর্মীয় লেবাস গায়ে চাপালেই তো আর দুনিয়ার সব মানুষ রাতারাতি ভালো মানুষ হয়ে যায় না। অতএব অপরাধীর ওপর আইন অনুযায়ী শাস্তিটা প্রয়োগ করুন। আর আপনারা যে আমাদের মুখে শাস্তির দাবি শুনতে চান, এদেশে কত শত লোমহর্ষক ঘটনার পর দেশের সর্বস্তরের মানুষ কত কঠোর শাস্তির তীব্র দাবি তুলেছে, শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কয়টা ঘটনার বিচার বা শাস্তি সঠিকভাবে কার্যকর হয়েছে? সুতরাং মূল যে বিচারিক ব্যবস্থার জায়গায় আমাদের সঠিক মনোযোগ দেওয়া দরকার, সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে আমরা কেবল অহেতুক ব্লেম গেম করি এবং অনর্থক পরস্পরকে দোষারোপ করতে থাকি যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যদি কোনো মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার নৈতিক বা সামাজিক অপরাধের প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে পাওয়া যায়, তবে তাকে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক ও যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি করা হোক—আমরা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মতো এই প্রত্যাশা করি এবং জোর দাবি জানাই। বিশেষ করে, দ্বীনি ও ইসলামিক লেবাস ধারণ করে কেউ যদি ইসলাম, সাধারণ মুসলিম এবং আলেম সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, তবে তার ক্ষেত্রে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা আমাদের অন্যান্যদের চেয়ে আরও অনেক বেশি এবং এই শাস্তির দাবি আমরাই সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠে করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে একটি সুন্দর, সুস্থ, নিরাপদ ও শান্তিময় বাসযোগ্য আবাসভূমি লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন। আরটিভি/এসআর
‘মাদরাসা শিক্ষকের অপরাধে চুপ থাকেন কেন?’ যে জবাব দিলেন আহমাদুল্লাহ
চুরির অভিযোগে আটক ক্ষুধার্ত বাবার মুখে রুটি তুলে দিচ্ছে মেয়ে
চুরির অভিযোগে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বাবাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তার ছোট্ট রাজকন্যা। সারারাত না খেয়ে থাকা বাবার মুখে নিজের হাতে রুটি ও চা তুলে দেয় সে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবা-মেয়ের এই দৃশ্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে বামরাইল বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে অনিক সরদার নামে এক যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের মেয়ে। সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা নিয়ে আসে সে। এরপর খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবার মুখে নিজের হাতে খাবার তুলে দেয় ছোট্ট মেয়েটি। বাবার প্রতি মেয়ের এই ভালোবাসার দৃশ্যটি স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই বলছেন অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক, সন্তানের কাছে বাবা সবসময়ই বাবা। আরটিভি/এসআর
চুরির অভিযোগে আটক ক্ষুধার্ত বাবার মুখে রুটি তুলে দিচ্ছে মেয়ে
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের ফেসবুকে যে বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের ফেসবুকে যে বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
আরও পড়ুন
৪ কিলোমিটার উচ্চতায় অগ্নুৎপাতের ছাইয়ের কুণ্ডলী, ইতালিতে রেড অ্যালার্ট
চেয়ারের চেয়েও গাড়ি সরু, ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব শোবার ঘরে
বিশ্বকাপের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে যা বললেন আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ, তদন্ত প্রতিবেদনের ফল