
জামালপুরে এক যুগ ধরে শিকলবন্দী হয়ে দিন কাটাচ্ছে মানসিক প্রতিবন্ধী সোহেল মিয়া। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে হতাশায় দিন কাটছে তার পরিবারের। দরিদ্র পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
থমকে আছে সোহেল মিয়ার জীবন। ধুলোবালি মাখা শরীর পায়ে লোহার শিকল। শুধু তাকিয়ে থাকে মায়াবী চোখ দিয়ে। তীব্র শীতেও তার পরনে থাকে পাতলা কাপড়। জামালপুরের মেলান্দহে ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের খাঁয়ের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সোহেলের জীবন চলছে এভাবেই।
সোহেলের পরিবার জানায়, ৭ বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বর হওয়ার পর থেকেই পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন সোহেল। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় দেড় বছর আগে মারা যান সোহেলের বাবা । ছেলের শিকলবন্দী জীবন নিয়ে এখন চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন মা জাহানারা বেগম।
মা বলেন, ১৩ বছর ধরে আমার সন্তানকে বেঁধে রাখছি। অনেক চিকিৎসা করিয়েছি তার পরেও কোনও উন্নতি হয়নি। স্থানীয়রা বলেন, খাবার ঠিক মতো দিতে পারে না। চিকিৎসাও করাতে পারে না।
ঘোষের পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়েদুর রহমান বলেন, গ্রামবাসী চিকিৎসা করিয়েছে কিন্তু কোনও উন্নতি হয় নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি কিছু সহযোগিতা করতো তাহলে ছেলেটার উপকার হতো।
এদিকে সোহেলের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিলেন জেলা সিভিল সার্জনসহ প্রতিবন্ধী সংগঠন।জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস বলেন, আমরা তার চিকিৎসার বিষয়টি দেখবো কিভাবে কি করা যায়।
ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মুনিরা ইসলাম বলেন, আমরা সোহেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছি। সমাজের যারা বৃত্তবান আছেন তাদের প্রতি আমার আহ্বান তারা জেনো এ ধরণের মানুষদের সহযোগিতা করে। মানসিক প্রতিবন্ধী সোহেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবারটি।
জিএম/ এমকে




