ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোক্তা অধিকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অশ্লীলতা-দুর্নীতি ফাঁস

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০২ পিএম
ভোক্তার তিন শীর্ষ কর্মকর্তা (বাঁ থেকে) ডিজি বাবলু কুমার সাহা, পরিচালক শামিম আল মামুন ও উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতানা

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) এর প্রধান কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, অনিয়ম, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা (অতিরিক্ত সচিব), পরিচালক শামিম আল মামুন ও উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে মাঠ পর্যায়েও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

ভোক্তা সাধারণের অধিকার রক্ষায় নয় বছর আগে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’ (ডিএনসিআরপি)। প্রথম থেকে প্রতিষ্ঠানটি বেশ সুনাম কুড়ায়। কিন্তু গত তিন বছরে ধীরে ধীরে ভোক্তার আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। ই-কমার্সের সাম্প্রতিক ভয়াবহ সমস্যা নিয়ে অধিদপ্তরকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। শীর্ষ কর্তাদের অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হলেও পদোন্নতি আর বদলির ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলছেন না।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে অন্তত দশজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কথা হয়। তারা নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে প্রধান কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য আর নৈতিক স্খলনের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

শামিম-আতিয়া সিন্ডিকেট
অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অভিযোগ, বর্তমান মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহার প্রশ্রয়ে পরিচালক শামীম আল মামুন ও উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতানা মিলে বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলেও একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবি করেছেন। শামিমের রুমে তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন এমন একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, অধিদপ্তরের সকল নিয়োগ, টেন্ডার ও লেনদেনের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে এই সিন্ডিকেট। সম্প্রতি হটলাইন টেন্ডার, জনবল নিয়োগের পুরো দায়িত্ব দেওয়া হয় শামিম-আতিয়াকে। এসব কার্যক্রমের যখন কোনো কমিটি হয় তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অধিদপ্তর থেকে আতিয়ার পছন্দমতো শামিম-আতিয়াকে রাখা হয়। সম্প্রতি চলমান একটি নিয়োগ কমিটির পুরো দায়িত্বও তাদের দুজনকেই দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ বাণিজ্য
পরিচালক শামীম আল মামুন ও উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি অধিদপ্তরে ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের বিভিন্ন পদে মোট ১৮ জন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। অধিদপ্তর থেকে শুধু শামীম আল মামুন ও আতিয়া সুলতানাকে দিয়েই এই নিয়োগ কমিটি করেন মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা। সবাই অফিস থেকে চলে যাওয়ার পরও পরীক্ষার খাতা দেখার নামে তারা দুজন একাধিক দিন গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে থাকেন। সার্কুলারে ব্যক্তিগত সহকারীর একটি পদে ২০০ জনের পরীক্ষা নিয়ে মাত্র একজনকে পাস করান তারা। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রার্থীর থেকে মোটা অঙ্কের লেনদেন করেছেন আতিয়া সুলতানা। এজন্য মৌখিক পরীক্ষায় তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না রাখতে কাউকে পাস করানো হয়নি।

এর আগের নিয়োগে ড্রাইভার নিয়োগের ক্ষেত্রে আতিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন ড্রাইভারকে চাকরি দেওয়ার জন্য ধাপে ধাপে মোট ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা নেন তিনি। ওই লেনদেনের স্বীকারোক্তিমূলক অডিও রেকর্ডও রয়েছে।

টেন্ডারে অনিয়ম
আউটসোর্সিং জনবল টেন্ডারের সময় পরিচালক ছিলেন মঞ্জুর মোর্শেদ এবং একই শাখার দায়িত্বে ছিলেন আতিয়া সুলতানা। যার সঙ্গে আতিয়ার অনৈতিক সম্পর্কসহ অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। পূর্বে থেকে জনবল সরবরাহ করা একুশে সিকিউরিটিস নামক প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারে উচ্চমাধ্যমিক পাসের শর্ত দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। পরে আসিফ ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু আসিফ ট্রেডার্সও উচ্চমাধ্যমিক পাস জনবল দেয়নি। তারা মূলত একুশে সিকিউরিটিসের কর্মরত জনবলকে কিনে নিয়ে শুধু কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে।

কাজ পাইয়ে দিয়ে আসিফ ট্রেডার্স হতে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করাসহ আতিয়া সুলতানা মাসিক হারে কমিশন নেন বলে অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তার। আউটসোর্সিং জনবলের টেন্ডার আতিয়া সুলতানা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং এই টেন্ডারের দুর্নীতির দায়ে ফেঁসে যাওয়া থেকে বাঁচতে একুশে সিকিউরিটি থেকে জোরপূর্বক অনাপত্তিপত্র নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, আদালতের নির্দেশে গত বছরের ১৯ মার্চ হটলাইন চালু করে অধিদপ্তর। এর আগে হটলাইন পরিচালনার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডার অনিয়মের মাধ্যমে সিনোসিস আইটি নামের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া এবং মাসিক ভিত্তিতে ওই প্রতিষ্ঠান হতে কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আতিয়া সুলতানার স্বামীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে বলেও একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

অফিসের মধ্যে অনৈতিক কার্যকলাপ
অধিদপ্তরের নারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহার আপত্তিকর আচরণের প্রমাণ রয়েছে। ডিজির সঙ্গে নারী কর্মকর্তাদের শোয়ার প্রস্তাব ও একাধিক নারী কর্মকর্তাকে নারী-পুরুষের বিশেষ অঙ্গের নাম উল্লেখ করে অশ্লীল কথাবার্তা বলার একাধিক অডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

ডিএনসিআরপি’র একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বাবলু কুমার সাহা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডিজি পদে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই নারী কর্মীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ অব্যাহত রেখেছেন।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা একাধিক অডিওতেও তাদের দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে। একটি অডিওতে শোনা যায়, বাবলু কুমার সাহা একজন নারী কর্মকর্তাকে তার বাসায় গিয়ে বিছানায় শোয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন (ওই নারী কর্মকর্তার সুরক্ষার জন্য নাম-পরিচয় গোপন রাখা হলো)।

আরেকটি অডিওতে শোনা যাচ্ছে, বাবলু কুমার সাহা একজন নারী কর্মকর্তাকে বলছেন, এত ঢেকে-ঢুকে লাভ নাই। ওই যে জামা, জামার নিচে ছোট (বুকের দিকে ইঙ্গিত করে) কী আছে তা আমি দেখতে পাচ্ছি। তার নিচে কী আছে তাও আমি জানি। আমার জাঙ্গিয়ার নিচে কী আছে তাও তুমি জানো।

খোঁজে নিয়ে জানা যায়, অধিদপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি অফিসিয়াল কাজে ঢাকার বাইরে গেলে সব সময় সঙ্গে নারী কর্মকর্তাদের যেতে বাধ্য করেন। সবশেষ গত সপ্তাহে কক্সবাজার যান। সেখানে তিনজন নারী কর্মকর্তাকে নিয়ে যান। গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখে তিন দিনের সফরে দিনাজপুর যান। সঙ্গে কোনো পুরুষ কর্মকর্তাকে না নিয়েই শুধুমাত্র তিনজন নারী কর্মকর্তাকে নিয়ে যান।

অন্যদিকে পরিচালক শামীম আল মামুন ও উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে বিশেষ সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আতিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে একই সঙ্গে বর্তমান পরিচালক ছাড়াও সাবেক পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদের অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

আতিয়া সুলতানার ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখ থেকে ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আতিয়া সুলতানার মোবাইল ফোনের এসএমএস লেনদেন ও ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখ থেকে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত কল লিস্ট এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

এসএমএস লেনদেনে সাবেক পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে বহু খোলামেলা ও যৌন উত্তেজনাপূর্ণ এসএমএস রয়েছে। বর্তমান পরিচালক শামীম আল মামুনের সাথেও তার বিশেষ সম্পর্কের এসএমএস লেনদেন রয়েছে। কল লিস্টে মঞ্জুর মোর্শেদ ও শামীম আল মামুনের সঙ্গে গভীর রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথোপথনের তথ্য রয়েছে। মঞ্জুর মোর্শেদের মাধ্যমে আতিয়ার অর্থনৈতিক সুবিধার নেওয়ার স্বীকারোক্তি রয়েছে এসএমএসে।

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের ১০ তারিখে বেলা ৫টা ৪৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে আতিয়ার মোবাইল নম্বর থেকে মঞ্জুর মোর্শেদের মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়। পরপর কয়েকটি এসএমএসে বলা হয়, ‘আমার ভালোবাসা তোমার কাছে বাসি জিনিস হয়ে গেলো! আমি ভীষণ অসহায় ফিল করছি। এভাবে আমাকে তুমি থ্রেট করেছো। ছি মঞ্জুর। মঞ্জুর আমি তোমাকে বলতেই আছি, আমি ভালো নেই। সেখানে তুমি আমার ভালোবাসাকে বিদ্রুপ করছো। আমি কী করেছি, আমার লাইফটাকে।’ প্রাপ্ত রেকর্ডে এমন শত শত এসএমএস লেনদেনের তথ্য রয়েছে। আরেকটি এসএমএসে আতিয়া সুলতানা মঞ্জুর মোর্শেদকে লিখেন-তুমিতো ভাবছ টিয়াকে(আতিয়াকে) আমি সবচেয়ে বড় সাপোর্ট দিচ্ছি। সো টিয়ার আর কোন অভিযোগ থাকার কথা না’।

হঠাৎ ধনী আতিয়া সুলতানা
জানা যায়, ভোক্তা অধিকারে চাকরির শুরুর দিকে আতিয়া সুলতানা সাধারণ জীবনযাপন করতেন। নিয়মিত মোটরসাইকেলে স্ত্রীকে অফিসে দিয়ে যেতেন তার স্বামী। কিন্তু অধিদপ্তরে প্রশাসন ও অর্থ শাখায় দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে হঠাৎ করেই সব কিছু বদলে গেছে। তার স্বামী একটি ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানির মার্কেটিং সেলসম্যান ছিলেন। তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা উদ্যানের পাশে প্রায় ২০০০ স্কয়ার ফিটের ইলেক্ট্রিক পণ্যের শোরুম করেছেন। তার খরচ কয়েক কোটি টাকা। ঢাকা উদ্যানের পাশে ২১০০ স্কয়ার ফিটের বাসা সাজিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার দিয়ে। তার বাসায় গিয়েছেন এমন একাধিক কর্মকর্তার মন্তব্য, ‘আতিয়ার বাসার সাজগোজ অনেক মন্ত্রীর বাসাকেও হারা মানাবে।’ ছয় মাস আগে সম্পূর্ণ নগদ অর্থে একটি ব্যক্তিগত এক্সিও গাড়িও কিনেছেন তিনি।

হঠাৎ অভিযান বন্ধ
অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি পেট্রোলপাম্পে শুধুমাত্র তেলের পরিমাপে কম দিয়ে দৈনিক ৪০ হাজার টাকা ভোক্তাকে ঠকানো হয়। তেল কম দেওয়া পেট্রোলপাম্পের সংখ্যা গড়ে ৬০ শতাংশ। বেশ কিছু দিন এসব পেট্রোলপাম্পে অভিযান চালাচ্ছিল ভোক্তা অধিদপ্তর। অভিযান পরিচালনার ফলে তেলের পরিমাণে কম দেয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গত ৭ নভেম্বর পেট্রোলপাম্পের মালিকদের সংগঠনের নেতারা মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন। ওই দিন থেকেই সারা দেশে পেট্রোলপাম্পে অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেন মহাপরিচালক। ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ৭ নভেম্বর ৪টা ৫০ মিনিটে সহকারি-পরিচালক ফাহমিনা আক্তারের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়, ‘সম্মানিত সহকর্মীবৃন্দ, প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশক্রমে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকল পেট্রোলপাম্পে অভিযান বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ বার্তাটিতে ঢাকা বিভাগীয় ২২ জন উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালককে ট্যাগ করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে অবগতির জন্য ট্যাগ করা হয়।

এ বিষয়ে উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি না হয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। অন্যদিকে পরিচালক শামীম আল মামুন সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ‘যা পারেন করেন’ বলে ধমক দেন।

বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বিষয় কিছুই জানেন না বলে জানান। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পি/পিএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০২১ সালে মারা গেছেন যেসব গুণিজন (ভিডিও)
বছরটি মহামারির, তাই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ। এ বছর দেশ হারিয়েছে অনেক গুণিজন। জাতী হারিয়েছে তার অকৃত্রিম অভিভাবকদের। বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেই করোনায় কাছে হার মেনেছেন। অল্প সময়ে এত বড় শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তথ্যমতে, চলতি বছরের শেষে ২৭ ডিসেম্বর মারা যান আওয়ামী লীগের আলোচিত-সমালোচিত সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী। একইমাসের ২৫ তারিখ করোনা পরবর্তী জটিলতায় প্রাণ হারান একুশে পদকপ্রাপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ।  গত ১৫ নভেম্বর নিউমোনিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুতোর ওপাড়ে চলে যান আগুনপাখির শ্রষ্টা, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ অক্টোবর ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন নাট্যজন ইনামুল হক।  ৪ জুলাই করোনা কেড়ে নেয় ‌‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানের গীতিকার ফজল-এ খোদাকে। একই মাসের ২৩ তারিখ করোনায় মারা যান গণসংগীতশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীর।  ২৫ মে মানুষ হতে চেয়ে করোনা আকাশের তারা হয়ে গেলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার করোনায় মারা যান ১০ এপ্রিল। একই মাসের ১১ তারিখ অকালে থেমে যায় রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী মিতা হকের কণ্ঠ।  সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী করোনায় অনন্ত লোকের পথ ধরেন ১৭ এপ্রিল।  ১৬ মার্চ জগতের মায়া ছেড়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শক্তিশালী অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক এ টি এম শামসুজ্জামান না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ২০ ফেব্রুয়ারি।  এ ছাড়া বছরের শুরুতে ৩ জানুয়ারি করোনা কেড়ে নেয় একুশে পদকজয়ী লেখিকা রাবেয়া খাতুনকে।  এত অল্প সময়ে তৈরি হওয়া এই বিশাল শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আরএ/টিআই
২০২১ সালে মারা গেছেন যেসব গুণিজন (ভিডিও)
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন (ভিডিও)
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেওয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে মাঝপথেই প্রশ্ন উঠেছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি না পেলেও বিএনপি নেতারা সংলাপে না যাওয়ার পক্ষে। আগের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আলোচনায় না বাসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিবি ও বাসদ। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করে সংলাপে যেয়েই সবার প্রস্তাব তুলে ধরা উচিত। কারণ এই আলোচনার ভিত্তিতেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হবে।   আইন না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে গত দুটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। এবারও কমিশন গঠনে নিবন্ধিত দলগুলোর সাথে সংলাপে বসছেন তিনি। ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯টি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সংলাপে অংশ নেয়নি। দাওয়াত পাওয়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি) না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রতন বলেন, কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেটা যেমন দেশবাসী দেখে নাই, আমাদের কাছেও পরিষ্কার হয় নাই। আমাদের দাবিটা কেন গ্রহণযোগ্য হলো না, সে বিষয় নিয়েও কিন্তু কোনও কথা আমরা শুনতে পাইনি। সেই কারণে আমরা এবার বলেছি, একই কথা বলার জন্য আমাদের যাওয়াটা আমরা ঠিক মনে করি না। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদেরকে তথাকথিত পরামর্শের জন্য না ডেকে তিনি যদি সংসদ বরাবর চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দিতেন যে, আগামী এক মাসের মধ্যে তোমরা আইন প্রণয়ন করে আমার কাছে পাঠাও সাক্ষর করার জন্য। তাহলে এক মাসের ভেতরে আইন হয়ে যেত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতারা জানান, তারা এখনও সংলাপের আমন্ত্রণ পাননি। তবে এই আলোচনায় না যাওয়ার পক্ষে বেশিরভাগ নেতা। বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যদি নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট করে বলা যায় যে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের চেয়ে ভালো কিছু হবে না। সেজন্য আমরা বলেছি- আমরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকব না। অর্থাৎ এই আলোচনায় বিএনপি যাবে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, আগের সংলাপের সঙ্গে এবারেরটা মেলানো ঠিক হবে না। কারণ আলোচনার টেবিলে যে কোনও সমস্যারই সমাধান হতে পারে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এখনতো রাষ্ট্রপতি ডেকেছেন আমাদের আগামী যে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে সেই বিষয়ে। এ ব্যাপারে তো এখনও ফয়সালা হয় নাই। সেটা তো আলোচনার মাধ্যমে হবে। তার জন্যই তো ডাকা। এর জন্য আট বছর আগে সুপারিশ কে দিয়েছিল, আমার মনে হয় এটা কোনও যৌক্তিক কথা না।    নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শেষে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন রাষ্ট্রপতি। যে নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  এনএইচ/এসএস
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন (ভিডিও)
কার্গো চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনছে ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কার্গো জাহাজ চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনতে হচ্ছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। দ্রুতই দেশটির সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তথ্যমতে, মালদ্বীপের চাহিদার শতভাগ পণ্যই আমদামি করে চলতে হয়। সে ক্ষেত্রে দেশটিতে বাংলাদেশের সবজি, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাহিদা রয়েছে। পাশিপাশি গার্মেন্ট ও বিভিন্ন শুকনো খাবারেরও চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু মালদ্বীপের সঙ্গে সরাসরি কার্গো জাহাজ না থাকায় খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না দেশটিতে ব্যবসা করা বাংলাদেশিরা।  তাই বাধ্য হয়ে ভারত ও শ্রীলংকার সমুদ্র বন্দর থেকে অধিকাংশ কার্গো জাহাজে করে আনতে হয় পণ্য। এতে কয়েকগুণ বেশি অর্থ গুনতে হয় আমদানিকারকদের। দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এম নাজমুল হাসান জানান, মালদ্বীপ সরকারের পতাকাবাহী জাহাজ মাত্র একটি। তাদের পক্ষে এই জাহাজ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভাব না। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকেই এগিয়ে আসতে হবে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যে খাদ্যদ্রব্য আবদানি করে তা পাশ্ববর্তি দেশের তুলনায় অনেক কম। তাই আমদানি বাড়াতে চাই তাহলে আমাদেরকে জাহাজ চালুর চেষ্টা করতে হবে।  এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কয়েকটি জাহাজ কোম্পানীর সঙ্গে কথা চলছে বলেও জানান তিনি। আরএ/টিআই
কার্গো চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনছে ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
ঢাকা নগর পরিবহন : প্রতিযোগিতায় একই রুটের অন্য বাস (ভিডিও)
বাস রুট রেশনালাইজেশনের ‘ঢাকা নগর পরিবহনের’ নতুন বাধা একই রুটে চলাচলকারী অন্য পরিবহনের বাসগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত একই রুটে যাত্রী পেতে মালঞ্চ ও প্রজাপতি পরিবহনের বাসগুলো আগের মতোই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। পরিবহন বিশেষজ্ঞের মতে, শক্তিশালী আলাদা মনিটরিং প্রতিষ্ঠান গড়ে না তুললে সুফল আসবে না।  রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বেশি যাত্রী পেতে ঢাকা নগর পরিবহনের বাসকে চাপ দিয়ে আগে চলে যায় মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাস।  ফাঁকা নগর পরিবহনের চালক-হেলপাররা জানান, বাসগুলোর আগে যাওয়ার এবং যাত্রীদের যেখানে-সেখানে নামানোর প্রবণতা নানা সমস্যার কারণ।  এমনই একজন বলেন, যাত্রীরা কাউন্টারে না নেমে স্টপেজেই নামতে চান। এখানেই তাদের নামতে হবে। এই সমস্যাটা আমাদের সবচেয়ে বেশি।  অপর একজন বলেন, রজনীগন্ধা সার্ভিস, মালঞ্চ সার্ভিস-এরকম লোকাল কিছু সার্ভিস আমাদের সমস্যা করছে। অভিযুক্ত বাসের কর্মীরা জানান, রুট পারমিট ঠিক করে তাদেরকেও ঢাকা পরিবহনে যুক্ত করলে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে। ঝামেলা ছাড়াই গন্তব্যে যেতে পারায় ঢাকা পরিবহনকে স্বাগত জানিয়েছে যাত্রীদের অনেকে।  এক যাত্রী বলেন, এই সিস্টেমটা আমার কাছে অবশ্যই ভালো মনে হয়। কাউন্টারে কাউন্টারে শুধু থামানো হয়। সবাই টিকিট কেটে ওঠে। বসার কোনো ঝামেলা নেই। অপর এক যাত্রী বলেন, দুই মেয়রকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা আমাদের এমন একটা সার্ভিস দিয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, উদ্যোগ ভালো, তবে টেকসই করতে আলাদা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এখানে আমি সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখি, এটাকে নিবিড়ভাবে মনিটরিং ও পরিচর্যা করার প্রতিষ্ঠান নেই। আরম্ভটা হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু টেকসইয়ের জন্য যথেষ্ট আয়োজন করতে হবে। রাজধানীর ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত নতুন এই ঢাকা নগর পরিবহন শুরু হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর থেকে। যাত্রী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধীরে ধীরে যদি অন্য পরিবহনগুলোকেও এর আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে গণপরিবহন ও রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরবে। এনএইচ/ এসএস
ঢাকা নগর পরিবহন : প্রতিযোগিতায় একই রুটের অন্য বাস (ভিডিও)
বছরজুড়ে সামাজিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অপতৎপরতা (ভিডিও)
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ব্যস্ত নাগরিক জীবনকে যেমনটা দিয়েছে গতি, তেমনি দিয়েছে স্বস্তিও। তবে স্বস্তির বাইরে অস্বস্তির ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা। হোক সেটি বড় বা ছোট কোনও ঘটনা, তাতেই অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে ঘর থেকে শুরু করে দেশ কিংবা দেশের বাইরেও। তৈরি হচ্ছে জাতি-ধর্ম আর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, নষ্ট হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। শেষ হতে যাওয়া চলতি বছরের আলোচিত এমন কিছু ঘটনাই তুলে ধরা হলো।  প্রযুক্তির আশীর্বাদে ব্যস্ত জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়! কর্মজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক মাধ্যমে সবকিছুই যেন দেখে ফেলা যায় এক নিমেষেই। তবে সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিগত যোগাযোগের এই মাধ্যম কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হুমকির কারণও হয়ে উঠছে বেশ। গেল অক্টোবরে শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় মন্দিরে হামলার ঘটনা বছরের শেষ দিকটাতে আলোচনার ঝড় ওঠে দেশ ও দেশের বাইরে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু মানুষ নানা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে মুহূর্তে সেটি ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য স্থানেও। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ধরা পড়ে ঘটনার মূলহোতা। এদিকে, চলতি বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে কিছু মহল। এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে সারাদেশে তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। বিভিন্নভাবে ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় কথিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে চলতি বছরের ৭ মার্চ আটক করে র‌্যাব। এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল থেকে, নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে আটক করে পুলিশ। মাদানির রেশ কাটতে না কাটতেই হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে নানা কাণ্ড। গেল ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের এক হোটেল থেকে নারীসহ আটক করা হয় মামনুনুলকে। পরে সেটি ভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হেফাজত কর্মীরা। ঘটনার প্রায় মাসখানেক পর ৩০ এপ্রিল মামুনুলের বিরুদ্ধে ওই নারী ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এভাবে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন নানা ফায়দা আদায় করে যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ। প্রশাসন এসব বিষয়ে কঠোর থাকার কথা জানালেও সাধারণ মানুষের দাবি স্থায়ী কোনও সমাধানের। এনএইচ/এসএস 
বছরজুড়ে সামাজিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অপতৎপরতা (ভিডিও)
আরও পড়ুন
বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শাস্তি পেলেন ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা
স্বাস্থ্যের ডিজিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
ক্রেতা সেজে ফার্মেসীর অনিয়ম ধরলেন ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা
এবার সরকারের অনুমোদন ছাড়াই দাম বাড়ানো হলো সয়াবিনের (ভিডিও)