
সরকারের নির্দেশনা থাকার পরও নেত্রকোনায় এখনও শুরু হয়নি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ। যদিও গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু এবং আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধ নির্মাণ করার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের।
কিন্তু বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিই (পিআইসি) গঠন করা সম্ভব হয়নি। নেত্রকোনা পাউবো কর্তৃপক্ষের দাবি, হাওরের পানি ধীরগতিতে নামায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে ইতোমধ্যে বোরো ধানের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নেত্রকোনায় মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলার কয়েকটি হাওর ছাড়া বেশির ভাগেই পানি নির্ধারিত সময়েই কমেছে। কিন্তু এখনো বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় কৃষকরা চিন্তায় রয়েছে তাদের বোরো ফসল অকাল বন্যার হুমকিমুক্ত হবে কি না তা নিয়ে। এদিকে জেলা পাউবো জানিয়েছে, এবার নেত্রকোনার হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১৬ কোটির টাকারও বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নেত্রকোনায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৩৪টি হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়। এর মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ হবে ৭৯টি হাওরে। এবার জেলার খালিয়াজুরীতে ১৯ হাজার ৭৮০ হেক্টর, মদনে ১৭ হাজার ১৫৫ হেক্টর ও মোহনগঞ্জে ১৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হবে বলেও জানায় ওই অধিদপ্তর।
স্থানীয় হাওর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, এখানকার অধিকাংশ হাওরের পানি এবার সময়মতোই নিষ্কাশন হয়েছে। কৃষকরাও চাষাবাদ শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। অকালবন্যার পানি আসার আগে তড়িঘড়ি করে বাঁধের কাজ শুরু হলে বছরের একমাত্র ফসল হারাতে হয়।
জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আনিসুর রহমান বলেন, প্রতিবছর ইচ্ছা করেই দেরিতে শুরু করা হয় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ। পানি আসার আগ মুহূর্তে এসব কাজ করে সরকারের টাকা তছরুপ করা হয়। এ জন্য প্রতিবছর আগাম বন্যায় হাওরের একমাত্র ফসল ডুবে যায়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে বাঁধগুলো নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম আর টিভি অনলাইন কে জানান, এখানে গঠিত ৩৬টি পিআইসি অনুমোদিত হলেই বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা যাবে বলেও জানান তিনি।
নেত্রকোনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, কিছু পিআইসি সময়মতো গঠিত না হওয়া ও হাওরের পানি নামতে দেরি হওয়ার কারণে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হতে বিলম্ব হয়েছে। এখন খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।
এজে




