
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৬তম আসরের এলিমিনেটর ম্যাচে লখনৌ সুপার জায়ান্টসকে উড়িয়ে শিরোপার দাবি জিইয়ে রাখলো সাবেক চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এ জয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিয়েছে রোহিত শর্মার দল। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে আগামী শুক্রবার (২৬ মে) ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটানসের মুখোমুখি হবে দলটি।
বুধবার (২৪ মে) চেন্নাইয়ের চেপাকে হারলেই বিদায় আর জিতলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার, এমন কঠিন সমীকরণে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাইয়ের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে রোহিত শর্মার দল। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সব কটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০১ রানেই গুটিয়ে যায় লখনৌ শিবির।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা ভালো শুরু হয়নি মুম্বাইয়ের। দলীয় ৩০ রানেই প্রথম উইকেট হারায় দলটি। নবীন-উল-হকের বলে আয়ুষ বাদোনির হাতে ধরা পড়েন রোহিত। মাত্র ১১ রানেই প্যাভিলিয়নে ফিরেন এ ওপেনার। এরপর ৮ রান ব্যবধানে ব্যক্তিগত ১৫ রানে ফিরেন বাঁ-হাতি ওপেনার ঈশান কিষাণও।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন সূর্যকুমার যাদব ও গ্রিন। এই জুটিতে আসে ৬৬ রান। তবে দলীয় ১০৪ ও ১০৫ রানে মিডল-অর্ডারের এই দুই ব্যাটার ফিরলে আবারও থমকে যায় মুম্বাইয়ের রানের চাকা। ২ চার ও ২ ছক্কায় ব্যক্তিগত ৩৩ রানে সূর্যকুমার ও ছয় বাউন্ডারি ও এক ওভার বাউন্ডারিতে ৪১ রানে সাজঘরের পথ ধরেন গ্রিন।
এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে তিলক ভার্মা ও টিম ডেভিডের ব্যাটে ভর করে এগোতে থাকে মুম্বাইয়ের ইনিংস। তবে ব্যক্তিগত ২৬ রানে তিলক ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। শেষ দিকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নেহাল ওয়াধেরা ১২ বলে ২৩ রানের ক্যামিও ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় রোহিত শর্মার দল।
লখনৌর হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন নাভিন-উল-হক। এ ছাড়া যশ ঠাকুর তিনটি ও মহসিন খান নেন একটি উইকেট নেন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লখনৌর কোনো ব্যাটারই ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। কেবল মার্কাস স্টয়নিসের ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ৪০ রানে এসেছে। বাকিরা কেউই ২০-এর কোটা পেরুতে পারেননি।
লখনৌর ব্যাটিং লাইন-আপে একাই ধস নামান আকাশ। যার শেষটাও হয়েছে, তারই হাত ধরেই। একে একে তুলে নেন প্রেরাক মানকড়, আয়ুষ বাদোনি, নিকোলাস পুরান, রবি বিষ্ণোই ও মহসিন খানের উইকেট। এতে ইনিংসের ২১ বল বাকি থাকতেই অল-আউট হয়ে যায় লখনৌ।
এর আগে, আইপিএল ইতিহাসে এতো কম রান খরচায় ফাইফারের দেখা পেয়েছিলেন অনিল কুম্বলে। ২০০৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরের হয়ে ৫ রানে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন এ লেগ স্পিনার।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আগামী ২৬ মে (শুক্রবার) গুজরাট টাইটানসের মুখোমুখি হবে রোহিতের দল।




