ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

অভিজাত এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসার লাইসেন্সেই চলছে অবৈধ স্পা-পার্লার

কাজী ফয়সাল, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৫ পিএম
ফাইল ছবি

রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে গড়ে উঠা গুটিকয়েক স্পা ও পার্লার সরকারের নিয়মনীতি মেনে চললেও তার উল্টো চিত্রই দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের সেক্সুয়াল ইঙ্গিতমূলক চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্লায়েন্ট ডেকে যুবক দিয়ে যুবতীদের এবং যুবতী দিয়ে যুবকদের স্পা করানো হয়। ওই সময়ের প্রায় উলঙ্গ ছবি বা ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা দিয়ে পরবর্তীতে ব্লাকমেইলিং করার ঘটনাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুন্দরি বাঙালি তরুণী ছাড়াও থাই, নেপালি বা অন্য কোনেও বিদেশি তরুণীদেরও ব্যবহার করার তথ্য রয়েছে। এছাড়াও ওইসব স্পটে গ্রুপবেঁধে চলে অবৈধ কর্মকাণ্ড, ঠিক যেন মধুচক্রের আসর।

ঢাকা মহানগরীতে প্রকাশ্যে ঠিক কতো সংখ্যক স্পা-পার্লার রয়েছে তার নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা নেই কারোই! কেবল তাই নয়, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, উত্তরাসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাটে সীমিত আকারে স্পা-পার্লারের নামে চলছে জমজমাট দেহ ব্যবসা। ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে ‘ক্ষুদ্র ব্যবসার’ লাইসেন্স নিয়ে এসব অভিজাত এলাকায় কেবল দেহব্যবসা নয়, মাদকের রমরমা ব্যবসারও তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

গত মাসের (সেপ্টেম্বর) ২০ তারিখে গুলশান-২ নম্বর এলাকায় ‘আপেল থাই স্পা’ ও ‘ছোঁয়া বিউটি পার্লারের’ আড়ালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতি বয়সের যুবতী নিয়ে দেহ ব্যবসা করানোর তথ্য পাওয়ায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেই অভিযান শেষে পুলিশ জানায়, অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ও পতিতাবৃত্তির জন্য ১২ জন পুরুষ ও ১৬ নারীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিলে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পতিতাবৃত্তির কথা স্বীকারও করে। পরে তাদের ২৮ জনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করলে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. শাহ আবিদ হোসেন আরটিভি নিউজকে বলেন, আইন বহির্ভূত এবং অবৈধ কোনও কর্মকাণ্ডকে আমরা প্রশ্রয় দেই না। অবৈধ স্পা-পার্লারের বিরুদ্ধে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এই নজরদারির মধ্যে এবং কোনও ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেলে সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এই ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাকুক তাদের কোনও প্রকার ছাড় দেয়া হয় না।

একই বিষয়ে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান আরটিভি নিউজকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরের অভিযানের গ্রেপ্তারকৃত ২৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের মানবপাচার প্রতিরোধ দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা যখনই কোনও অবৈধ স্পা পার্লারের তথ্য পাই তখনই দেরি না করে সেখানে অভিযান চালাই। কিন্তু যারা লাইসেন্স নিয়ে নীতি নৈতিকতা ঠিক রেখে স্পা-পার্লার চালাচ্ছেন তাদের বিষয়ে আমাদের কোনেও অ্যাকশন নেই। তবে যারা পরস্পর যোগসাজশে সংঘবদ্ধভাবে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পতিতালয় স্থাপন করে, তা চালিয়ে যাচ্ছে, পতিতাবৃত্তির উদ্দেশে আহ্বান করে যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অ্যাকশন অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন সময়ে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানতে পেরেছে, গুলশান ও বনানী এলাকায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক স্পা-পার্লার ও থেরাপি সেন্টার রয়েছে। এছাড়াও ধানমন্ডি, উত্তরাসহ কয়েকটি অভিজাত এলাকায় নতুন করে গজিয়ে উঠেছে আরও বেশ কিছু স্পা-পার্লার। এসবের অধিকাংশের আড়ালে চলছে অবৈধ দেহ ব্যবসা এবং মাদকের রমরমা ব্যবসা। কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যায়, স্থানীয় থানা পুলিশের কোনও কোনও অসাধু সদস্য এবং প্রভাবশালী কয়েকজনের মদদে চলছে এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গুলশানের নাভানা টাওয়ারে অবস্থিত ‘লাইফ স্টাইল স্পা’, ‘রেসিডেন্স সেলুন অ্যান্ড স্পা’ ও ‘ম্যাংগ স্পা’তে দীর্ঘদিন যাবত উঠতি বয়সী তরুণী ও নারীদের দিয়ে অবৈধ দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় অভিযান চালায় পুলিশ। ওই সময়ে এসব পরিচালনার মূল হোতা ৩ জনের নাম জানা যায়, যারা আজ পর্যন্ত অধরাই রয়েছে গেছে। তারা হলেন- সুমন খান কিং, রায়হান ও নুরুল ইসলাম নাহিদ। তথ্য রয়েছে, পলাতক এই ৩ জন এখনো আড়ালে থেকে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তবে তখন ঘটনাস্থল থেকে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে এমন একটি ঘটনা তদন্তে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশ জানতে পারে, ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে একাধিক প্রতারক চক্রের সদস্য। লাইসেন্স নেয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরণের ব্যবসা করছে, সেদিকে নজরদারী করে না সংশ্লিষ্টরা। এমন গা ছাড়া সুযোগটি’ই কাজে লাগিয়ে স্পা, ফিটনেস ও থেরাপি সেন্টার খুলে এর আড়ালে চালানো হয় রমরমা দেহ ও মাদক বাণিজ্য।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় স্পা’র আড়ালে দেহ ব্যবসা, অভিনেতাসহ গ্রেপ্তার ১৬
গুলশানে স্পা-পার্লারের আড়ালে জমজমাট দেহ ব্যবসা
নারী নৃত্যশিল্পীদের বিদেশে নিয়ে যৌনকাজে বাধ্য, নজরদারীতে গোটা শিল্পাঙ্গন

২০১৮ সালের ওই দিনে গুলশান ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে, এমন ৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। ওই অভিযানটি চালিয়েছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ। তাদের আটকের পরই ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকার অন্ধকার ব্যবসার গোপন খবর প্রকাশ হয়। ওই সময়ে যাদের আটক করা হয়েছিল তাদের মধ্য থেকে ৮ জনকে ‘পতিতাবৃত্তি’ ও ‘দাসত্বে’ বাধ্য করায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়েছিল।

তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত গুলশানের এ্যাপল থাই স্পা, ছোঁয়া বিউটি পার্লার, লাইফ স্টাইল স্পা, রেসিডেন্স সেলুন অ্যান্ড স্পা ও ম্যাংগ স্পা, ডব্লিউ বিউটি অ্যান্ড স্পা, হোয়াইট বিউটি সেলুন অ্যান্ড স্পা সেন্টার, মহাখালী ডিওএইচএসের ফনিক্স হেলথ কেয়ার, ডায়মন্ড বিউটি অ্যান্ড স্পায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক সম্পৃক্তাকে আটক করে পুলিশ।

গুলশানের একটি স্পায় সার্ভিস নিতে গিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘হোয়াইট বিউটি সেলুন অ্যান্ড স্পা সেন্টারে’ প্রায় খোলামেলা অবস্থায় আমার শরীর ম্যাসেজ করানো হয়। ওই সময়ে আমাকে না জানিয়ে আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়, যা পরে আমি জানতে পারি। সার্ভিস নেয়ার কয়েক দিন পর আমাকে ফোনে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ১০ লাখ টাকা না দিলে ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরে আমি ৫ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করি এবং পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগও করি। যে ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরা, গুলশান ও ধানমন্ডিতে বডি ম্যাসাজ পার্লারের আড়ালে অপরাধীরা মাদক ও সুন্দরি মেয়েদের দিয়ে দেহব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বডি ম্যাসাজ পার্লারে দাগী অপরাধী থেকে শুরু করে শিল্পপতিরাও আসা যাওয়া করে। পার্লারের মালিকরা সব সময় গেস্টদের আড়ালে থেকে এবং নিজেদের আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের আত্মীয় বা কাছের কেউ পরিচয় দিয়ে ওইসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ ঢাকা।
চলতি বছরের ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের খুলশি থানা এলাকার লাক্সারি বিউটি পার্লারে গোপনে দেহ ব্যবসা পরিচালনা ও সেখানে শিশুদের যৌনকাজে বাধ্য করা এবং অসামাজিক কালে লিপ্ত হওয়ার দায়ে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পৃথক ২টি মামলা দায়ের করে পুলিশ। আটক ২ জন হলেন- রহিমা আক্তার ডলি (৪৯) ও ইয়াসমিন আক্তার মুন্নি (৪০)। রহিমা আক্তার ডলি দীর্ঘদিন ধরে লাগজারি বিউটি পার্লার নাম দিয়ে ঘরের সামনের অংশের একটি কক্ষে পার্লার সাজিয়ে ভেতরে এ অসামাজিক কাজ করে আসছিল বলে জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ জোন) পরিত্রান তালুকদার।

এদিকে রাজধানী ঢাকার গুলশানে গোয়েন্দারা অনুসন্ধান করে জানতে পারে, রাজধানীর গুলশান-২ নম্বর এলাকায় হোটেল লেকশোর পাশের বিল্ডিংয়ে গড়ে উঠেছে অ্যারোমা থাই স্পা, সিটি স্পা ও ল্যাসি কেয়ার নামে ৩টি স্পা সেন্টার। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব স্পায় হরদমে চলে অবৈধ মাদক ও দেহব্যবসা। উঠতি বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদেরকে দিয়ে স্পার নামে চালানো হয় মাদক ও দেহব্যবসা।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্পা-পার্লার ব্যবসায়ী বলেন, হাতেগোনা কয়েকটা প্রতিষ্ঠানের কারণে আমরা যারা বৈধভাবে ব্যবসা করছি তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তেমনি যারা সেবা নিতে আসেন, তারাও আস্থার সংকটে ভুগছেন। বাংলাদেশে এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের কোনও নীতিমালা না থাকার ফলে বৈধতার ব্যানারে অবৈধ ব্যবসা ছড়িয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী স্পা বা ম্যাসাজ একজন পেশাদারি থেরাপিস্টরা দিয়ে থাকেন। তিনি নারী বা পুরুষ যে কেউ হতে পারেন। বিদেশে গেলে দেখবেন বেশিরভাগ থেরাপিস্ট মেয়েরাই থাকে। তারা ছেলে মেয়ে সবাইকেই সার্ভিস দেয়। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ পুরুষ বা নারীর সেই মন মানসিকতা গড়ে ওঠেনি যে তারা জেন্ডারগত পার্থক্য মাথায় না নিয়ে থেরাপিস্টের সার্ভিসটা কেবলমাত্র সার্ভিস হিসেবেই নেবেন। তাছাড়া আমাদের ধর্মীয় কিছু বিধি-নিষেধতো রয়েছেই। মূল সমস্যা হলো আমাদের কোও নীতিমালা নেই যেখানে বলা থাকবে, কোনও স্পা বা ম্যাসাজ পার্লার গড়ে তুলতে হলে কী ধরণের নিয়ম মানতে হবে। সম্প্রতি যে অভিযানটি চালানো হয়েছে, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এ ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা জরুরি।

এমকে/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একাই পাল্টে দিলেন গ্রামের অর্থনীতির চাকা
বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্র তৈরি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার কয়েক গ্রামের মানুষ। সময়ের সাথে তাল মেলাতে এসব জিনিসপত্র যখন মুখ থুবড়ে পড়ে ঠিক তখনই তাদের নতুন করে বাঁচতে শেখায় শাহ্ আলম। প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন নিজে। সেই সঙ্গে স্বাবলম্বী করেছেন এলাকাবাসীর মানুষদের। উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্নী, প্রয়াগজানী ও কোপাখীসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুইশ বছরের পুরনো পেশা এই বাঁশ ও বেত শিল্প। এসব গ্রামের মানুষ কুলা, ডালা, পলো ও মাথালসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতেন। কালের পরিক্রমায় এসব পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে চলে যেতে থাকেন। বর্নী গ্রামের শাহ্ আলমের পূর্ব বংশ এই বাঁশ ও বেত শিল্পের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শাহ্ আলম এসএসসি পাশ করার পর দারিদ্র্যতার জন্য আর লেখাপড়া করতে পারেননি। যোগ দেন বাবার পেশায়। চিন্তা করতে থাকেন, এই শিল্পের আধুনিকায়ন করতে না পারলে এ অঞ্চলের শত শত মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। তাই কুটির শিল্পের ডিজাইনার চন্দ্রশেখর সাহার নিকট থেকে নতুন নতুন ডিজাইন ও তৈরির বিভিন্ন কলাকৌশল শিখেন। তার তৈরি তৈজসপত্র যখন রাজধানীর বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে তখন এ পেশায় যুক্ত গ্রামের অন্যদেরও প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেন। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে এলাকার মানুষদের বাঁশের তৈরি আকর্ষণীয় চায়ের কাপ, ট্রে, বাসকেট, টেবিল ল্যাম্প, ফ্লোর ল্যাম্প, হ্যাকিং ল্যাম্প, ফলের ঝুঁড়ি, ফুলদানী, লেডিস ব্যাগ, থালাবাসনসহ রুচি সম্মত নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্য এখন দেশ পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।  বর্নী গ্রামের রহিজ উদ্দিন বলেন, শাহ্ আলমের কাছ থেকে কাজ শিখে ও বাজারজাত প্রক্রিয়া জেনে আমরা এখন সচ্ছল। ২০১২ সালে শাহ্ আলম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের শিলু আবেদ কারুশিল্প পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬ সালে লাভ করেন লোকশিল্প জাদুঘর প্রদত্ত পুরস্কার। এছাড়াও কারুশিল্প বিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী ও কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্য ভ্রমণ করেছেন জাপান, মালয়েশিয়া, ভারত, শ্রীলংকা, ভুটান, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ। শাহ্ আলম বলেন, বাঁশ শিল্পে তৈরি পণ্যগুলোর নকশা ও মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কারিগর তৈরি করে এই শিল্পের রপ্তানীমুখি বাজার বিস্তার করা সম্ভব। জিএ
একাই পাল্টে দিলেন গ্রামের অর্থনীতির চাকা
উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ (ভিডিও)
দেশের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের তথ্য বলছে, সম্প্রতি দেশের বায়ুর মান গড় হার থাকছে দেড়শ থেকে দুইশ, পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ বা অস্বাস্থ্যকর বায়ু। গবেষকদের মতে কলকারখানা ইটের ভাটা ও গাড়ির কালো ধোঁয়াই দূষণের প্রধান কারণ। যা স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি বিপর্যস্ত করে তুলছে জনজীবন।  বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি উপাদান বায়ু। যার বিশুদ্ধতার মান নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে সরকারের ঊর্ধ্ব মহল। মাথা ব্যথা যেন নেই কারোরই। অথচ দিন দিন এই বায়ু হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী। মাপ যন্ত্রের মিটার বলছে ঢাকার বায়ুর মান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বায়ু স্বাভাবিক মাত্রা শূন্য থেকে ৫০। অথচ বছরের অন্যান্য সময় সূচক একশোর মধ্যে থাকলেও শীতকালে তা ছাড়িয়ে যায় দেড়শও থেকে দুইশ পয়েন্ট।      ঢাবির গবেষক আবদুস সালাম বলেন, বর্তমানে যে বায়ু দূষণ বা বায়ুর মানের যে অবস্থা তা কোনও ভাবেই স্বাস্থ্যকর নয়। বায়ু মান সূচকেই ঢাকা শহর দুইশরও বেশি আছে।     বায়ুর মান আপডেটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ওয়েব সাইট আইকিউ এয়ার তথ্য বলছে বিশ্বে সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ এর অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, শীতকালে অন্য দেশের তুলনায় দশ গুণ আর বর্ষার সময় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি।   গবেষকরা বলছেন, নিয়ম না মেনে কলকারখানার পাশাপাশি ইটের ভাটা যানবাহন পরিচালন। সবই বায়ু দূষণের কারণ। বায়ু দূষণ রোধে রয়েছে আইন, রয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশনাও। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউই। আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, সঠিক ভাবে যদি আইনের নির্দেশ পালন করা হয় তাহলে অনেক কমে আসবে বায়ু দূষণ।  তাই দূষণ মুক্ত নির্মল বিশুদ্ধ বায়ুর দেশ গড়তে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ কাজ করবেন এমনটি প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। জিএম/এসএস
উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ (ভিডিও)
২০২০ এর চাঞ্চল্যকর ৮ অভিযান
মহামারি করোনা ভাইরাস গোটা পৃথিবীকে স্থবির করে দিলেও এটিকেই কেন্দ্র করে কেউ কেউ হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর অপরাধী। যে ভাইরাসটি সাধারণ মানুষের আচরণে পরিবর্তণ ঘটালেও কারো মাঝে ঘটিয়েছে উল্টো ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে থেমে থাকেনি গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমও। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর একাধিক অভিযান আর প্রতারণা-জালিয়াতির কয়েকটি ঘটনা বড় আলোচনার জন্ম দেয় বিদায় হতে যাওয়া বছর-২০২০ এ। করোনাকে কেন্দ্র করে লকডাউনের মধ্যে কয়েক মাস চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি খুনের মত অপরাধ কমে আসার খবর এসেছিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে। আগের বছরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাদের বিচারের কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে মহামারির কারণে। তবে এর মধ্যেও প্রকাশ হয়েছে নতুন নতুন চরিত্রের নতুন অপরাধের খবর। দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর আগেই ওয়েস্টিন হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়ে কয়েকজন তরুণীকে দিয়ে ‘যৌন ব্যবসা’ চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় আসেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) শামীমা নূর পাপিয়া। এরপর মহামারির মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও পরীক্ষার নামে জালিয়াতির ঘটনায় রিজেন্ট হাসপাতাল, জেকেজি হেলথ কেয়ার ও সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান, সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে ছেলে ইরফান সেলিমকে গ্রেপ্তার, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা হত্যায় ওসি প্রদীপ এবং একাধিক পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারসহ নানান ঘটনা নিয়ে দেশে তোলপাড় হয়। ১) মেজর সিনহা হত্যার পর কথিত ‘বন্ধুকযুদ্ধ/ক্রসফায়ারে’ ভাটা: প্রতিবছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে কথিত ‘ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা থাকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। চলতি বছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুর পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা হঠাৎ কমে আসার বিষয়টি একাধিক সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়। ওই ঘটনায় সিনহার বোনের দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে র্যাকব। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ ১৫ জনকে সেখানে আসামি করা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ারে’ যেখানে ১৮৪ জনের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে এসেছে, সেখানে অগাস্ট মাসে ঘটেছে মাত্র একটি ঘটনা। সেপ্টেম্বরে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কারও মৃত্যু হয়নি। অক্টোবর আর নভেম্বরে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।  ২) পুত্রকাণ্ডে বেকায়দায় দাপুটে হাজী সেলিম: নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনায় ২০২০ সালে নতুন করে আলোচনায় আসেন পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিম। গত ২৪ অক্টোবর রাতে ধানমণ্ডি এলাকায় সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওয়াসিফ। পরদিন ২৫ অক্টোবর পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবীদাস লেইনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায় র্যা ব। আটক করা হয় ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে। ওই ভবন থেকে দুটি অবৈধ পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করার কথা জানায় র্যা ব। পরে ইরফানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে তাকে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে হাজী সেলিমের দখলে থাকা পুরান ঢাকার ও আশপাশের বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালানো হচ্ছে। একইভাবে দুদকও হাজী সেলিমের অবৈধ সম্পতির খোঁজে নেমেছে। ৩) পাপিয়ার পাপ নামা: নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে ঢাকা ও নরসিংদীতে পাপিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানানো হয়। ওই সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাপিয়া গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালিয়ে যে আয় করতেন, তা দিয়ে হোটেলে বিল দিতেন কোটি টাকার উপরে। গ্রেপ্তারের পর পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে জাল নোটের ১টি এবং অস্ত্র ও মাদক আইনে ২টি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। আর মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে সিআইডি আরো ১টি মামলা দায়ের করে। এরপর দুদকও পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে। ৪ অগাস্ট পাপিয়া ও তার স্বামীর নামে ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে উল্লেখ করে মামলা করে দুদক। এরইমধ্যে অস্ত্র মামলায় পাপিয়া ও সুমনের ২০ বছরের সাজার রায় হয়েছে। ৪) কোভিড-১৯ মেডিকেল সনদ জালিয়াতি: করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই ভুয়া কোভিড-১৯ সনদ দেয়া এবং চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েন রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্তাব্যক্তিরা। বাতিল করা হয় ২টি প্রতিষ্ঠানের করোনাভাইরাস চিকিৎসা ও পরীক্ষার অনুমোদন। লাইসেন্স না থাকার পরও ‘কোভিড ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল হিসেবে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করার কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও মামলা করে দুদক। জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদ এবং জেকেজির চেয়ারম্যান জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক সাবরিনা শারমিন হুসাইন ও তার স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরী। মার্চে করোনাভাইরাসরে প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নেয় জেকেজি। কিন্তু পরে জানা যায়, রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরীক্ষা না করে রোগীদের ভুয়া সনদ দিচ্ছিল তারা। এসব অভিযোগে ২২ জুন জেকেজির দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তর করা হয় আরিফুল ও তার স্ত্রী ডা. সাবরিনাকে। এরপর করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দিয়ে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আরও বেশি। বিনামূল্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল তারা। কিন্তু তারা নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছিল এবং সরকারের কাছে বিল নেওয়ার পর রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নিচ্ছিল। এসব অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে ৬, ৭ ও ৮ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখা বন্ধ করে দেয় র্যাব। সে সময় ৮ জনকে আটক করা হয়। ওই অভিযানের গা-ঢাকা দেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, যিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অনেক সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছিলো। এক পর্যায়ে গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা দেবহাটা সীমান্তবর্তী কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর থেকে পিস্তলসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে একর পর এক আসতে থাকে প্রতারণা অভিযোগ। এর মধ্যেই অবৈধ অস্ত্র রাখার অপরাধে পুলিশের করা এক মামলায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ৫) মাস্ক কেলেঙ্কারি: দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত মার্চে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ৫০ লাখ মাস্ক সরবরাহ করতে জেএমআই হাসপাতাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডকে কার্যাদেশ দিয়েছিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সে সময় এন-৯৫ মাস্কের বাক্সে সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক পাওয়া গেলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসাকর্মীদের ‘মৃত্যুর ঝুঁকিতে’ ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে জেএমআই গ্রুপের এমডি মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার পর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি উচ্চ আদালতে জামিন পান। ৬) সাহাবউদ্দিন মেডিকেলে অভিযান: রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের জালিয়াতি উন্মোচনের পর করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া সনদ দেওয়াসহ নানা অনিয়ম পেয়ে ১৯ জুলাই গুলশানের সাহাবউদ্দিন মেডিকেলে যায় র‌্যাব। সে সময় বলা হয়, অনুমোদন না থাকলেও করোনাভাইরাসের র্যানপিড টেস্ট করছিল সাহাবউদ্দিন মেডিকেল। আবার পরীক্ষা ছাড়াই ‘ভুয়া সনদ’ দিচ্ছিল। করোনাভাইরাস নেগেটিভ রোগীকে পজিটিভ দেখিয়ে ভর্তি করা ছাড়াও ভিন্ন ল্যাব থেকে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা করিয়ে নিজেদের প্যাডে প্রতিবেদন দিচ্ছিল তারা।  লাইসেন্সের মেয়াদ ১ বছর আগে উত্তীর্ণ হলেও তা নবায়ন না করেই কাজ চালিয়ে আসছিল ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযানে হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে ১০ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী ও ওষুধ পাওয়া যায়। ওই অভিযানের পর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবুল হাসনাতকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সল আল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়। ৭) ক্যাসিনোকাণ্ডে দুই ভাই এনু-রুপন গ্রেপ্তার: গত ১৩ জানুয়ারি ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতা গেণ্ডারিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় একটি ১০ তলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ওই বাসার টয়লেটের ওপরে ফাঁকা অংশে লুকিয়েছিলেন। পুরান ঢাকার এ দু’ভাই জাল পাসপোর্টে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ৮) নবাব পরিবারের সন্তান পরিচয়ে প্রতারণা: গত ২৮ অক্টোবর নবাব পরিবারের সন্তান পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে নবাব খাজা আলী হাসান আসকারীকে (৪৮) পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুপু পরিচয় দিতেন তিনি। আরও বলতেন, দুবাইয়ে তার গোল্ডের কারখানা রয়েছে। বাবা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, থাকেন নিউইয়র্কে। কেএফ/এমকে
২০২০ এর চাঞ্চল্যকর ৮ অভিযান
হাতিয়ায় জলবায়ু প্রকল্প: নামেই থ্রি-এফ মডেল পুকুর, বাস্তবে নেই
বনবিভাগের জায়গায় সবুজ বেস্টনির পরিবর্তে তৈরি করা হয়েছে থ্রি-এফ মডেল পুকুর। যেখানে থাকার কথা পাড়ে বিভিন্ন ফল ফলাদির গাছ, পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষের অপরূপ দৃশ্য। কিন্তু বাস্তবে এই দৃশ্যের চিহ্ন কোথাও নেই। বনের পাশে বসবাস করা মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বনের উপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বুড়িরচর ও জাহাজমারা ইউনিয়নে বনবিভাগের জায়গায় একশত পুকুর খনন করা হলেও এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উদাসীনতা ও অনিয়মের কারণে প্রকল্পটি এখন উপকারভোগীদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইউএনডিপির আর্থিক সহযোগিতায় উপকূলীয় বনায়ন ও পুনঃবনায়নে কমিউনিটি ভিত্তিক অভিযোজন (আইসিবিএ-এআর) নামক প্রকল্পটি ২০১৮ সাল থেকে বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রতি হেক্টর ভূমিতে ৫টি পুকুর খনন করা হযেছে। এর মাধ্যমে নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলায় একশত ও ভোলা জেলার তজমুদ্দিন উপজেলায় ৪০টি পুকুর খনন করা হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছিল, জীবিকার বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত বিপদাপন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় বনের ওপর নির্ভরতা কমানো হবে। প্রকল্পের আওতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে পুকুর তৈরি করে সেখানে মাছচাষ ও পুকুরপাড়ে শাক-সবজি চাষ করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। যা জলবায়ুজনিত বিপদাপন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসন করবে। এই প্রকল্পের একটি বিশেষ মডেল হলো ‘বনজ, ফলদ, মৎস্য (থ্রি-এফ) মডেল’। প্রতিটি মডেল বা পুকুরের দৈর্ঘ্যে ২৫২ ফুট এবং প্রস্থে ৪৯ ফুট। পুকুর হবে ৮ ফুট গভীর ও পাড়ের উচ্চতা হবে ৮ ফুট। প্রতিটি পুকুর খননের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৮৯ হাজার টাকা করে। মডেলটি ম্যানগ্রোভ বনের মাঝখানে পরিত্যক্ত বনভূমিতে নির্মাণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে এই নিয়ম মানা হয়নি অনেকাংশে। কিছু কিছু জায়গায় বন কেটে পুকুর খনন করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড়দেইল এলাকার বেড়ির বাইরে বনবিভাগের সাগরিয়া রেঞ্জের চর আলিম বিটের জায়গায় বাগানের মধ্যে প্রথমে ১০টি পরে বাগানের বাইরে দুই ভাগে ৫৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। যা পরে এক একটি পুকুর এক একটি ভূমিহীন পরিবারকে দেওয়া হয় এর সুবিধা ভোগ করার জন্য।  বাগানের বাইরের ৫৫টি থ্রি-এফ মডেল পুকুরের একেবারে পূর্বপাশে অবস্থিত ১৫ নম্বর পুকুরটির। কাগজে কলমে থ্রি-এফ মডেল বলা হলেও বাস্তবে ফল-ফলাদি, মাছ ও গাছের কোনো অস্তিত্ব নেই এই পুকুরে। জোয়ারের পানিতে ভেঙে সমতলের সাথে মিশে গেছে এর তিনটি পাড়, পুকুরে নেই পানি। এই মডেল পুকুরের মালিক বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বড়দেইল গ্রামের আলাউদ্দিন মাঝি (৩৫)। জোয়ারের পানিতে পাড় ভেঙে একই অবস্থা বাগানের বাইরের ৫৫টি পুকুরের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ১৫টি পুকুরের।  এছাড়া অন্য ৪০টি পুকুর খনন করা হয়েছে বাগানের বাইরে বনবিভাগের গেজেটভুক্ত জায়গায়। এই জায়গায় উপকূল রক্ষায় সবুজ বেস্টনি তৈরি করার কথা থাকলেও আরও ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে থ্রি-এফ মডেল পুকুর খনন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে এর বিপরীতচিত্র। এসব পুকুর সুবিধাভোগীদের দেওয়া হলেও সঠিক তদারকি ও সঠিক পরিকল্পনা না থাকার কারণে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। চরআলিম বিটের বাগানের বাইরে অবস্থিত ৫৫ নম্বর থ্রি-এফ মডেল পুকুরের মালিক মহিন উদ্দিন (৩০) জানান, প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী পুকুরের পাড় সমতল থেকে ৮ ফুট উচ্চতা করার কথা। কিন্তু বনবিভাগ মাত্র ৪-৫ ফুট উচ্চতায় পাড় করে দায়সারা কাজ করার ফলে জোয়ারের পানিতে অধিকাংশ পুকুরের এখন বেহাল দশা। অন্যদিকে মহিন উদ্দিন ও অন্যান্য উপকারভোগীরা নিজ শ্রমে পুকুরপাড় তৈরি করে নিলে খরচ দেওয়ার কথা দিলেও বাস্তবে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।      পূর্ব বড়দেইল গ্রামের শাহজাহানের ছেলে দিলদার উদ্দিন (৩০) এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এসব পুকুর খনন করার পর বিভিন্ন দপ্তর থেকে উপকারভোগীদের মাছের পোনা, গাছের চারা ও বীজ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম বছর সবাই আন্তরিক থাকলেও পরে আর খোঁজ খবর নেয়নি।  প্রকল্প অনুযায়ী বনের মধ্যে পরিত্যক্ত জায়গায় এই একশতটি পুকুর খননের কথা থাকলেও হাতিয়ায় অধিকাংশ পুকুর খনন করা হয়েছে বনের মধ্যে। কিছু কিছু খনন করা হয়েছে বন কেটে। এর মধ্যে ফল-ফলাদির জন্য কৃষিবিভাগ, বনায়নের জন্য বনবিভাগ ও মাছ চাষের জন্য মৎস্যবিভাগ বাস্তবায়ন করার কথা। কিন্তু তাতেও ছিল সমন্বয়হীনতা।  হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, বনবিভাগ ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিদের সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন গাছের চারা ও কৃষি উপকরণ কিতরণ করা হয়েছে। এখন কেউ যদি সঠিক ভাবে তা না লাগিয়ে থাকেন আমাদের কিছুই করার নেই। একইভাবে দায়সাড়া উত্তর দেন বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন।  এই প্রকল্পের ইউএনডিপির কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, কৃষি, মৎস্য ও বনবিভাগ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। আমরা শুধু সরকারের এসব বিভাগের মধ্যে সমন্বয়টা করে থাকি। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের বিষয়ে তিনি কিছু বলেতে রাজি হননি। প্রকল্পটি তদারকি করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটি কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটি রয়েছে। এই কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এই প্রকল্প সম্পর্কে আলাপ কালে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনে জানান, থ্রি- এফ মডেল পুকুর এই প্রকল্পটি সম্পর্কে অনেক আলোচনা-সমালোচনা আমি আসার পর থেকে শুনতেছি। আমি একটি মিটিং কল করেছি। মিটিংয়ে এই প্রকল্পের সাথে জড়িত সকলকে উপস্থিত থাকতে বলেছি। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেন। পি  
হাতিয়ায় জলবায়ু প্রকল্প: নামেই থ্রি-এফ মডেল পুকুর, বাস্তবে নেই
‘চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প বাজার গড়ে তুলতে হবে’ (ভিডিও)
চালের আমদানি শুল্ক সাড়ে ৩৭ শতাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এরপরও দাম নাগালে আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ভোক্তারা। ভোক্তা অধিকার সংস্থা ক্যাব মনে করে, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।  আমনের ভরা মৌসুমে যখন চালের দাম কমার কথা, তখন দেশের সব বাজারে বাড়ছে প্রধান খাদ্য পণ্যটির দাম। বন্যার কারণে উৎপাদন কম হওয়ায় মজুদও কমেছে।  সরকারি বাণিজ্যিক সংস্থা টিসিবির হিসেবে বছরের ব্যবধানে ৪৭ শতাংশ বেড়ে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মাঝারি মানের চাল ২৫ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ১৯ শতাংশ বেড়ে মিনিকেট ও নাজিরশাইলের দাম এখন ৬২ থেকে ৬৫ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে চালের অভাব নেই টাকা দিলেই পাওয়া যাচ্ছে। দাম বাড়ার জন্য দায়ী মিল মালিকদের সিন্ডিকেট। এ অবস্থায় দামের লাগাম টানতে সরকার চালের আমদানি শুল্ক সাড়ে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়।    ব্যবসায়ীরা বলেন, অর্ডার করলে একদিন পরে চাল পাওয়া যায়। সরকার যে সিদ্ধান্ত এখন নিয়েছে, এটি আর দুই মাস আগে নেওয়ার দরকার ছিল। তাহলে দাম বাড়তো না। মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে।  কম খরচে আমদানির সুযোগ পেলেও বাজারে ন্যায্য দামে চাল পাওয়া যাবে কিনা, ক্রেতাদের মনে সে সংশয় দূর হচ্ছে না।  ক্রেতারা বলেন, এ সুযোগ যেনো সাধারণ মানুষ পায়। বাংলাদেশে সমস্ত সেক্টরে সিস্টেম আছে সব আটকা-আটকি সিস্টেম।  কিছু ব্যবসায়ীরা এরকম সিস্টেম করে থাকে।   আমদানিতে সাময়িক সঙ্কট দূর হতে পারে। তবে ক্যাব বলছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।   ক্যাব এর সহ-সভাপতি এস নাজের হোসাইন বলেন, টিসিবি ও ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি যদি স্বাভাবিক রাখা যায়, তাহলে কিন্তু বিকল্প বাজার তৈরি হয়। বিকল্প বাজার তৈরি না হলে ব্যবসায়ীদের ওপর যদি সম্পূর্ণ বাজার ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে তারা এভাবে ভোগাবে।  বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, করোনাকালে চালের পাশাপাশি নিত্য পণ্যের ঘাটতি মেটাতে উৎপাদন যেমন বাড়াতে হবে তেমনি কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও জরুরি।  জিএম/এমকে    
‘চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প বাজার গড়ে তুলতে হবে’ (ভিডিও)