
প্রথম ওয়ানডেতে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। তবে রুদ্ধশ্বাস দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান নারী দলকে সুপার ওভারে হারিয়ে সমতা ফেরে টাইগ্রেসরা। ফলে তিন ম্যাচে সিরিজের শেষ ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে অল্পতেই রুখে দিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১৬৬ রান তুলেছে পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ওপেনার সিধরা আমিন। বাংলাদেশের হয়ে বোলিংয়ে ২৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেছেন স্পিনার নাহিদা আক্তার।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের মেয়েরা। ব্যাটিংয়ে নেমে এদিন শুরুটা ভালোই করেছিল সফরকারীরা। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৫ রান আসে তাদের ব্যাট থেকে। ৬১ বলে ৩১ রান করা সাদাফ শামাসকে এলবিডব্লিউ করে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান নাহিদা আক্তার। দ্বিতীয় উইকেটে মুনীবা আলির সঙ্গে ২৮ রানের জুটি গড়েন ওপেনার সিদরা আমিন। ৩৬ বলে ১৪ রান করা মুনীবা দলীয় ৯৩ রানে স্বর্ণা আক্তারের শিকার হন।
এরপর সিদরা একপ্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখলেও টাইগ্রেস স্পিনারদের তোপে তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন বিসমাহ মারুফ, আলিয়া রিয়াজ, নিদার দার ও নাজিয়া আলভিরা। চারজনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮ রান করেছিলেন নিদা দার। অষ্টম উইকেটে এসে ৯ বলে ১১ রান করে নাহিদা শিকার হন দিয়ানা বাইগ। শেষ উইকেটে সিদরাকে সঙ্গ দেন সাদিয়া ইকবাল। ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে ১৪৩ বল মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন সিদরা।
এর আগে সিরিজের প্রথমে ম্যাচে ৫ উইকেট হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে বোলারদের দারুণ নৈপুণ্যে ১৬৯ রানের টার্গেট দিয়ে পাকিস্তানকে ১৬৯ রানেই আটকে দিয়েছিল টাইগ্রেসরা। এরপর সুপার ওভারে নিগার সুলতানার জ্যোতির বীরত্বে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টাইগ্রেসদের মিশন টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডে সিরিজ জয়। তাই শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া ভিন্ন কোনো ভাবনা নেই বাংলাদেশের অধিনায়ক জ্যোতির।
আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি বলেন, ‘ড্রয়ের দিকে চিন্তা-ভাবনা নেই। আমাদের হাতে এখনও বড় সম্ভাবনা আছে সিরিজটা জেতার। সবকিছু নির্ভর করছে ইতিবাচক ক্রিকেটের ওপর। সিরিজটা জিততে পারলে আমাদের জন্য বড় অর্জন হবে।’




