ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

আমারে একটা বড় শয়তানে ধরেছে: তাশরীফের বাবা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি আলোচক ও সংগীতশিল্পী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে কথা বলে অনুতপ্ত হয়েছেন তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। নিজের রাগের বশে এবং কিছু মানুষের প্ররোচনায় পড়ে ছেলের বিরুদ্ধে কথা বলার বিষয়টি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ছেলের ভবিষ্যৎ সাফল্য ও উন্নতি কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ছেলের বিরুদ্ধে আর কোনো কথা বলবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে বাবাকে পাশে নিয়ে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন তাশরীফ। সেখানে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতাপ প্রকাশ করতে দেখা যায় তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহকে। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমারে একটা বড় শয়তানে ধরেছে।’

মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘আমি কেন ভিডিওতে গেলাম? আসলে তো আমারে ধরছে একটা বিরাট বড় শয়তানে। দেশবাসীর কাছেও আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার জীবনে যে ভুল করছি ভিডিওতে আইসা। আর আমি এই ভুল আর বাকি জীবনে যেন আমার না হয়। আমি করবো না, করতে চাই না। বেশি রাগের কারণে আজকে আমার অধঃপতন।’

তিনি বলেন, পরিবারে রাগ-গোস্বা হতেই পারে। কিন্তু তার অতিরিক্ত রাগের কারণেই পরিস্থিতি এত দূর গড়িয়েছে। ভিডিওতে না এলে ঘটনা এত দূর গড়াত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিছু মানুষ তাকে প্রলোভন দেখিয়েছেন উল্লেখ করে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি তাশরীফের বাবা।

হেদায়েতুল্লাহ বলেন, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরতে পারেননি। আল্লাহর নির্দেশ মেনে চললে এবং তাকে দেওয়া ইলম অনুযায়ী কাজ করলে জীবনে আরও উন্নতি হতো বলে মনে করেন তিনি। কিছু মানুষের প্রলোভনে পড়ে ভিডিওতে এসে ‘মহাঅন্যায়’ করেছেন বলেও স্বীকার করেন।

ছেলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আল্লাহ তাকে এমন এক সন্তান দিয়েছেন, যার চেহারা, কণ্ঠ, কথা বলা ও আচার-আচরণে বিশেষ নেয়ামত রয়েছে। কিন্তু তিনি ছেলের মূল্য বুঝতে পারেননি। এজন্য নিজের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

তাশরীফের বাবা জানান, তার স্ত্রী ছেলের বিষয়ে তাকে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী তাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ছেলে আজ পাশে না থাকলেও পাঁচ বছর পর হলেও বিপদের সময় বাবার পাশে দাঁড়াবে। এ কথা শুনে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন তিনি।

হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘তার এই কথা শুনে আমার টনক নড়ে গেছে। যে কিনা তার উদরের সন্তান না, তাকে নিয়ে সে কত ভাবছে। অথচ আমার ঔরসে জন্ম নেওয়া সন্তান সম্পর্কে আমি কত কী বলে ফেলেছি! তাহলে আমি কোথায়, আর সে কোথায়!’

নিজের ভুল উপলব্ধি করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাই ভাবলাম, টাকা বড় কথা না। আমি দোয়া করি, আমার ছেলে যেন আরও বড় হয়।’

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাশরীফের বাবা বলেন, আল্লাহ তাকে নেক সন্তান দান করা সত্ত্বেও শয়তানের চক্করে পড়ে তিনি ভুল করেছেন। ভবিষ্যতে যেন আর কখনো সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কথা না বলেন, সে জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিক চান তিনি।

একই ভিডিওতে তাশরীফ বলেন, তাদের পারিবারিক রাগ-অভিমান ও মনোমালিন্য নিয়ে অনেকে দেশে বড় একটি ইস্যু তৈরি করেছেন। তবে তারা এসব বিষয় পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চান। তার বাবা স্বেচ্ছায় তার কাছে এসেছেন এবং তিনিও বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

তাশরীফ বলেন, ‘পরিবারে কখনো রাগ-অভিমান, কখনো আদর-ভালোবাসা, এসব হয়েই থাকে। আমরা সেগুলো পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চাই সবসময়। আমার বাবা আজকে স্বেচ্ছায় এসেছেন আমার কাছে। আমি আমার বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, আশা করি তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমরা পরস্পর মিলে থাকতে চাই। আশা করি, এসব নিয়ে আর কেউ প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন না।’

তিনি আরও বলেন, বাবার প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। বাবারও তার প্রতি কোনো অভিযোগ থাকবে না বলে আশা করেন তিনি। অতীতের ঘটনা পেছনে ফেলে সামনের জীবন সুন্দর করতে চান তারা। দেশের মানুষের সামনে নিজেদের সুন্দর সম্পর্ক তুলে ধরতে চান বলেও জানান তাশরীফ।তাশরীফ বলেন, আল্লাহর ইবাদতের পর পিতামাতার খেদমত করা সন্তানের দায়িত্ব। আর্থিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে যেভাবেই সম্ভব, তিনি বাবা-মায়ের সেবা করতে চান। তবে তাদের ঘরের আশপাশে থাকা কিছু শত্রু একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে দিতে চায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গত কোরবানির ঈদের সময় পারিবারিক বিরোধ ও মনোমালিন্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তাশরীফ বলেন, এখন থেকে মাস বা নির্দিষ্ট অঙ্কের হিসাব করে নয়, যখন যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন হবে, তিনি তা দিতে চান। প্রয়োজন ১০ হাজার টাকা হোক কিংবা ১০ লাখ টাকা - বাবাকে সহযোগিতা করতে চান তিনি।তাশরীফ বলেন, বাবার জন্য নির্দিষ্ট মাস বা টাকার পরিমাণ ঠিক করে দেওয়া নয়; প্রকৃত সন্তানের আচরণ এমন হওয়া উচিত, প্রয়োজনে বাবার জন্য জীবনও দিতে হতে পারে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাবার সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে যা বললেন তাশরীফ
ইসলামি আলোচক ও সংগীতশিল্পী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ জানিয়েছেন, বাবার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে একসঙ্গে সুন্দরভাবে থাকতে চান তারা। বাবার স্বেচ্ছায় তার কাছে আসা এবং নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার কথা জানিয়ে অতীতের রাগ-অভিমান ভুলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক দীর্ঘ ভিডিওবার্তায় এসব কথা বলেন তাশরীফ। ভিডিওবার্তায় তাশরীফ বলেন, ‘আমার বাবা আজকে স্বেচ্ছায় এসেছেন আমার কাছে। আমি আমার বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, আশা করি তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমরা পরস্পর মিলে থাকতে চাই। আশা করি, এসব নিয়ে আর কেউ প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন না।’ তিনি বলেন, পরিবারে রাগ-অভিমান ও ভালোবাসা থাকতেই পারে। এসব বিষয় পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চান তারা। বাবার প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান তাশরীফ। একই সঙ্গে বাবারও তার প্রতি কোনো অভিযোগ থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাশরীফ বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো পেছনে ফেলে সামনের জীবন সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে চান তারা। দেশের মানুষের সামনে নিজেদের সুন্দর সম্পর্ক তুলে ধরার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। পিতা-মাতার সেবা করাকে সন্তানের দায়িত্ব উল্লেখ করে তাশরীফ বলেন, আল্লাহর ইবাদতের পর বাবা-মায়ের খেদমত করা সন্তানের অন্যতম দায়িত্ব। আর্থিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে যেভাবেই সম্ভব, তিনি বাবা-মায়ের সেবা করতে চান। তবে তাদের ঘরের আশপাশে থাকা কিছু শত্রু তাদের একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে দিতে চায় না বলেও অভিযোগ করেন এই সংগীতশিল্পী। গত কোরবানির ঈদের সময় পারিবারিক বিরোধ ও মনোমালিন্যের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে তাশরীফ জানান, এখন থেকে মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের হিসাব করে নয়, বরং যখন যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে, বাবাকে তা দিতে চান তিনি। তাশরীফ বলেন, বাবার প্রয়োজন ১০ হাজার টাকা হোক কিংবা ১০ লাখ টাকা সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে চান তিনি। তার মতে, বাবার জন্য নির্দিষ্ট মাস বা টাকার পরিমাণ বেঁধে দেওয়া উচিত নয়। সন্তানের দায়িত্ববোধ তুলে ধরে তাশরীফ আরও বলেন, প্রকৃত সন্তানের আচরণ এমন হওয়া উচিত, প্রয়োজনে বাবার জন্য জীবনও দিতে হতে পারে। সব মিলিয়ে বাবার সঙ্গে বিরোধ ভুলে পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। আরটিভি/এসকে
বাবার সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে যা বললেন তাশরীফ
আপত্তিকর ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে যা বললেন এমপি আজিজ
ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে ছেলের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার নাটোর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভুয়া বলে দাবি করছেন এমপি।
আপত্তিকর ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে যা বললেন এমপি আজিজ
‘আপাতত থেমে গেলাম, বারবার পোস্ট ও আলোচনা সময় এবং সম্মান—দুটোই নষ্ট করে’
মা-বাবার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সাম্প্রতিক পারিবারিক নানা বিতর্ক নিয়ে আপাতত প্রকাশ্যে আর কোনো মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তরুণ বক্তা হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ।
‘আপাতত থেমে গেলাম, বারবার পোস্ট ও আলোচনা সময় এবং সম্মান—দুটোই নষ্ট করে’
আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান জামায়াত-এনসিপির সহ্য হচ্ছে না: আমজনতার তারেক
নিজের রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান।
আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান জামায়াত-এনসিপির সহ্য হচ্ছে না: আমজনতার তারেক
আশুলিয়ায় প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে নাচের দৃশ্যের পাশাপাশি পাশের একটি টেবিলে মদের বোতলসদৃশ বস্তু দেখা যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে উপজেলার ১১০ নম্বর শ্রীখণ্ডিয়া সালেহা ইদ্রিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানোয়ার মাস্টারকে এক ব্যক্তির সঙ্গে আনন্দচিত্তে নাচতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটিতে থাকা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক সানোয়ার মাস্টারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষকের এক নিকটাত্মীয় দাবি করেছেন, ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়, বরং প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে এটি ধারণ করা হয়েছিল। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এখন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে, তা তাদের জানা নেই। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদ্যালয়টি তার দাপ্তরিক আওতাধীন নয়। ওই স্কুলটির দায়িত্বে রয়েছেন আশুলিয়ার শিক্ষা কর্মকর্তা ঝর্ণা রানী পাল। তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা, দৃশ্য ধারণের সঠিক সময় ও স্থান কিংবা টেবিলে থাকা বোতলের তরল পদার্থের প্রকৃতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসআর
আশুলিয়ায় প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল
আরও পড়ুন
বাবার সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে যা বললেন তাশরীফ
মাকে ভিডিওতে এনে বাবার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তাশরীফ