
যেকোনো মূল্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিততে চায় বাংলাদেশ। যে কারণে সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরেই হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে ছুটে গেছেন টাইগারদের হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। সেখানে গিয়েই কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষটিতে ব্ল্যাক-ক্যাপদের আটকাতে উইকেট নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আগামী বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সিরিজের শেষ টেস্টে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজেরা।
তবে মিরপুরে তাদের দুজনের মধ্যে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। প্রথম টেস্টে এগিয়ে থাকায় শান্তদের সামনে সুযোগ ঘরের মাঠে কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করার। তাই মিরপুরের উইকেটের চরিত্র কেমন হবে, তা নিয়েই হয়তো এই দুই লঙ্কানের আলোচনা হয়েছে।
তবে লঙ্কান কোচের এবারের বাংলাদেশ অধ্যায় নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। ফল পেতে বরাবরই শর্টকাট পন্থা অবলম্বন করে থাকেন তিনি। এতে খেলার কোয়ালিটি নষ্ট হলেও তার কিছুই আসে-যায় না। যদিও তার কৌশলের মারপ্যাঁচেই মিরপুরে নাকানি-চুবানি খেয়েছে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো বড় দল। আগের এই দুই সিরিজ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য থাকলেও সিলেটে টাইগাররা যা করেছেন, তাতে সমালোচনার কোনো সুযোগ নেই।
চলতি বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ শতভাগ সফল। আয়ারল্যান্ডের পর আফগানিস্তানের সঙ্গেও জিতেছে সাকিব-শান্তরা। তবে নতুন করে ভাবাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়। কেননা, স্পোর্টিং উইকেটেই মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন টাইগার শিবির। তাই মিরপুরে একই ধরনের উইকেট নাকি আবারও পুরোনো কৌশল বেছে নেবেন হাথুরুসিংহে? গামিনির সঙ্গে হাথুরুর আলাপচারিতায় সেই প্রশ্নই উঠেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সিরিজ জয়ের জন্যে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে স্লো ও লো উইকেট বানানো হতে পারে। যদিও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিলেটের চেয়েও মিরপুরে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট বানালে ভালো হবে।
বিকেএসপির সাবেক ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিমের ভাষ্য, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভালো চাইলে, টেস্ট ক্রিকেটারদের এগিয়ে নিতে হলে ভালো উইকেটে খেলতে হবে। আমি মনে করি, মিরপুরের উইকেট ব্যাটিংবান্ধব হলে ভালো। ব্যাটারদের তাতে একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে। টেস্ট ম্যাচ হারলেও পরীক্ষা হওয়া উচিত। কারণ, একটি দল চাপের মুখে খেলে বড় মঞ্চের জন্য তৈরি হয়।
এদিকে পুরোপুরি ব্যাটিংবান্ধব হবে না মিরপুরের কালো পিচ। তবে কিছুটা যত্ন নিলেই তা স্পোর্টিং উইকেট হতে পারে। যদিও বিষয়টি শতভাগ নির্ভর করছে হাথুরুর চাওয়ার ওপর। ভবিষ্যৎ নাকি বর্তমান, তিনি কি ভাবছেন; তাও চিন্তার বিষয়।
যদিও ক্রিকেট বিশ্লেষক বলছেন, ওয়ানডে বিশ্বমঞ্চে বাজে পারফরম্যান্সের পর নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে স্লো ও লো উইকেট বানানোর নির্দেশ দিতে পারেন লঙ্কান এই মাইন্ড-মাস্টার।




